প্রবীণ আইনজীবীকে লাঞ্ছিত, দুই তরুণ আইনজীবীর সদস্যপদ স্থগিত
রাজবাড়ী জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি, সাবেক পিপি ও বিশিষ্ট আইনগ্রন্থ লেখক প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন খানকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে দুই তরুণ আইনজীবীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান ও অ্যাডভোকেট জাহিদুর রহমান পিন্টুর সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে জেলা বার অ্যাসোসিয়েশন।
আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজবাড়ী জেলা বার অ্যাসোসিয়েশন ভবনের দ্বিতীয় তলায় এই লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন খান তার নিজ সেরেস্তায় কাজ করছিলেন। এ সময় চায়ের দাওয়াত দিয়ে তাকে নিজেদের সেরেস্তায় ডেকে নিয়ে যান আসাদুজ্জামান ও জাহিদুর রহমান। সেখানে প্রবীণ এই আইনজীবীকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
ভুক্তভোগী আইনজীবী মোসলেম উদ্দিন খান জানান, ২০১২ সালে আসাদুজ্জামান বার কাউন্সিলে তালিকাভুক্ত হলেও একটি মাদক মামলার কারণে তৎকালীন বার কমিটি তাকে সদস্যপদ দেয়নি। সেই সময় বারের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় আসাদুজ্জামান তার ওপর ক্ষোভ থেকে এই হামলা চালিয়েছেন।
তবে অভিযুক্ত অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার বড় ভাই অ্যাডভোকেট আনোয়ার হত্যার পেছনে উনার সম্পৃক্ততা আছে। আমার ভাইয়ের পাওনা ১০ লাখ টাকা উনি দেননি। আজ চা খাওয়ার সময় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে উনিই আমাকে লক্ষ্য করে ঘুষি চালান।’
ঘটনার পর পরই বিকেলে জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার হাবিবুর রহমান বাচ্চুর সভাপতিত্বে কার্যনির্বাহী পরিষদের একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে অভিযুক্ত দুই আইনজীবীর সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রাজবাড়ী জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার হাবিবুর রহমান বাচ্চু বলেন, প্রবীণ একজন আইনজীবীকে লাঞ্ছিত করার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। জরুরি সভা ডেকে রেজুলেশনের মাধ্যমে অভিযুক্ত দুই আইনজীবীর সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে।

মো. কবির হোসেন, রাজবাড়ী