তাজরীন ফ্যাশনসে আগুন লাগার সাত বছর আজ
ঢাকার আশুলিয়ার তাজরীন ফ্যাশনসে আগুন লাগার সাত বছর আজ ২৪ নভেম্বর রোববার। ২০১২ সালের এই দিনে আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন ফ্যাশনসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১১৩ শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। এই ট্র্যাজেডিকে হৃদয় থেকে ভুলতে পারেননি অগ্নিকাণ্ডে নিহত ও আহত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা।
সাত বছর উপলক্ষে আজ রোববার সকালে তাজরীন ফ্যাশনসের সামনে অস্থায়ী বেদিতে ফুল দিয়ে নিহতদের স্মরণ করেন বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মী ও হতাহত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা। পরে তাঁরা তাজরীন ফ্যাশনসের সামনে মানববন্ধন করেন।
মানববন্ধন থেকে এ সময় শ্রমিক সংগঠনের নেতারা অবিলম্বে তাজরীন ফ্যাশনসের মালিক দেলোয়ারের সর্বোচ্চ শাস্তি এবং নিহত ও আহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।
এদিকে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তাজরীন ফ্যাশনসের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন ফ্যাশনসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ওই অগ্নিকাণ্ডে ১১২ জন নিহত এবং দুই শতাধিক শ্রমিক আহত হন।
সাক্ষী না আসায় আটকে গেছে বিচারকাজ
এদিকে, তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডের সাত বছর অতিক্রম করলেও এখন পর্যন্ত এ ঘটনার কোনো বিচার হয়নি। ঘটনার পরের দিনই প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দেলোয়ার হোসেনসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। কিন্তু এত দিনেও সাক্ষী না আসায় আটকে আছে এর বিচারকাজ।
বর্তমানে মামলাটি ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলার বিচার চলছে। ২০১৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ এস এম কুদ্দুস জামান এ মামলার ১৩ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরুর আদেশ দেন। এরপর চার বছরে ১০৪ সাক্ষীর মধ্যে সাক্ষ্য দিয়েছেন মাত্র আটজন। বাকি সাক্ষীরা না আসায় মামলায় আসামিরা হাজিরা দিয়েই পার পেয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) মুর্শিদ উদ্দিন খান সাংবাদিকদের বলেন, সাক্ষীদের বর্তমান ঠিকানায় অধিকাংশকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। যেসব সাক্ষীর স্থায়ী ঠিকানা দেওয়া হয়েছে, তাঁরা সঠিকভাবে আদালতের সমন পাচ্ছেন না। এ কারণে সাক্ষীরা আদালতে আসছেন না। আর সাক্ষী না এলে মামলার কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।
পিপি বলেন, ‘অভিযোগপত্র দেখে অনেক সাক্ষীর মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করে তাঁদের কল করেছি। তাঁরা তখন আমাদের বলেন, আমরা তো আদালতের দেওয়া সমন পাইনি। কীভাবে আদালতে উপস্থিত হব? পুলিশের উচিত সাক্ষীদের আদালতে হাজির করার বিষয় আরো সচেতন হওয়া। সাক্ষীরা আদালতে উপস্থিত হলে আলোচিত মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।’
আসামিপক্ষের আইনজীবী এ টি এম গোলাম গাউস সাংবাদিকদের বলেন, দুই বছর ধরে মামলায় কোনো সাক্ষী আসছে না। সাক্ষীদের আদালতে হাজিরের দায়িত্ব রাষ্ট্রের।
আইনজীবী আরো বলেন, ‘সাক্ষী হাজির না হওয়ায় মামলাটি গতি পাচ্ছে না। আমরা চাই, মামলাটি যেন দ্রুত শেষ হয়।’
নথি থেকে জানা যায়, ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন ফ্যাশনসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ওই অগ্নিকাণ্ডে ১১২ জন নিহত এবং দুই শতাধিক শ্রমিক আহত হন।
ঘটনার পরের দিন আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খায়রুল ইসলাম অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় নাশকতার পাশাপাশি অবহেলাজনিত মৃত্যুর দণ্ডবিধির ৩০৪(ক) ধারা যুক্ত করা হয়।
পরবর্তী সময়ে একই বছরের ২২ ডিসেম্বর ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক এ কে এম মহসিনুজ্জামান খান তাজরীনের চেয়ারম্যান ও এমডিসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
অভিযোগপত্রের বাকি আসামিরা হলেন—তাজরীন ফ্যাশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, চেয়ারম্যান মাহমুদা আকতার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা দুলাল, স্টোর ইনচার্জ হামিদুল ইসলাম, আনিসুর রহমান, সিকিউরিটি গার্ড রানা ওরফে আনারুল, সিকিউরিটি সুপারভাইজার আল-আমিন, স্টোর ইনচার্জ আল-আমিন ও লোডার শামীম মিয়া।

জাহিদুর রহমান