দেশের মানুষ বোকা নেই যে কোনো মিথ্যাকে বিশ্বাস করবে : জামায়াত আমির
বিএনপিকে ইঙ্গিত করে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমাকে কেন্দ্র করে তারা একটি মিথ্যা ছড়ানোর চেষ্টা করেছিল। তাদের সেই মিথ্যা মিসাইল হয়ে উল্টো তাদের কপালেই পড়েছে। বাংলাদেশের মানুষ এখন আর বোকা নেই যে কোনো মিথ্যাকে বিশ্বাস করবে।
আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ সরকারি আরসি কলেজ মাঠে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে জামায়াতের আমির বলেন, যারা নিজেদের দল সামলাতে পারে না, তারা দেশ চালাবে কীভাবে? তারা নিরীহ মানুষদের নামে মামলা দিয়ে খাজনাপাতি তুলেছে। মানুষ তাদের প্রতি অতিষ্ঠ।
শফিকুর রহমান বলেন, পাকিস্তানের বৈষম্য আচরণের কারণে মুক্তিযুদ্ধের সূত্রপাত, তার মাধ্যমে আমরা পেয়েছি বাংলাদেশ। কিন্তু পৌনে চার বছর আবার শোসন-নৈরাজ্য করল আওয়ামী লীগ। এরপর বার বার ক্ষমতার হাত বদল হলেও জাতির ভাগ্যের পরিবর্তন আসেনি।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, এদেশে সবচেয়ে বড় মজলুম দল জামায়াত। বিচারিক হত্যাকাণ্ডসহ নানা নিপীড়ন হয়েছে। তবুও জনগণের স্বার্থে কথা বলা বন্ধ করিনি। জুলাই বিপ্লবের পরিবর্তনের পর আমরা কোনো নির্দোষ-নিরীহ মানুষকে হয়রানি করিনি। কিন্তু একটি বড় দলের লোক মামলা বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিতে লিপ্ত হয়ে পড়ে। যা মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। জুলাই বিপ্লবের মূল চেতনা প্রতিষ্ঠায় ১১ দলীয় জোট বদ্ধপরিকর। দুর্নীতির মূলোৎপাটন করব। আল্লাহ যদি আমাদেরকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ দেয় তাহলে সকলকে তার ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দেব। পাচার হওয়া টাকা ওদের পেট থেকে বের করে আনা হবে। কেননা অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ হবে বড় চ্যালেঞ্জ। তাছাড়া হিজলা মেহেন্দিগঞ্জের অবহেলিত জনপদের অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নেওয়া হবে।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, তুমিওতো মায়ের সন্তান, তাহলে আরেক মাকে কেন সম্মান দিতে পারো না? মায়েদের নিরাপত্তায় আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
‘এক্স’ অ্যাকাউন্ট হ্যাকড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মিসাইল ছুঁড়েছিল আমার দিকে, ফিরে সেটা তাদের কপালেই পড়েছে। সত্য কখনও চাপা থাকে না। যে রাজনীতি চাঁদাবাজ, হত্যাকারী লুণ্ঠনকারী তৈরি করে, ওই রাজনীতি আমরা চাই না। তাই পরিবর্তনের জন্য হ্যাঁ ভোট দিতে হবে। এতদিন পাহারাদারি করেছি দলের, আপনারা সুযোগ দিলে এবার দেশের পাহারাদারি করব।
বেলা ১১টায় জনসভা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও জামায়াত আমির ১ ঘণ্টা আগে সকাল ১০টায় এসে জনসভাস্থলে পৌঁছান। তবে তার আগেই জনতার ভিড়ে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় মাঠ। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা শহিদুল ইসলাম।
জনসভায় উপস্থিত ছিলেন–জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, বরিশাল অঞ্চল টীম সদস্য একেএম ফখরুদ্দিন খান রাজী, বরিশাল জেলা আমির ও বরিশাল-৪ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল জব্বার, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল-৩ আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও বরিশাল-৬ আসনের প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুন্নবী তালুকদার, বরিশাল-২ আসনের প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাস্টার আব্দুল মান্নান, বরিশাল-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা কামরুল ইসলাম খান, বরিশাল জেলা এনসিপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ মুসা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের জেলা সভাপতি মাওলানা জোবায়ের গালিব, জাগপা জেলা সভাপতি মনির হোসেন ও খেলাফত মজলিশের জেলা সহ সভাপতি রুহুল আমীন কামাল, বরিশাল মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির প্রফেসর মাহমুদ হোসাইন দুলাল, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইয়্যেদ আহমেদ এবং হিজলা মেহেন্দিগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলা আমির ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তব্য শেষে প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দেন জামায়াত আমির।

আকতার ফারুক শাহিন, বরিশাল