শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ডিভাইসসহ আটক ১৮
দিনাজপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে ১৬ জন পরীক্ষার্থী ও দুজন প্রক্সিদাতাসহ মোট ১৮ জনকে আটক করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলের এই পরীক্ষায় জেলার ১১টি কেন্দ্র থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় আটকদের কাছ থেকে ১৬টি অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় জেলার ৪৫টি কেন্দ্রে মোট ৩৩ হাজার ৮৫৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। পরীক্ষা চলাকালে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন কেন্দ্রে তল্লাশি চালিয়ে ১৬ জনকে কানে ডিভাইস লাগানো অবস্থায় এবং দুজনকে অন্যের হয়ে পরীক্ষা দেওয়ার (প্রক্সি) সময় হাতেনাতে ধরা হয়।
আটকদের মধ্যে দিনাজপুর নূরজাহান কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্র থেকে চারজন, ক্রিসেন্ট কিন্ডারগার্টেন গার্লস হাই স্কুল থেকে দুজন, কাদের বক্স মেমোরিয়াল কলেজ (কেবিএম) থেকে দুজন এবং আরও দুজন প্রক্সিদাতা, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে একজন, কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে একজন, দিনাজপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে একজন, সরকারি মহিলা কলেজ থেকে একজন, জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে একজন, মিউনিসিপ্যাল হাই স্কুল থেকে একজন, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে একজন এবং কেরি মেমোরিয়াল হাই স্কুল কেন্দ্র থেকে একজনকে আটক করা হয়। আটকদের তাৎক্ষণিক নাম-পরিচয় প্রকাশ না করে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এস এম হাবিবুল হাসান জানান, জালিয়াতি চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করতে আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জালিয়াতির সঙ্গে যারা জড়িত, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আনোয়ার হোসেন বলেন, ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের কৌশল সম্পর্কে পুলিশের কাছে আগে থেকেই গোপন তথ্য ছিল। ফলে পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্রগুলোতে কড়া নজরদারি চালিয়ে তাদের ধরা সম্ভব হয়েছে। এই চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আটককৃত ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

মাসুদ রানা, দিনাজপুর (বীরগঞ্জ-খানসামা)