পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন ঝিনাইদহ কারাগারের ৭৯ কয়েদি
দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় ঝিনাইদহ জেলার মোট ২১ হাজার ১২১ জন ভোটার ডাকযোগে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে বন্দি ৭৯ জন কয়েদিও তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন।
ঝিনাইদহ জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, নিবন্ধিত এই ভোটারদের মধ্যে ১৪ হাজার ৫১১ জন রয়েছেন- যারা ঝিনাইদহের স্থায়ী বাসিন্দা হয়েও দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। এছাড়া বিদেশে অবস্থানরত ঝিনাইদহের প্রায় ৮৫ হাজার প্রবাসীর মধ্যে মাত্র ছয় হাজার ৫৩১ জন ভোটার হিসেবে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পেরেছেন। এই তিন শ্রেণির ভোটাররাই মূলত পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে তাদের রায় প্রদান করবেন।
সূত্র আরও জানায়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে, ঝিনাইদহ-১ আসনে চার হাজার ৬০ জন, ঝিনাইদহ-২ আসনে সাত হাজার ১৩৮ জন, ঝিনাইদহ-৩ আসনে পাঁচ হাজার ৪০৬ ও ঝিনাইদহ-৪ আসনে চার হাজার ৪৩৮ জন ভোটারকে আসনভিত্তিক ভোট দেওয়ার জন্য পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট ভোটাররা তাদের ভোট প্রধান করতে পারবেন।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোস্টাল ব্যালট ভোটার মজনুর রহমান বলেন, ‘প্রতিবারই চাকরির কারণে এলাকার বাইরে থাকায় ভোট দেওয়া সম্ভব হয়নি। এবার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে আমি সত্যিই আনন্দিত। এতে আমার মতো অনেকেই ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন।’
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) জেলা নির্বাচন অফিসার আবুল হোসেন জানান, কর্মস্থল, বিদেশ বা কারাবন্দি থাকার কারণে যারা এতদিন সরাসরি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেননি, পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতির মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। এটি নির্বাচন ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ঝিনাইদহ জেলা নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তা আলমগীর হুসাইন জানান, পোস্টাল ব্যালট ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ জানান, পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতি চালুর ফলে নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বাড়বে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)