যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি নারী হত্যা, পরিবারে শোক
ভাগনির বিয়েতে অংশ নিতে প্রায় এক বছর আগে দেশে এসেছিলেন নিলুফার ইয়াসমিন (৪৮)। তখন লক্ষ্মীপুরের বাড়িতে এসে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করে যান এবং সেখানেই তাকে দাফন করার ইচ্ছার কথা জানান। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ায় তার পরিবার এখন শোকাহত।
নিহতের ভাই ও লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছালেহ উদ্দিন মানিক জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইট জটিলতায় মরদেহ দেশে আনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে সুযোগ পেলে অবশ্যই ইয়াসমিনের মরদেহ বাংলাদেশে আনা হবে।
ছালেহ উদ্দিন মানিক আরও জানান, ঘটনার খবর প্রথমে পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে জানতে পারেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ভাই সোহরাব হোসেন বাবুল বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বোনের মৃত্যুর খবর শুনে তিনি ভেঙে পড়েছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে ইয়াসমিন যুক্তরাষ্ট্রে যান। তার স্বামী জাহাঙ্গীর আলম ও দুই মেয়ে সেখানেই বসবাস করছেন।
হত্যার কারণ সম্পর্কে জানা গেছে, এক ব্যক্তি এটিএম কার্ড থেকে টাকা তুলতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পরে গ্যাস স্টেশনে ভাঙচুর শুরু করলে ইয়াসমিন প্রতিবাদ করেন। এ সময় তাকে মারধর করে হত্যা করা হয়।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট মায়ার্স শহরে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকালে ডক্টর মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র বুলেভার্ডে অবস্থিত একটি গ্যাস স্টেশনে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত রোলবার্ট জোয়াচিনকে (৪০) ঘটনার অল্প সময়ের মধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আবুল কালাম আজাদ, লক্ষ্মীপুর