ট্রাক থেকে ১২ টন চকলেট উধাও, চোরের রুচির প্রশংসা কিটক্যাটের
ইউরোপের রাস্তায় এক অভিনব চুরির ঘটনা ঘটেছে। ট্রাক থেকে ১২ টন ওজনের ৪ লাখ ১৩ হাজার ৭৯৩টি কিটক্যাট চকোলেট বার চুরি হয়েছে।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানি নেসলের তৈরি এই চকোলেটগুলো ইতালির একটি কারখানা থেকে পোল্যান্ডে পাঠানোর সময় মাঝপথ থেকে গায়েব হয়ে যায়। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে কিটক্যাট কর্তৃপক্ষ এই চুরির তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর সিএনএনের।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চকোলেটবাহী ট্রাকটি নির্দিষ্ট রুট দিয়ে যাওয়ার সময় নিখোঁজ হয়। বর্তমানে ট্রাক ও ভেতরে থাকা পণ্যগুলোর কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।
কিটক্যাট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন ও সাপ্লাই চেইন পার্টনারদের সহযোগিতায় নিবিড়ভাবে তদন্ত চলছে। প্রতিটি চকোলেট বারের প্যাকেটে থাকা ‘ব্যাচ নম্বর’ দেখে এগুলো শনাক্ত করা সম্ভব। কোম্পানিটি সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করেছে, সন্দেহজনক কোনো চকোলেট বা এই ব্যাচ নম্বরের মিল পেলে যেন দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।
কিটক্যাটের একজন মুখপাত্র কৌতুক করে বলেন, আমরা সবসময় মানুষকে কিটক্যাট নিয়ে ‘বিরতি’ (হ্যাভ এ ব্রেক) নিতে উৎসাহিত করি। কিন্তু মনে হচ্ছে চোরেরা এই বার্তাকে আক্ষরিক অর্থে গ্রহণ করেছে। ১২ টনের বেশি চকোলেট নিয়ে ‘পলায়ন’ (মেড এ ব্রেক) করেছে। তিনি আরও যোগ করেন, ‘অপরাধীদের পছন্দের প্রশংসা করলেও বাস্তব সত্য হলো, কার্গো চুরি বর্তমানে সব ধরণের ব্যবসার জন্য একটি ক্রমবর্ধমান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মেরিন ইন্স্যুরেন্স এবং ট্রান্সপোর্টেড অ্যাসেট প্রোটেকশন অ্যাসোসিয়েশনের একটি যৌথ প্রতিবেদনের বরাতে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে কার্গো চুরি এবং জালিয়াতি আরও আধুনিক ও সংগঠিত হয়ে উঠছে। তবে কিটক্যাট আশ্বস্ত করেছে, এই চুরির কারণে বাজারে চকোলেটের সরবরাহে কোনো ঘাটতি হবে না। ভোক্তাদের নিরাপত্তার বিষয়েও কোনো উদ্বেগের কারণ নেই।
উল্লেখ্য, ইউরোপে চকোলেট চুরির ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে যুক্তরাজ্যে ২ লাখ ক্যাডবেরি ক্রিম এগ চুরির দায়ে এক ব্যক্তিকে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ইউরোপের বাজারে জনপ্রিয় এই চকোলেট চুরির ঘটনাটি বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক