রাজবাড়ীতে গণপিটুনিতে নিহতের ঘটনায় সরকারের বিবৃতি
রাজবাড়ীর পাংশায় গতকাল বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাতে সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে। পুলিশের দেওয়া তথ্য ও প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, এই ঘটনাটি কোনোভাবেই সাম্প্রদায়িক হামলা নয়; বরং চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে সৃষ্ট একটি সহিংস পরিস্থিতি।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, নিহত ব্যক্তি অমৃত মন্ডল ওরফে সম্রাট একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিলেন। তিনি এলাকায় চাঁদা আদায়ের উদ্দেশে উপস্থিত হলে বিক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতার সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হন এবং এক পর্যায়ে প্রাণ হারান।
উল্লেখ্য, অমৃত মন্ডল ২০২৩ সালে দায়ের করা একটি হত্যা মামলা ও চাঁদাবাজির মামলাসহ একাধিক গুরুতর মামলার আসামি ছিলেন। এসব মামলায় তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সম্রাটের সহযোগী সেলিমকে একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি পাইপগানসহ আটক করেছে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইতোমধ্যে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সরকার এই ঘটনার কঠোর নিন্দা জানিয়ে স্পষ্ট করেছে, যেকোনো ধরনের আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড, গণপিটুনি বা সহিংসতা সরকার কোনোভাবেই সমর্থন করে না। এ ঘটনায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ বিষয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
সরকার গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে, একটি স্বার্থান্বেষী মহল নিহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয়কে ব্যবহার করে ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক হামলা হিসেবে উপস্থাপনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সরকার একে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসদুদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে অভিহিত করেছে। এ ধরনের অপপ্রচার সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ সরকার সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল আচরণ করার এবং বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে। বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ এবং এ দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সরকার।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক