হিমেল হাওয়ার দাপটে জনজীবন স্থবির, তাপমাত্রা নেমেছে ৯ ডিগ্রিতে
হিমালয়ের পাদদেশ ঘেঁষা উত্তরের জেলা দিনাজপুরে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। জানুয়ারির শুরু থেকেই কনকনে ঠান্ডা আর হিমেল হাওয়ার দাপটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। পৌষের শেষভাগে শুরু হওয়া মৃদু শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে ঘন কুয়াশা যোগ হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে চরম স্থবির করে দিয়েছে। তীব্র এই শীতের প্রকোপে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু, বৃদ্ধ ও দিনমজুর শ্রেণির মানুষ।
আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) ভোর থেকেই দিনাজপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা ঘন কুয়াশা ও কনকনে শীতে ঢেকে যায়। তীব্র ঠান্ডায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের না হওয়ায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে। সড়ক ও হাটবাজারে লোকসমাগম ছিল কম। শীতের তীব্রতা বেশি থাকায় দিনমজুর ও রিকশাচালকেরা কাজে যেতে না পারায় তাদের আয়-রোজগারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, আজ সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল প্রায় ৯০ শতাংশ, ফলে ঠান্ডার তীব্রতা আরও বেড়ে গিয়ে শীতের অনুভূতি বেশি প্রকট হয়।
আবুল কাশেম জানান, ‘তীব্র শীতের কারণে কাজ করা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে। দিনমজুর হিসেবে কাজ বন্ধ থাকলে পরিবারের খাদ্য সংস্থান নিয়েই সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়।’
অন্যদিকে আশরাফ আলী বলেন, ‘প্রচণ্ড শীত তার দৈনন্দিন কাজকে কঠিন করে তুলেছে। কনকনে ঠান্ডায় ভ্যান চালাতে গিয়ে শারীরিকভাবে দুর্বলতা অনুভব করতে হয়, হাত-পা অবস হয়ে যায়। পাশাপাশি শীতের প্রভাবে রাস্তায় যাত্রী কম থাকায় আগের মতো আয়ও হচ্ছে না। ফলে পরিবারের ভরণপোষণ নিয়ে তার উদ্বেগ আরও বেড়ে গেছে।’
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, দিনের বেলায় সূর্যের দেখা মিললেও রাতের বেলায় ঠান্ডার তীব্রতা বেশ অনুভূত হচ্ছে।

মাসুদ রানা, দিনাজপুর (বীরগঞ্জ-খানসামা)