নয় সদস্যের পরিবারে ৫ জনই জন্মান্ধ
নয় সদস্যের পরিবারের পাঁচজনই জন্মান্ধ। অন্ধ যুবক নূরনবী ইসলাম শহর বা গ্রামের হাট-বাজারে ঘুরে ঘুরে গান গেয়ে যা আয় করেন এবং সামান্য প্রতিবন্ধী ভাতা দিয়েই চলে এই নয় সদস্যের পরিবার। তাই মানবেতর জীবনযাপন করছে পরিবারটি।
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ভারত সীমান্তঘেঁষা দীঘলটারী গ্রামের শাংকার চওড়া এলাকার জন্মান্ধ এমদাদুল হকের (৫৭) পরিবার এটি।
এমদাদুল হকের ছেলে অন্ধ নূরনবী ইসলামের দুই বছরের শিশু সন্তান আসিফও চোখে ভালো দেখে না। ছোট্ট এই শিশুর চোখের উন্নত চিকিৎসা না হলে তাকেও হয়তো দোতারার সুরে নির্ভরশীল হতে হবে ভবিষ্যতে।
নূরনবীর বাবা এমদাদুল হকের বসত বাড়িতে গেলে তিনি জানান, জন্ম থেকে তিনি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। প্রায় তিন যুগ আগে বিয়ে করেছেন পাশের মান্নানের চৌপতি গ্রামের নুরজাহান বেগমকে (৫৩)। তার তিন ছেলে ও এক মেয়ের সবাই জন্ম থেকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েরা হলো নূরনবী ইসলাম (২৭), নুর আলম (২২), লিমন মিয়া (১৯) ও মেয়ে রেশমা বেগম (১৪)।
জন্মান্ধ এমদাদুল আরও জানান, পৈতৃক সূত্রে পাওয়া কিছু জমিজমার ওপর নির্ভর করে তিনি সংসার চালিয়ে আসছিলেন। অভাবের তাড়নায় কিছু জমি বিক্রি করে সংসারের ব্যয়ভার বহন করেছেন। প্রতিবন্ধী হওয়ায় তাদের কেউ কাজের জন্য ডাকে না। সরকারি সাহায্য বলতে বর্তমানে তারা মাসে ৮০০ টাকা করে প্রতিবন্ধী ভাতা পান।
এমদাদুল আরও জানান, তার মেয়ে রেশমা লালমনিরহাট শহরের হাড়িভাঙ্গা এলাকায় অবস্থিত বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আরডিআরএসের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী স্কুলে ব্রেইল পদ্ধতিতে পড়াশোনা করে। সে হারমোনিয়াম বাজাতে ও ভালো গান করতে পারে। তার ইচ্ছে বড়ো হয়ে সে একজন শিক্ষক হবে।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ফজলুল হকের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তর ইতোমধ্যে নুরনবীর পরিবারের ৫ সদস্যকে শনাক্ত করে প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় এনেছে। তারা চাইলে সহজ শর্তে ঋণ নিতে পাবে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে।
অন্ধ নূরনবী ইসলামের প্রতিবেশীরা সরকারের পাশাপাশি অসহায় এই পরিবারের পাশে সমাজের বৃত্তবানদের দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।

মামুনুর রশিদ, লালমনিরহাট (সদর-আদিতমারী)