আন্দোলন অব্যাহত থাকবে : খালেদা জিয়া
‘যৌক্তিক পরিণতিতে না পৌঁছা পর্যন্ত আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে’ বলে ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তিনি।
বিকেল ৪টা ৪৭ মিনিটে সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়। প্রায় ৪০ মিনিট তিনি বক্তব্য দেন। খালেদা জিয়া বলেন, ‘রাজনীতি ও ভিন্নমতকে এরা দমন করে দেশে কার্যত একদলীয় ব্যবস্থা প্রবর্তন করে ফেলেছে। সংবাদমাধ্যমকে ভয় দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণ করে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে প্রচারযন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। মানুষের সব অধিকার তারা কেড়ে নিয়েছে। এর বিরুদ্ধে লড়াই না করলে আমাদের স্বাধীনতা ব্যর্থ হয়ে যাবে। তাই আমরা আন্দোলনের ডাক দিয়েছি। জনগণের সেই গণতান্ত্রিক আন্দোলন এখন চলছে।’
বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, ‘শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ স্বাভাবিক করতে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং একের পর এক উস্কানিমূলক আচরণ করে পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটানো হচ্ছে। কাজেই যৌক্তিক পরিণতিতে না পৌঁছা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।’
‘আন্দোলনে দেশবাসী ও নেতা-কর্মীর কষ্ট ও ক্ষয়ক্ষতির কথা আমরা জানি ও বুঝি। এ সম্পর্কে সকলেই সচেতন। কেবল ক্ষমতাসীনদের কোনো বোধোদয় নেই। জনগণের দুদৃশা লাঘবের চেয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকাই তাদের কাছে বড়। সাহসিকতার সঙ্গে সবাই অংশগ্রহণ করলে এ আন্দোলন অচিরেই সফল হবে ইনশাআল্লাহ্। এই সাময়িক কষ্ট জাতির বৃহত্তর স্বার্থে স্বীকার করার জন্য আমি সকলের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।’ বলেন খালেদা জিয়া।
বিএনপির নেত্রী বলেন, এ বছর ৫ জানুয়ারি কর্মসূচির (সমাবেশ) ‘আগের রাতে আমাকে এই কার্যালয়ে বালু ও ইট বোঝাই ট্রাক, জলকামান ও সাঁজোয়া যান দিয়ে ঘিরে অবরুদ্ধ করা হয়। পুলিশ বাইরে থেকে গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয়। ৫ জানুয়ারি বিকেলে আমি সমাবেশে যোগদানের উদ্দেশে বেরুতে চাইলে বাধা দেয়া হয়। আমিসহ ভেতরে অবস্থানরত সকলের ওপর বাইরে থেকে দফায় দফায় বিষাক্ত পিপার স্প্রে ছোঁড়া হয়। প্রাণহানির আশংকা থাকায় মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এই পিপার স্প্রে ব্যবহার আমাদের দেশেও উচ্চ আদালত নিষিদ্ধ করেছেন। সেই পিপার স্প্রে প্রয়োগের কারণে আমি এবং সাংবাদিকসহ অনেকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।’
বিএনপি-প্রধান আরো বলেন, ‘প্রতিটি জনপদে আজ স্বজনহারা মানুষের কান্নার রোল। এই কান্না অত্যাচারীদের কানে পৌঁছায় না। কে কখন গুম, খুন ও ক্রসফায়ারের শিকার হবে তা নিয়ে সকলে আতঙ্কিত। শত শত তরুণকে আটক করে গুলি ও নির্যাতনে পঙ্গু করে দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যেও সারা দেশে যারা আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন আমি তাদেরকে সাধুবাদ দেই।’ বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যারা নিহত, আহত ও গুম হয়েছেন বেদনাহত চিত্তে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সমাবেদনা জানাই। আল্লাহ্র রহমতে দিন পরিবর্তন হলে আমরা অবশ্যই আপনাদের পাশে দাঁড়াবো।’
‘সংকটের স্রষ্টা শেখ হাসিনা’
খালেদা জিয়া বলেন, ‘অপরিমেয় ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত সেই দেশ আজ গভীর সংকটে। এ সংকট রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক। আর এ সংকটের স্রষ্টা আওয়ামী লীগ এবং আরো সুনির্দিষ্ট করে বলতে গেলে শেখ হাসিনা। জনগণের সম্মতি ছাড়া কারসাজির মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হয়ে সেই ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার উদগ্র বাসনা আজ সমগ্র জাতিকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘অনেক বিবাদ-বিসম্বাদের পর বাংলাদেশের প্রায় সকল রাজনৈতিক দল এই মর্মে একমত হয়েছিল যে, কোনো দলীয় সরকারের অধীনে এখানে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠানের ব্যাপারে জাতীয় ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তারই আলোকে জাতীয় সংসদে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান আমরা প্রজাতন্ত্রের সংবিধানে অন্তর্ভূক্ত করেছিলাম। এই ব্যবস্থার অধীনে কয়েকটি নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়েছে।’
বিএনপি-প্রধান বলেন, ‘ট্রায়াল এন্ড এরর’-এর মধ্য দিয়ে যে-কোনো পদ্ধতিই সংশোধিত ও পরিশোধিত হতে পারে। প্রয়োগের মধ্য দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় পরিলক্ষিত ত্রুটি-বিচ্যুতিও ঐক্যমতের ভিত্তিতেই সংশোধনের সুযোগ ছিল এবং উচিত ছিল সেটাই করা। আওয়ামী লীগ তা না করে একতরফা সিদ্ধান্তে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়। তারা দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিধান করে। শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও স্বাভাবিক পন্থায় ক্ষমতা হস্তান্তরের সব পথই প্রায় রুদ্ধ করে ফেলা হয়েছে। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের কোনো সুযোগই রাখা হয়নি। সংকটের মূল উৎস সেখানেই।’
‘সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে এটি একটি নিয়ম রক্ষার নির্বাচন। শেখ হাসিনা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে একটা সমঝোতা হলে সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নতুন নির্বাচনের অঙ্গীকারও করেছিলেন। কিন্তু যথারীতি তিনি তার সেই অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছেন। আসলে প্রতিশ্রুতি রক্ষার কোনো দৃষ্টান্ত তাদের নেই।’ যোগ করেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, ‘১৯৮৬ সালে প্রতিশ্রুতি লংঘণ করে স্বৈরাচারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিয়ে তারা আত্মস্বীকৃত জাতীয় বেঈমানে পরিণত হয়েছিলেন। ৫৭ বছর বয়সে রাজনীতি থেকে অবসর নেয়ার অঙ্গীকারও অবলীলায় ভঙ্গ করতে দেশবাসী দেখেছে। এ রকম আরো বহু উদাহরণ রয়েছে।’
বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, ‘তবুও তাদের প্রতিশ্রুতির কারণে ৫ জানুয়ারি ২০১৪-এর পর আন্দোলনের কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছিল। কিন্তু শেখ হাসিনার কথা বিশ্বাস করে আমাদের সেই সিদ্ধান্ত নেয়া যে সঠিক ছিলনা তা আমরা অচিরেই বুঝতে পারি। কারণ, আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত করার পর সারা দেশে যৌথবাহিনীর অভিযানের নামে তারা এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। বিচার বহির্ভূত হত্যা, গুম, খুন, অপহরণ ও নির্যাতনের মাধ্যমে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। বিরোধী দলমতের শত শত নেতা-কর্মীকে হত্যা ও গুম করা হয়। তাদের আত্মীয়-স্বজন ও পরিবারের সদস্যদের ওপরেও নির্যাতন চালানো হয়। রাজনীতি করার স্বাভাবিক অধিকারটুকুও কেড়ে নেয়া হয়। এত কিছু সত্ত্বেও আমরা দীর্ঘ এক বছর অপেক্ষা করেছি। বারবার আলোচনার আহ্বান জানিয়েছি। কারণ আমরা সমঝোতা ও শান্তিতে বিশ্বাসী।’
খালেদা জিয়া বলেন, ‘অতীতেও আমরা সব সময়েই রাজনীতিতে সহিষ্ণুতা,সংযম, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সমঝোতার জন্য সব সময় এগিয়ে গিয়েছি। কিন্তু তারা বরাবরই সংঘাত ও সংঘর্ষের পথ বেছে নিয়েছে।’
বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, ‘আলোচনার ভিত্তি হিসেবে আমরা ৭ দফা তুলে ধরি। কিন্তু তারা তা নাকচ করে। এর পর্যায়ে জনগনের অধিকার ফিরিয়ে আনতে আন্দোলন ছাড়া আর কোনো পথ খোলা ছিল না।’
‘বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগ’
আওয়ামী লীগ বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের বর্তমান আন্দোলনের বিষয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমরা যখনই জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করেছি, তখনই বিভ্রান্তি ছড়াবার উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ অপপ্রচারণার নোংরা পথ বেছে নিয়েছে। কখনো তারা বলেছে মুজিব হত্যার বিচার ঠেকাতে এবং কখনো বলেছে যুদ্ধপরাধীদের বিচার রোধে নাকি আমরা আন্দোলনে নেমেছি।’
‘গণবিচ্ছিন্ন শাসকগোষ্ঠী জনগণের আন্দোলনে ভীত হয়ে হত্যা-উৎপীড়নের পাশাপাশি ষড়যন্ত্র, নাশকতা ও অপপ্রচারণায় মেতে উঠেছে। তারা এখন পুরোপুরি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর নির্ভর করে টিকে থাকতে চাইছে। সেই উদ্দেশ্যে এসব বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের ভার কতিপয় দলবাজ কর্মকর্তার হাতে তুলে দিয়ে তাদের মাধ্যমে পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও আনসার বাহিনীকে বিরোধী দল ও জনগণকে নিপীড়নের হাতিয়ারে পরিণত করছে। আমরা বারবার বলেছি, আজ আবারো আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহকে আইনসম্মতভাবে কর্তব্য পালনের আহ্বান জানাচ্ছি। হত্যা, বিচার বহির্ভূত হত্যা, গুম, অপহরণ, নির্যাতন, বন্দী অবস্থায় গুলী করে পঙ্গু করা, বাড়িঘরে হামলা, পাইকারি গ্রেফতার ও মিথ্যা মামলা দায়েরের বেআইনি প্রক্রিয়া থেকে তাদেরকে দূরে থাকতে বলছি।‘ বলে বিএনপির চেয়ারপারসন।
বিএনপি নেত্রী আরো বলেন, ‘এই আওয়ামী লীগ আন্দোলনের নামে জামায়তে ইসলামী ও জাতীয় পার্টিকে সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর অচল এবং রেল স্টেশন, যানবাহন, অফিস-আদালত ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করেছে। অফিসগামী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রকাশ্য রাজপথে বিবস্ত্র করেছে। লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে মানুষ হত্যা করে লাশের ওপর নৃত্য করেছে। এসব পৈশাচিক তা-বের প্রকাশ্য নির্দেশ শেখ হাসিনা নিজে দিয়েছেন এবং এসবের বহু দালিলিক প্রমাণও রয়ে গেছে।’
রিয়াজ রহমানের ওপর গুলি, রুহুল করীর রিজভী আহমেদের নামে মামলা দিয়ে নির্যাতন করাসময় বিভিন্ন প্রসঙ্গে কথা বলেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, ‘বিনাভোটে ক্ষমতায় আসা শাসকদের কাছে জনগণের ভোটের যে কোনো মূল্য নেই, তা তারা প্রমাণ করেছে।’
সালাহউদ্দিন আহমেদের মুক্তি দাবি
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদকে গ্রেপ্তার করে তিনদিন পরেও সরকার স্বীকার করেনি বলে অভিযোগ করেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত সালাহউদ্দিন আহমেদের কোনো হদিস নেই। অবিলম্বে সালাহউদ্দিন আহমেদকে মুক্তির দাবি জানান তিনি।
নাগরিক ঐক্যের আহ্বয়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার সময়ও সরকার এই নাটক করেছিল বলে মন্তব্য করেন খালেদা জিয়া।
শান্তিপূর্ণ মিছিলেও বাধা
বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপি চেয়ারপরসন। তিনি বলেন, এখন চলছে বিরোধীদলের বিরুদ্ধে একতরফা অপপ্রচার। বিনা তদন্তে বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হচ্ছে। তাদের নামে ক্রমাগত অপপ্রচার করা হচ্ছে। আমাদের অফিসগুলো তালাবদ্ধ করা হয়েছে। কাউকে শান্তিপূর্ণ মিছিল করতে দেওয়া হচ্ছে না। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে দেখামাত্র গুলি করার বেআইনী নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এসবের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতিকে আরো নৈরাজ্যকর করা হচ্ছে।
অথচ সরকার দলের অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের ধরেও ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন খালেদা জিয়া।
‘আমরা তাদের বরখাস্ত করিনি’
২০-দলীয় জোটের নেত্রী সংবাদ সম্মেলনে আরো বলেন, ‘জনগণের বিপুল ভোটে নির্বাচিত বিরোধী দল সমর্থক মেয়রদের মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করে দলীয় লোক বসানের জন্য তাদের বরখাস্ত করা হচ্ছে। বিনা ভোটে ক্ষমতায় আসা শাসকদের কাছে জনগণের ভোটের যে কোনো মূল্য নেই তা তারা হাতে নাতে প্রমান করছে। অথচ আমাদের আমলে আওয়ামী লীগের নেতা হিসাবে ঢাকার মেয়র তথাকথিত ‘জনতার মঞ্চ’ গঠন করে রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন।’
‘একই দলের নেতা হিসাবে চট্টগ্রামের মেয়র সমুদ্র বন্দর অচল করায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। আমরা তাদের বরখাস্ত করিনি।’ উল্লেখ করেন খালেদা জিয়া।
‘সরকারই পরিকল্পিত বোমা হামলার সঙ্গে জড়িত’
‘জনগণের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়া এই সরকারই পরিকল্পিতভাবে বোমা হামলার সঙ্গে জড়িত’ বলে দাবি করেন খালেদা জিয়া। নিরাপরাধ মানুষের জীবনকে যারা রাজনৈতিক পণ্যে পরিণত করে তাদের ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার নেই বলেও জানান তিনি।
খালেদা জিয়া বলেন, সংকট সমাধানের কোনো উদ্যোগ নেই তাদের। তারা সংকটকে দীর্ঘায়িত করতে চান। জনগণের এই গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে জঙ্গি তৎপরতা বলে দেশে বিদেশে অপপ্রচার চালাচ্ছে সরকার। এর ফল কখনও ভালো হতে পারে না।
বিএনপি ও ২০ দল নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ। জনগনের জীবননাশের আন্দোলন আমাদের নয়।’
খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমি আশা করি ক্ষমতাসীনদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। তারা সমঝোতার পথে আসবে।’
‘আন্দোলনে জনগণ শরিক হয়েছে’
বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের নিচতলায় এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ জন্য দুপুরের পর থেকেই গণমাধ্যমকর্মীরা ভিড় করতে থাকেন সেখানে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করার পর যখন চলে যাচ্ছিলেন খালেদা জিয়া তখন উপস্থিত সাংবাদিকরা বিভিন্ন প্রশ্ন করতে থাকেন। তবে এসব প্রশ্নের উত্তর আজ দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি চলে যাওয়ার পথে শুধু এই টুকু বলে যান, ‘এই আন্দোলনে জনগন শরিক হয়েছে। জনগণের সমর্থন পেয়েছি।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল কাইয়ূম, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারি শিমুল বিশ্বাস।
গত ৫ জানুয়ারি পল্টনের মহাসমাবেশে যোগ দিতে না পেরে অবরুদ্ধ অবস্থায় খালেদা জিয়া সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন।
যে কোনো অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে কার্যালয়ের বাইরে পুলিশ অবস্থান করছে। সেজন্য রাস্তার দুই পাশে ব্যারিকেড দিয়ে রাখে পুলিশ।

এমএ নোমান