আ.লীগের দাবি, হামলাকারীরা বিএনপি-জামায়াতের
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জামিয়া ইউনুসিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্যবসায়ী ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষ এবং মাদ্রাসাছাত্র নিহতের জের ধরে গতকাল মঙ্গলবার শহরজুড়ে ব্যাপক তাণ্ডবের ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে আওয়ামী লীগ। সরকার সমর্থক নেতাদের দাবি, হামলাকারীরা বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
আজ বুধবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ এ দাবি জানান।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার হত্যাকাণ্ড, হামলা, ভাঙচুরের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করে বলেন, এ ঘটনায় প্রায় ৭০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হামলাকারীরা বিএনপি-জামায়াত ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী লোক।
এ সময় পৌর মেয়র মো. হেলাল উদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি তাজ মো. ইয়াছিন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কালাম ভূঁইয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শহরের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।
গত সোমবার সন্ধ্যায় জেলা পরিষদ মার্কেটের বিজয় টেলিকমের মালিক রনির সঙ্গে শহরের বড় মাদ্রাসার এক ছাত্রের বাকবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে মাদ্রাসাছাত্রদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষ বাধে। পরে এতে ছাত্রলীগ ও এলাকাবাসী যোগ দেয়। এতে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। দফায় দফায় সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। চার ঘণ্টা পর রাত ১১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
মঙ্গলবার ভোররাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় মাদ্রাসার ছাত্র হাফেজ মাসুদুর রহমানের (২২)। তাঁর গ্রামের বাড়ি নবীনগর উপজেলার সামন্তঘর গ্রামে।
সোমবার রাতে পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মাদ্রাসায় হামলা চালিয়ে মাসুদুর রহমানকে হত্যা করেন বলে অভিযোগ করে মাদ্রাসার ছাত্ররা। এ অভিযোগ তুলে ছাত্ররা মঙ্গলবার ভোরে মাদ্রাসা থেকে বেরিয়ে শহরে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। মাদ্রাসাছাত্র নিহতের ঘটনায় বুধবার সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেয় আন্দোলনকারীরা। তারা শহরের বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখে। তারা বেশ কিছু স্থানে ভাঙচুর করে বলেও জানায় প্রত্যক্ষদর্শীরা।
এ সময়ে শহরের টিএ রোড ও ব্রিজের মোড় এলাকায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেই দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশন অবরোধ করে বিক্ষোভকারীরা। সেখানে দফায় দফায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। রেলস্টেশন অবরোধ করে সেখানে হামলা ও ভাঙচুর চালায় ছাত্ররা। তারা রেললাইনের বিভিন্ন স্থানে আগুন দেয়। এতে ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম ও সিলেটের রেল যোগাযোগ প্রায় নয় ঘণ্টা বন্ধ থাকে। এ ছাড়া শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা হয়।
সোমবারের সংঘর্ষের ঘটনার পর রাতেই পুলিশ বাদী হয়ে দুটি মামলা করে। মামলার অধিকাংশ আসামিই বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মী বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে।

শিহাব উদ্দিন বিপু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া