দিনাজপুরে বৃষ্টির মতো ঝরছে কুয়াশা, তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির ঘরে
হিমালয়ের কোলঘেঁষা উত্তরের জেলা দিনাজপুরে শীত যেন প্রতিদিনই নতুন করে জানান দিচ্ছে তার উপস্থিতি। জানুয়ারির শুরুতেই কনকনে ঠান্ডা আর হিমেল হাওয়ার দাপটে স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। পৌষের মাঝামাঝি সময় থেকে উত্তরাঞ্চলে থিতু হওয়া এই শীতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঘন কুয়াশা, যা ভোরের পর থেকে ঝরছে বৃষ্টির মতো। চারপাশ ঢেকে যাচ্ছে সাদা চাদরে, দৃষ্টিসীমা কমে আসছে মুহূর্তেই। মৃদু শৈতপ্রবাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকা এই ঠান্ডা শিশু, বৃদ্ধ ও শ্রমজীবী মানুষের জীবনে ডেকে এনেছে চরম ভোগান্তি।
আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভোরের আগেই দিনাজপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা ঘন কুয়াশা ও কনকনে শীতে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। তীব্র ঠান্ডার কারণে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের না হওয়ায় জনজীবন অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। সড়ক ও হাটবাজারে মানুষের উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত কম। বিশেষ করে খানসামা ও বীরগঞ্জ উপজেলায় শীতের তীব্রতা তুলনামূলক বেশি অনুভূত হওয়ায় দিনমজুর ও রিকশাচালকেরা কাজে যেতে পারছেন না। ফলে এসব শ্রমজীবী মানুষের দৈনন্দিন আয়ে পড়েছে বিরূপ প্রভাব, বেড়েছে তাদের দুর্ভোগ।
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, আজ সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল প্রায় ৯৪ শতাংশ, ফলে ঠান্ডার তীব্রতা আরও বেড়ে গিয়ে শীতের অনুভূতি বেশি প্রকাশ পাচ্ছে।
দিনমজুর রাহানুর ইসলাম বলেন, ‘এত তীব্র ঠান্ডায় কাজ করতে মন চায় না। আমরা দিন এনে দিন খাই—কাজ না করলে খাবার জুটবে কীভাবে?’
ভ্যানচালক ভুট্টো আলী জানান, প্রচণ্ড শীতের কারণে প্রতিদিনের কাজ করতে গিয়ে তাকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এই কনকনে ঠান্ডায় ভ্যান চালানো খুবই কষ্টকর। হাত-পা অবশ হয়ে আসে, ঠিকমতো ভ্যান টানাও কঠিন হয়ে পড়ে। তার ওপর শীতের কারণে রাস্তায় যাত্রীও অনেক কম, ফলে আগের মতো আয় হয় না।’ পরিবার নিয়ে তার দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে গেছে বলে জানান তিনি।
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, গত তিন দিন ধরে দিনের বেলায় সূর্যের দেখা মিললেও রাতের বেলায় ঠান্ডার তীব্রতা বেশ অনুভূত হচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমানে কাগজে-কলমে শৈত্যপ্রবাহ না থাকলেও বাস্তবে পরিস্থিতি শৈত্যপ্রবাহের চেয়েও বেশি কষ্টকর।

মাসুদ রানা, দিনাজপুর (বীরগঞ্জ-খানসামা)