সম্মাননা পেল বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ক্রিকেট দলসহ তিন নারী
বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দল ‘খেলাধুলায় নারীর অবস্থা ও অবস্থান’-এ বিষয়ে বিশেষ সম্মাননা পেয়েছে। এ ছাড়া সমাজ পরিবর্তনের অংশ হিসেবে নারীর ক্ষমতায়ন, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া তিন নারীকেও স্বীকৃতি স্বরূপ ‘নাসরীন স্মৃতি পদক ২০১৬’ প্রদান করেছে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ।
আজ রোববার ঢাকার ছায়ানট অডিটরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেয় অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ। অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার, অধিকারবঞ্চিত ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষায় তৎপর, সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে অবিরাম কাজ করে যাওয়া মানুষের কাজের স্বীকৃতি ও উৎসাহের জন্য ২০০৭ সাল থেকে এই পুরস্কার দিচ্ছে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ।
চলতি বছর চারটি বিষয়ে সম্মাননা দেওয়া হয়। সমাজ পরিবর্তনে কর্মজয়ী প্রতিবন্ধী তরুণ/যুবা বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন পাবনার মোছা. মর্জিনা। ‘রাজনীতিতে প্রান্তিক নারী’ বিষয়ে সম্মাননা পেয়েছেন দিনাজপুরের রাজিয়া সুলতানা। ‘যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো’ বিষয়ে সম্মাননা পেয়েছেন রংপুরের মরিয়ম বেগম। ‘খেলাধুলায় নারীর অবস্থা ও অবস্থান’ বিষয়ে বিশেষ সম্মাননা পেয়েছেন বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দল।
জাতীয় পর্যায়ে সম্মাননা ও কাজের স্বীকৃতি পেয়ে মর্জিনা বলেন, ‘এবারই প্রথম ঢাকায় আসলাম। এই পুরস্কার না পেলে হয়তো কখনো আসা হতো না ঢাকায়। প্রতিবন্ধী হওয়ার করণে জীবনের শুরু থেকে নানা সমস্যায় পড়েছি। তারপরও লেখাপড়া ছাড়িনি। কাজ করেছি পিছিয়ে পড়া শিশুদের শিক্ষা দিতে।’
রাজিয়া সুলতানা বলেন, ‘ছোটবেলায় অবহেলিত ছিলাম। নিজের আর্থিক ও মানসিক কষ্টের সঙ্গে যোগ হয় মানুষের কষ্ট। তখন থেকেই মানুষের জন্য কাজ করার চেষ্টা ছিল। তাই রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া। এবার আমি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি। এই পুরস্কার আমার দায়িত্ব আরো বাড়িয়ে দিল। আমি আপ্লুত, অভিভূত।’
মরিয়ম বেগম বলেন, ‘আমি নারীর বঞ্চনা, অধিকার, নিরাপত্তার জন্য কাজ করছি। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের নিয়ে কাজ করতে গিয়ে অনেক সমস্যায় পড়েছি। তবে ভালো লাগা হলো, মানুষের জন্য কিছু করতে পারছি। তার স্বীকৃতি আজ পেয়ে আমি সত্যিই আনন্দিত।’
বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক জাহানারা আলম বলেন, ‘একসময় বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলোয়াড় বলতে শুধু পুরুষদের কথা বোঝাত। আমরা সেই ধারণার পরিবর্তন আনতে পেরেছি। এই পথচলাটা সহজ ছিল না। আমাদের দেখে অনেক নারী আজ উৎসাহিত হচ্ছেন। সমাজের নানা ক্ষেত্রে নারীদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। যারা তাদের জন্য কাজ করছে, ওই ব্যক্তিদের এই ধরনের পুরস্কার দেওয়া উচিত।’
অনুষ্ঠানে অ্যাকশনএইড ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য মনসুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের সাবেক কান্ট্রি ডিরেক্টর নাসরিন হক সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কাজ করতেন। এ জন্য পুরস্কারটা তাঁদেরই দেওয়া হয়, যাঁরা পিছিয়ে পড়া মানুষদের নিয়ে কাজ করেন।’
নিজেরা করি-এর নির্বাহী পরিচালক খুশী কবির বলেন, ‘নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় একজন কাণ্ডারি ছিলেন নাসরিন পারভিন হক। আজ যাঁরা পুরস্কার পেলেন তাঁরা সত্যিই সমাজের উন্নয়নে, নারীর অধিকারের জন্য কাজ করছেন। এই পুরস্কার এই মানুষদের কাজকে বেগবান করবে।’
অ্যাকশনএইড ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ কার্যনির্বাহী পর্ষদের সভাপতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হাফিজউদ্দিন খান বলেন, ‘সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে খারাপ রাজনীতি ঢুকে গেছে। ঘুণ ধরেছে সমাজে। এই ঘুণে ধরা সমাজের জন্য কাজ করছেন এবারের পুরস্কারপ্রাপ্তরা।’
অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, ‘আজকে আমাদের নারীরা নানাভাবে, নানা কারণে নির্যাতিত ও অবহেলিত। এই জীবন সংগ্রামের মধ্যেও মরিয়মরা সমাজ পরিবর্তন করছেন। জাহানারারা সমাজকে আলোর পথ দেখাচ্ছেন। আমরা চাই এই মানুষের সংখ্যা বাড়ুক। দূর হোক সমাজের অনিয়ম।’
অনুষ্ঠানের শুরুতে পুরস্কারপ্রাপ্তদের সংক্ষিপ্ত কর্মজীবন তুলে ধরা হয়। সমাজ পরিবর্তনে কর্মজয়ী প্রতিবন্ধী তরুণ/যুবা বিভাগে পুরস্কার পাওয়া মোছা. মর্জিনার বাড়ি পাবনার বেড়া উপজেলার জয়নগর গ্রামে। শারীরিক প্রতিবন্ধী এই নারী এখন বিএ পাস করেছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক