ছাত্রদলের ঘেরাওয়ের মধ্যেই ইসির সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পোস্টাল ব্যালটে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ ও প্রশ্নবিদ্ধ বিভিন্ন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘেরাও করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
আজ রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকাল থেকে তারা এই কর্মসূচি শুরু করে। এখনও পর্যন্ত তারা এ কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে।
এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বৈঠক শুরু হয়েছে। বিকেলে পৌনে ৫টায় বৈঠকটি শুরু হয়।
বৈঠকে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদও উপস্থিত রয়েছেন।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলে রয়েছেন–বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, বিএনপির চেয়ারম্যান উপদেষ্টা কাউন্সিল সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ ও নির্বাচন কমিশন সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব মোহাম্মদ জকরিয়া। বিকেল ৫টায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকসহ কয়েকজন নির্বাচনে কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রবেশ করেছেন।
বিএনপির সহযোগী ছাত্রসংগঠনটি তিন দফা অভিযোগ জানিয়েছে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সংগঠনটির ঘেরাও কর্মসূচি চলমান রয়েছে। শুধু তাই নয়, বিক্ষোভকারীরা বলছেন, তাদের এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে তা নিষ্পত্তি না করা পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে।
সরেজমিন দেখা গেছে, নির্বাচন ভবনের সামনে বিক্ষোভকারীরা অবস্থান নিয়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এ কর্মসূচিতে অবস্থান নিয়েছে। তারা বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। তাদের ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ধরনের সদস্যসহ সেনাবাহিনী সতর্ক অবস্থায় আছে।
এর আগে কর্মসূচিতে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, আমাদের প্রধান ইস্যু ব্যালট পেপার। একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রভাব বিস্তার এই ধরনের কর্মকাণ্ড করা হয়েছে। কমিশনে প্রত্যক্ষ ইন্দনে এই ঘটনা ঘটেছে।
রাকিব আরও অভিযোগ করেন, শাহজালাল বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ঠিক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মতো একইভাবে আমাদের হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য তারা (বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন) ভূমিকা পালন করেছে।
এসময় নির্বাচন কমিশনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে বলেও জানিয়েছেন ছাত্রদল সভাপতি।
যে তিন অভিযোগ ছাত্রদলের-
১. পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সংশয় সৃষ্টি করেছে।
২. বিশেষ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ, যা কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
৩. বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও হস্তক্ষেপে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনিসংকেত।

নিজস্ব প্রতিবেদক