৬ বছরেও শনাক্ত হয়নি সাবাত হত্যায় জড়িতরা
কুমিল্লার বিষ্ণুপুর এলাকার সাদা রঙের বাড়িটিতে এখন শুধুই নিস্তব্ধতা। ছয় বছর আগে ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি গোমতী নদীর পালপাড়া সেতুর নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল এই বাড়ির সন্তান শাহাদাত আলী খান সাবাতের (৩০) মরদেহ। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আজও প্রিয় সন্তানের হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিচারহীনতার ভার বয়ে বেড়াতে বেড়াতে এখন ক্লান্ত সাবাতের পরিবার।
কোতোয়ালি মডেল থানা ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাতে নিখোঁজ হন আইটি পেশাজীবী সাবাত। নিখোঁজের পর ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সাবাতের বাবা লিয়াকত আলী খান কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর ২০২০ সালের ২ জানুয়ারি সাবাতের মরদেহ উদ্ধার হয়। এরপর সাবাতের বাবা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি করার এক সপ্তাহের মধ্যে ১২ জানুয়ারি তদন্তের দায়িত্ব পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দেওয়া হয়।
পিবিআই ২০২০ সালের ২৬ আগস্ট রাতে কুমিল্লা নগরীর ফৌজদারি এলাকা থেকে চান্দিনা উপজেলার মহারং এলাকার বাসিন্দা মো. মাজহারুল ইসলাম লিটনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। তিন মাস কারাভোগের পর লিটন জামিনে মুক্তি পান। এরপর মামলার তদন্তে আর কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
নিহত সাবাতের বড় বোন ডাক্তার শারমিন খান বলেন, এ পর্যন্ত মামলাটির তদন্ত করেছেন আটজন কর্মকর্তা, কিন্তু কেউ হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে পারেনি।
নিহত সাবাত খানের বাবা লিয়াকত আলী খান ও মা রাফিয়া আক্তার অভিযোগ করে বলেন, মামলায় একাধিকবার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হলেও কোনো ফলাফল আসেনি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে সাবাতকে গলাটিপে শ্বাসরোধ করে হত্যার স্পষ্ট তথ্য থাকলেও এখনও হত্যাকারীদের শনাক্ত করা যায়নি, যা তাদের কাছে বোধগম্য নয়। ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও প্রিয় সন্তানের হত্যার বিচার না পাওয়ায় আজও বিচারহীনতার ভার বয়ে চলেছে সাবাতের পরিবার।
মামলাটি তদন্তের দায়িত্বে রয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক আবু জাফর জানান, তিনি আগের তদন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং মামলাটি নিয়ে কাজ করছেন। তবে ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও হত্যাকারীদের শনাক্তের বিষয়ে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে পারেননি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমি চেষ্টা করছি।

মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা