ছাত্রলীগের অনুষ্ঠানে না যাওয়ায় শিক্ষার্থীকে মারধর
অনুষ্ঠানে না যাওয়ায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। আজ শুক্রবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ মখদুম হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
মারধরের শিকার ফিরোজ আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি শাহ মখদুম হলের ৩৩৭ নম্বর কক্ষে থাকেন। আর অভিযোগ উঠেছে শাহ মখদুম হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান কিরণের বিরুদ্ধে।
জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ কলাভবনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান, অধ্যাপক ড. আবদুল খালেক প্রমুখ।
মারধরের শিকার ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘আমাদের ক্লাস শেষ। অল্প কয়েকদিন পরই ফাইনাল পরীক্ষা। এখন দু-একটা টিউটেরিয়াল চলছে। আগামীকাল শনিবার আমার টিউটেরিয়াল পরীক্ষা আছে। সে জন্য আমার এক বন্ধু শিট নিতে বিকেলে আমার কাছে আসে। শিট ফটোকপি করে মূল কপি নিয়ে আসার জন্য লুঙ্গি পরেই আমি হলের সামনে ফটোস্ট্যাটের দোকানে যাই। ওই সময় ফটোকপির দোকান বন্ধ থাকায় আমরা হালকা নাশতা করছিলাম। এমন সময় ছাত্রলীগের কামরুজ্জামান কিরণ এসে আমাকে জিজ্ঞাসা করে, আমি এই হলের শিক্ষার্থী কি না। তখন হ্যাঁ বললে, অনুষ্ঠানে যেতে হবে সে জন্য সে আমাকে প্যান্ট পরে আসতে বলে।’
‘কিন্তু আমাদের নাশতা করা শেষ হলেও ফটোকপির দোকান তখনো খোলেনি। তখন আমার বন্ধু বলে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেডিয়ামের ওখান থেকে ফটোকপি করে সে মূলগুলো দিয়ে যাচ্ছে। তাই আমি সেখানেই অপেক্ষা করছিলাম। এমন সময় কিরণ এসে আমাকে এতক্ষণেও আসিনি কেন তা অত্যন্ত রুক্ষভাবে জানতে চায়। পরীক্ষার কারণ বলার পর, সে আমাকে সবার সামনে গালে থাপ্পড় মারে। কোন বিভাগ, বর্ষে পড়ি সেটা জানতে চায়। বলার পর আমাকে জিজ্ঞাসা করে, তাকে আমি চিনি কি না। আমি না বললে, সে আমাকে আবার মারে। সেখানে তারা অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য বেশকিছু নেতাকর্মী উপস্থিত ছিল’, যোগ করেন ফিরোজ আহমেদ।
এ বিষয়ে কথা বলতে কামরুজ্জামান কিরণকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রাঞ্জু বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। কিরণের সঙ্গে ওই ছেলেটা খারাপ ব্যবহার করেছে। কিরণ বলেছে, তুমি আমাকে চেন? ওই ছেলে বলে, আমি চিনি না। এ রকম কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে এসে এ ঘটনা ঘটেছে। এখন আমরা অনুষ্ঠানে আছি। অনুষ্ঠান শেষে বিষয়টা মীমাংসা করব।’

রাবি সংবাদদাতা