যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি কাল, শুল্ক কমার আশা বাণিজ্য উপদেষ্টার
বাংলাদেশি পণ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের বাড়তি ২০ শতাংশ শুল্ক কমবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি জানান, আগামীকাল সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি হলে ওই শুল্ক হার ঠিক করা হবে।
সচিবালয়ে আজ রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বশিরউদ্দীন একথা বলেন। তিনি এ মন্ত্রণালয়েরও উপদেষ্টার দায়িত্বে আছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসার পর গত বছর ২ এপ্রিল শতাধিক দেশের ওপর চড়া শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। বাংলাদেশের ওপর বাড়তি ৩৭ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা আসে। পরে দর কষাকষি করে এ হার ২০ শতাংশ নামে, যা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়। আর আগে থেকেই বাংলাদেশি পণ্যে ছিল ১৫ শতাংশ শুল্ক; সব মিলিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক রয়েছে ৩৫ শতাংশ।
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “আমরা আশা করছি যে ৯ তারিখে হতে যাওয়া চুক্তিতে আমরা চেষ্টা করছিলাম যে আরও কত কমানো যায় (শুল্ক)। কতটুকু কমবে এই মুহূর্তে আমি বলতে চাচ্ছি না বা পারছি না। আমরা আলোচনার ভিত্তিতে দেখব। শুধু যে আমরা ওভারঅল ট্যারিফ কমানোর চিন্তা করছি তা না; আমাদের প্রচেষ্টা রয়েছে যে— আমাদের যে মূল পণ্য গার্মেন্টস, সেই জায়গায় যেন আমাদের শুল্ক শূন্য হয়; আমরা সেই প্রচেষ্টায় এখনো রত রয়েছি।”
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির শর্ত ফাঁস হয়েছিল জানিয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, “৩৭ পারসেন্টের যে ট্যারিফ আমাদের উপরে ইম্পোজ হয়েছিল, যেটাকে আমরা নেগোশিয়েট করে ২০ পারসেন্টে নামিয়েছিলাম, যদি আমাদের এই চুক্তিটা প্রকাশিত না হতো আমি নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করি যে, আমরা ২০ পারসেন্টের থেকেও কম পেতাম। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা ওখানে বিব্রত হয়েছি; পৃথিবীতে একমাত্র দেশ—যেখান থেকে এই চুক্তির শর্তগুলো সারা দুনিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে। তো তার পরেও আমরা আমাদের তাৎপর্যপূর্ণভাবে আমাদের প্রতিযোগী দেশসমূহ থেকে আমরা ২০ পারসেন্টে ট্যারিফ নামিয়ে এনেছি।”
শুল্কের চাপ কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে রয়েছে—মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা কোম্পানি বোয়িংয়ের কাছে উড়োজাহাজ কেনা এবং গম, সয়াবিন তেল ও তুলা আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এবং সংলাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ৬২৬টি পণ্যে শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ। এর মধ্যে ১১০টি পণ্যের আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু তাতে ট্রাম্পের মন গলেনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহান।
ঠাকুরগাঁও প্রতিবেদকঃ পাঁচ উপজেলা নিয়ে গঠিত ঠাকুরগাঁও তিনটি সংসদীয় আসন। আসনগুলোতে ইতোমধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আমেজ বিরাজ করছে। ভোটের মাঠ চুষে বেড়াচ্ছেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), খেলাফত মজলিস, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। ভোটারদের দিচ্ছেন নানান প্রতিসসুতি। কাজ করবেন জেলার উন্নয়ন নিয়ে। দূর করবেন বেকারত্ব। তৈরি করবেন শিল্প কলকারখানা কমবে বেকারত্ব।
ঠাকুরগাঁও ১ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াত ইসলাম থেকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি, ঠাকুরগাঁও উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন ও জাতীয় পার্টি থেকে রেজাউর রাজি স্বপন চৌধুরী।
উত্তরের সিমান্তবর্তী জেলা ঠাকুরগাঁও মূলত বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানে জাতীয়তাবাদী ভোটারও বেশি। কিন্তু দেড় যুগ ধরে রাজত্ব করেছে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পাটি।
এর পেছনে ছিল প্রায় এক তৃতীয়াংশ হিন্দু ধর্মাবলম্বীর সমর্থন। তাদের জুজুর ভয় দেখিয়ে ও ভুল বুঝিয়ে স্বার্থ উদ্ধার করেছে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ। তবে জুলাই বিপ্লবে তাদের মানসিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। প্রথমদিকে গুজবে কান দিয়ে কিছু পরিবার ভারতে পালিয়ে গেলেও ধীরে ধীরে নতুন বাংলাদেশের প্রতি আস্থা রাখছে হিন্দু ও সনাতনরা। তারা এবার ভোট দিয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে জেতাতে চায় এবং নিরাপদে এ জেলায় বসবাস করতে চায়।
ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) ভিআইপি আসন হিসেবে পরিচিত। এখানে চার রাজনীতিক এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনই মন্ত্রিত্ব পেয়েছিলেন। তাদের মধ্যে অন্যতম বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দল থেকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মননোয়ন নিশ্চিত হয়েছে। যেহেতু তিনি বিএনপির মহাসচিব তাই বেশির ভাগ সময় তাবে ঢাকায় অবস্থান করতে হয়। নিজ এলাকায় তিনি বেশি সময় দিতে পারেন না। ইতোমধ্যে তার পক্ষে নানাভাবে প্রচার চালিয়ে ভোটের মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন দলটির নেতাকর্মী ও উনার স্ত্রী মেয়েসহ পরিবার সদস্যরা।
দেশের রাজনৈতিক মহলে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পরিবার। মির্জা ফখরুলের অনুপস্থিতিতে তার নির্বাচনি এলাকা ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোটের মাঠে নেমেছেন তার সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম এবং ছোট মেয়ে মির্জা শাফারুহ। তারা বিভিন্ন ইউনিয়নে নারী সমাবেশে করেছেন। হিন্দু নারী ভোটারদের নিরাপত্তা, তাদের জীবন মান উন্নয়নসহ দিচ্ছে নানান প্রতিসূতি। কারণ এ দেশটা সবার। এখানে কোন ভেদাভেদ নেই। সবার সমান অধিকার।
মির্জা ফখরুলের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম বলেন, আমি মির্জা ফখরুলের নির্বাচন এলাকার বিভিন্ন ইউনিয়নে নারী সমাবেশ করেছি। এ জেলায় এমন একজন মানুষকে পেয়েছেন যিনি কোনোদিন আপনাদের ছেড়ে যাননি। তিনি (মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর) নিজ পরিবারের মতো আপনাদের সঙ্গে থেকেছেন। আপনাদের সময় দিয়েছেন। তার বয়স হয়েছে। এবারে আপনারা তাকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে জয়ী করুন। আপনাদের হতাশ হতে হবে না। তিনি নির্বাচিত হলে এ জেলার চিত্র পাল্টে যাবে। উন্নয়ন হবে। বেকারত্ব দুর হবে। নতুন নতুন কর্মস্থানের সৃষ্টি হবে। আমি আশাবাদী এ জেলায় মির্জা ফখরুল বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন।
মির্জা ফখরুলের কন্যা মির্জা শাফারুহ বলেন, এবার সময় এসেছে পরিবর্তনের। আপনাদের ভাগ্য নির্ধারনের। আমার বাবা কতবার যে জেল খেটেছেন তার হিসাব নেই। তবুও সুখে দুঃখে সব সময় আপনাদের পাশে ছিলেন। তিনি এ জেলার মানুষদের নিয়ে কাজ করতে চায়। বেকারত্ব দূর করতে চান। তিনি নির্বাচিত হলে বন্ধ থাকা বিমানবন্দরটি পূর্ণরায় চালু হবে। কৃষিভিত্তিক ইপিজেড হবে। এককথায় ঠাকুরগাঁওয়ের ব্যাপক উন্নয়ন হবে।
ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি ও মির্জা ফখরুলে ভাই মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, আওয়ামীলীগের অনুপস্থিতিতে আসনটিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এবারও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। জীবনের শেষ নির্বাচন বলে তিনি প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁকে ঘিরে দলের নেতা-কর্মীরাও উজ্জীবিত। এই আসনে মির্জা ফখরুলের কোনো বিকল্প নেই। ভোটাররা এবার তাঁকে বিপুল ভোটে জয়ী করবেন। সে লক্ষে আমরা মাঠে কাজ করছি। এ আসনে তিনি নির্বাচিত হলে, আমাদের বিমানবন্দরটি পূর্ণরায় চালু, কৃষি ভিত্তিক ইউপিজেড, এবং এ জেলার ব্যাপক উন্নয়ন হবে।
আমরা মূলত তরুণদের নিয়ে কাজ করবো। বেকারত্ব কমে যাবে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা রাজনৈতিক দল হিসেবে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের শাসন আমলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে লড়াই সংগ্রাম করেছি। আপনারা জানেন আমাদের ঠাকুরগাঁও কতটা সম্ভাবনাময় একটি জেলা। এখানকার শান্তিপ্রিয় মানুষকে বিগত দিনে কতটা পিছিয়ে রাখা হয়েছে। এটি এখনো অনুন্নত একটি জেলা, পিছিয়ে পড়া জেলা। আমাদের এ জেলাকে এগিয়ে নিতে হবে। এজন্য গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে। আমরা বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থা চাই। যেন ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে তৃপ্তি পায়। জয় তো প্রার্থীর হয় না। জয় হয় ভোটারের। ভোটাররা যদি নির্বিঘ্নে নিরাপত্তার সঙ্গে ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সেটাই হবে আমাদের কাঙ্ক্ষিত বিজয়। আমি মনে করি শান্তিপ্রিয় জেলা ঠাকুরগাঁও। এ জেলায় সংঘ্যালঘুর সংখ্যা একটু বেশি। তারা আমাদের কাছে নিরাপদ। এখন পর্যন্ত কোন সংঘ্যালঘু নির্যাতনের শিকার হয়নি আমাদের দলের কাছ থেকে এবং তারা নিরাপদ হিসাবে বসবাস করে আসছেন।
নির্বাচিত হলে, পিছিয়ে পড়ে এ আসনে বড় কোন শিল্পপ্রতিষ্ঠান নেই, উত্তরের এ জেলা কৃষিভিত্তিক জেলা এ জেলায় কোন কৃষি ইপিজেড নেই, বিসিক শিল্পনগরী নেই, পরিত্যাক্ত্য বিমানবন্দরটি পূণর্রায় চালুর উদ্দ্যােগসহ ব্যাপক উন্নয়ন করা সম্ভব। আমি তরুণদের নিয়ে কাজ করবো। জেলায় বেকারত্বের হার একটু বেশি যখনি শিল্পকলকারখানা গড়ে উঠবে তখনি বেকারত্বের হার কমে যাবে।
মির্জা ফখরুলকে আওয়ামী সরকারের আমলে কয়েকবার কারাবরণ করতে হয়েছে। জেল জুলুম-অত্যাচার ও শতাধিক মামলা কাঁধে নিয়ে দীর্ঘ ১৭ বছর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন তিনি। অনেক ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও তার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ ছিলেন বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এবার তার পক্ষে ভোটের জোয়ার তৈরি করতে চান তারা। ইতোমধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন নানা কর্মসূচি নিয়ে। মির্জা ফখরুল জয়ী হয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে গিয়ে এলাকায় উত্তরোত্তর উন্নয়ন করবেন বলে আশায় বুক বাঁধছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
ধানের শীষের কান্ডারীর সঙ্গে ভোটযুদ্ধ হবে আরেক হেভিওয়েট প্রার্থীর। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি, ঠাকুরগাঁও উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন। তার পক্ষে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছেন দলের নেতাকর্মীরা। ব্যানার-পোস্টারের মাধ্যমে দিচ্ছেন বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ও আশ্বাস।
ফ্যাসিবাদী আওয়ামী দুঃশাসনের অন্যতম ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন। তিনি ছাত্রশিবিরের সভাপতি থাকাকালে গ্রেপ্তার করে অমানবিক নির্যাতন করা হয়। থানায় থানায় নিয়ে পেটানো হয়েছিল কয়েক মাস ধরে। বছরের পর বছর রাখা হয় কারাগারে। অন্তত দেড়শ মামলা কাঁধে নিয়ে আদালত থেকে আদালতে ছুটেছেন অন্তত এক দশক।
দেলোয়ার হোসেন বলেন, আগে এই আসনে তিনটি দলের শাসন মানুষ দেখেছে। তারা কেউ সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ উপহার দিতে পারেনি। এজন্য জনগণ সৎ, দক্ষ, দেশপ্রেমিক ও আল্লাভিরু প্রার্থীর অপেক্ষায় আছে। তাদের প্রত্যাশা পূরণে আমরা কাজ করছি।
অনেক নির্যাতিত মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে এবং অনেক শহিদের রক্তের বিনিময়ে আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। এ নতুন বাংলাদেশে আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষের কাঙ্খিত সমাজ বিনির্মাণ করতে আমি সবাইকে পাশে চাই। সেই সাথে আমার সম্ভাবনার জেলার যত সম্ভাবনা আছে সব দ্বার উন্মুক্ত করতে চাই। বেকারমুক্ত যুবসমাজ হলে ঠাকুরগাঁওয়ে উন্নত জেলা গড়া সম্ভব। আমি সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে আমাদের আগামির নতুন বাংলাদেশ গড়ার রুপরেখা নিয়ে যাচ্ছি এবং আমার পাশে থাকার দাওয়াত দিচ্ছি৷ আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে একটি সুন্দর সাজানো গোছানো শান্তিপূর্ণ জেলা প্রতিষ্ঠিত করতে পারবো ইনশাআল্লাহ্।
ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, ঠাকুরগাঁও ১ আসনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম এখানে প্রার্থী। উনার জনপ্রিয়তা অনেক। তবে এবার মানুষ পরিবর্তন চায়। তারা বলে আমরা আওয়ামীলীগকেও দেখেছি বিএনপিওকে দেখেছি এবার জামায়াতকে দেখতে চাই। আমরা ১০ মাস ধরে নিয়মিত কোনো না কোনো এলাকায় গণসংযোগ করছি। আমাদের নারী কর্মীরাও এবার সক্রিয়। এবার দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। যেসব রাজনৈতিক দল ফ্যাসিস্ট মনোভাব পোষণ করে, দেশের মানুষেরা তাদের বর্জন করছে। এ ক্ষেত্রে আমার দল আশাবাদী।
এদিকে জেলা জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউর রাজী স্বপন চৌধুরী নির্বাচনে অংশ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে তিনি সুষ্ঠ নির্বাচন নিয়ে সংশয় জানিয়ে তিনি বলেন, যদি নির্বাচনের পরিবেশ ঠিক থাকে ও জনগণের সমর্থন থাকবে তাহলে আমরা নির্বাচন অংশগ্রহণ করবো। মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। এ আসনে তরুনদের নিয়ে আমি কাজ করতে চাই। সে লক্ষে আমি বিভিন্ন ইউনিয়নে জনসংযোগ করছি।
ভোটারদের পরিসংখ্যান
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৮০ হাজার ৬০৯। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪০ হাজার ৯৮৩। নারী ভোটার ২ লাখ ৩৯ হাজার ৬২২ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার চারজন।
এখানে সংখ্যালঘু ভোটার ১ লাখ ১৯ হাজার। তারুণ ভোটার ১ লাখ ৯২ হাজার ৫৬৭। এই আসনে কোনো প্রার্থীকে জিততে হলে তরুণ ও সংখ্যালঘু ভোটারদের কাছে টানতে হবে।
ভোটকেন্দ্র : ১৭৫টি।
জাতীয় সংসদের ৩নং এই আসনে বিগত সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা হলেন, ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির খাদেমুল ইসলাম। ১৯৮৮ সালে জাপা থেকে রেজওয়ানুল হক ইদু চৌধুরী। ১৯৯১ সালে খাদেমুল ইসলাম জয় লাভ করেন আওয়ামী লীগ থেকে। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের জুনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে খাদেমুল ইসলাম নির্বাচিত হন। ১৯৯৭ সালের উপ-নির্বাচনে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের রমেশ চন্দ্র সেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়ী হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২০০৮ সালে নির্বাচিত হন রমেশ চন্দ্র সেন। এরপর ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের টিকিটে জেতেন রমেশ চন্দ্র সেন।
আসন-২ (হরিপুর ও বালিয়াডাঙ্গী) এ আসনটির পুরো এলাকা ভারতের সিমান্তঘেষা। এ আসনে মাদক ও চোরাচালানের প্রবণতা একটু বেশি। ভারতীয় সীমান্তে চোরাচালানের সময় অনেক মানুষ কাটাতারের বেড়ায় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীর গুলিতে প্রাণ হারায়। বেকারত্বের হার বেশি থাকা এবং ভারতীয় সীমান্ত কাছে হওয়ায় এই ২ আসনে মাদক এবং চোরাচালানের সংখ্যা একটু বেশি।
ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে সাবেদ সংসদ দবিরুল ইসলামের নেতুত্ব কিছু ভোট কেন্দ্র দখল হলেও এবার আর কোন সুযোগ নেই। মানুষ ইচ্ছামত পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে।
এ আসনে মাদক আর চোরাচালান বেশি। এর কারণ বেকারত্ব। এবার এমন প্রার্থীকে ভোটাররা নির্বাচিত করবেন যারা এই মাদক নির্মূল এবং চোরাচালান বন্ধ করবেন। বেকারত্ব দূর করবেন। বিগত সরকারের আমলে সাবেক এমপি দবিরুল ইসলাম কিছু হিন্দুর জমি দখল করে চা বাগান করেন। সেই হিন্দুদের জমি দখল মুক্ত করে পূর্ণরায় তাদের ফেরত দিবে। এমন জনপ্রতিনিধিকে নির্বাচিত করতে চায় এ উপজেলার মানুষ।
ঠাকুরগাঁও ২ আসনে যারা প্রার্থী হয়ে লড়বেন তারা হলেন, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ডাঃ মোঃ আব্দুস সালাম, জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল হাকিম, গণ অধিকার পরিষদ মনোনীত প্রার্থী ফারুক হাসান, জাতীয় নাগরিক পার্টি ( এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী মোঃ রবিউল ইসলাম, এবি পার্টি মনোনীত প্রার্থী নাহিদ রানা। জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী নুরুন নাহার বেগম। এসব প্রার্থী প্রচার প্রচারনা, গণ সংযোগ, উঠান বৈঠক, বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে দেখা যাচ্ছে। তারা সবাই নানা কর্মসূচির মাধ্যমে ভোটে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। জনগণের যাওয়া, নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া এবং বিভিন্ন সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ব্যস্ত থাকছেন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। প্রার্থীরা বলেন, এবার এক পরিবার তন্ত্র থাকবে না এই ২ আসন। বিগত সরকারের আমলে তারা ভোট দিতে পারেনি। কারণ শুধু এক পরিবার তাদের জিম্মি করে ক্ষমতায় এসেছিল। এবার সবদল থেকে প্রার্থী রয়েছে। তারা নিজের ইচ্ছামত প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন। এবং অবহেলিত ঠাকুরগাঁও ২ আসন উন্নয়নে বিশেষ ভুমিকা রাখবেন।
প্রথম ধাপে ঠাকুরগাঁও ২ আসনে বিএনপি কোন প্রার্থীর নাম ঘোষনা না করলেও দ্বিতীয় ধাপে ডাঃ আব্দুস সালামকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেন বিএনপি। এতে নেতা কর্মীদের মাঝে দেখা দিয়েছে উচ্ছাস। তারা বিভিন্ন কর্মসুচি গনসংযোগ করছেন।
বিএনপির প্রার্থী আব্দুস সালাম বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে ঠাকুরগাঁও ২ আসন আওয়ামীলীগের দখলে ছিল। তবে এবার পরিবর্তন হবে। দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। আমাদের এক হয়ে এ আসনে ধানের শীষের বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে। ইতি মধ্যে আমি দলের হয়ে কাজ শুরু করেছি। এ ২ আসনে ধানের শীষ বিজয়ী হবে। আমি তরুণদের নিয়ে কাজ করবো। বিভিন্ন ইউনিয়নে গনসংযোগ করছি। এবার ভোটাররা ভোট দিতে অনেক আগ্রহ প্রকাশ করছেন। এ আসনে বিজয়ী হলে বেকারত্ব দূর হবে। ভারতী সিমান্ত কাছাকাছি হওয়ায় এখানে চোরাচালান এবং মাদকের প্রবনতা বেশি। মাদক এবং চোরাচালান এ আসনে আর থাকবে না। এ আসনে গত ১৭ বছরে তেমন কোন উন্নয়ন চোখে পড়েনি। রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা, বেকারত্ব অনেক বেশি। আমি সংসদ নির্বাচিত হলে বেকারদের কর্মস্থানের ব্যবস্থা হবে। রাস্তা ঘাটের উন্নয়ন হবে।
জামায়াত এখানে জেলা শাখার সাবেক আমির এবং দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও আঞ্চলিক টিম সদস্য মাওলানা আবদুল হাকিমকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তিনি ব্যাপক কর্মসূচির মাধ্যমে গণসংযোগ করছেন। বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে গিয়ে করছেন ভোটারদের মন জয়।
আগামী ত্রয়োদশ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী মওলানা আব্দুল হাকিম বিজয়ী হওয়া নিয়ে জানতে চাইলে উপজেলা জামায়াতের সভাপতি অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বিগত নির্বাচনগুলোতে আওয়ামী প্রার্থীর সঙ্গে পরপর পাঁচবার ব্যাপক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এ আসনে হেরে যান জামায়াতের এই মজলুম প্রার্থী। সংগত কারণেই ভোটাররা তার ব্যাপারে আগে থেকেই সহানুভূতিশীল। তিনি ব্যক্তিগতভাবে একজন সৎ মানুষ হিসেবেও এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। সামাজিক প্রতিটি কর্মকাণ্ডে তৎক্ষণাৎ তিনি জনগণের পাশে থেকে সহানুভূতি অর্জন করেছেন। সাবেক সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলামের সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি ও জমি দখল এবং এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করাসহ সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা, মাদক ব্যবসা এবং টেন্ডারবাজিসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ থাকায় এবং রাষ্ট্রশক্তির হস্তক্ষেপ না থাকলে আমরা জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।
আব্দুল হাকিম বলেন, আমি অনেক অত্যাচার আর নির্যাতনের শিকার হয়েছি। কতবার যে জেল খেটেছি তার হিসাব নাই। তবে এবার ২ আসনের মানুষ পরিবর্তন চায়। তারা আমাকে নির্বাচিত করতে চায়। আমি তাদের কথা দিছি নির্বাচিত হলে মাদক, চোরাচালান, বেকারত্ব দূর করবো। এবং তরুণদের নিয়ে কাজ করবো। এ আসনের সাবেক সংসদ দবিরুল বহু হিন্দু সংঘ্যালঘুদের জমি দখল করে চা বাগান গড়ে তুলেছেন আমি নির্বাচিত হলে তাদের জমি উদ্ধার করে দিব। সীমান্তবর্তী উপজেলা হওয়ায় এই আসনে চোরাচালান একটু বেশি। বাংলাদেশী অনেক মানুষ ভারতের বর্ডারে গিয়ে গুলি খেয়ে প্রাণ হারান। আমি যদি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হই তাহলে মাদক এবং চোরাচালার নির্মূল বরবো। এ আসনের তরুণরা বেকার বলে মাদকের সাথে তারা জড়িয়ে পরে। আমরা মূল্য লক্ষ বেকারদের কর্মস্থানের ব্যবস্থা করা। এবং তরুণদের নিয়ে কাজ করা। কারণ তরুণরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। আমি এ আসন থেকে জয়ের ব্যাপরে ব্যাপন আশাবাদী।
এছাড়া গণঅধিকার পরিষদ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির মুখপাত্র ফারুক হোসেন। তিনি এলাকায় বেশ জোরালোভাবে গণসংযোগ চালাচ্ছেন। অন্যদলের তেমন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।
ফারুক হোসেন বলেন, এখন তরুণদের সময়, তাদের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনে আসনটি আমরা পাব বলে বিশ্বাস করি। আমি তরুণ তাই তরুণদের চাওয়া পাওয়া বুঝবো। তরুণ ভোটাররা আমাকে সমর্থন করছেন। আমি বিভিন্ন জায়গায় গনসংযোগ করে বুঝছি ভোটাররা এবার পরিবর্তন চায়। তারা তরুণদের নেতৃত্ব চায়। সেক্ষেত্রে আমাবে সমর্থন দিয়েছে অনেকে। এ আসনে এবার আমি বিজয়ী হবো আশাবাদি।
জাতীয় নাগরিক পার্টি ( এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী মোঃ রবিউল ইসলামকে আগে ভোটের মাঠে না দেখা গেলেও গত কয়েকদিন ধরে গণসংযোগ, উঠান বৈঠকসহ নানান কর্মসুচি করছেন তিনি।
রবিউল ইসলাম বলেন, ঠাকুরগাঁও ২ আসনটি একটি পরিবার দীর্ঘ দিন ধরে অবৈধভাবে ধরে ছিল। এবার আর তা হবে না। আমি বিশ্বাস করি তরুণ নেতৃত্ব চায় এ উপজেলার মানুষ। সে লক্ষে আমি কাজ করতে চাই। তরুণরা আমাকে সমর্থন দিয়েছেন। আমি এ আসন থেকে বিজয়ী হলে তরুণরা আর বেকার থাকবে না।
জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী নুরুন নাহার বেগম বেশ কয়েকদিন ধরে গনসংযোগ করছেন। ভোটারদের দিচ্ছেন নানান প্রতিস্তুতি। নির্বাচিত হলে কাজ করবেন তরুণদের নিয়ে।
নুরুন নাহার বেগম বলেন, ঠাকুরগাঁও ২ আসন এক পরিবার তন্ত্রছিল। বিগত সরকারের আমলে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। তবে এবার তেমনটা হবে না। আমি বেশ কয়েকদিন থেকে ভোটারদের দাড়েদাড়ে ঘুরছি এবং বেশ সাড়া পাচ্ছি। মানুষ এবার পরিবর্তন চায়। ঠাকুরগাঁও ২ আসন থেকে আমি নির্বাচিত হলে ২ আসন আর অবহেলিত থাকবে না। এ আসনের রাস্তাঘাট বেহাল থাকবে না। ভারতের বর্ডার কাছে হওয়ায় এ আসনে মাদক এবং চোরাচালানের প্রবর্ণতা একটু বেশি। বেশি করে যারা তরুণ বেকাররা এই মাদকে ঝুকছে বেশি। আমি সংসদ নির্বাচিত হলে তরুণদের কর্মসস্থানের ব্যবস্থা করবো। যাতে তারা মাদক এবং চোরাচালানে না ঝুকে।
ভোটারদের পরিসংখ্যান
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ২৫ জন ভোটার । এর মধ্যে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় ১ লাখ ৫৬ হাজার ৭৬৫, হরিপুর উপজেলায় ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৬ এবং রানীশংকৈল উপজেলার দুই ইউনিয়নে ৩৯ হাজার ৮৯৪ ভোটার।
ভোটকেন্দ্র : ১০৪
এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৬৮ ও নারী ভোটার ১ লাখ ৫৪ হাজার ৩০৫। এখানে তরুণ ভোটার ৯০ হাজার ৮৭৭ এবং সংখ্যালঘু ভোটার ৪৪ হাজার ৬৯৮। এ আসনে প্রার্থীকে জিততে হলে তরুণ ভোটারদের কাছে টানতে হবে।
এই আসনের নির্বাচিত প্রার্থীরা হলেন, ১৯৮৬ সালে দবিরুল ইসলাম বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি থেকে। ১৯৮৮ মির্জা রুহুল আমিন জাতীয় পার্টি থেকে। ১৯৯১ সালে দবিরুল ইসলাম বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি থেকে, ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে জুলফিকার মর্তুজা চৌধুরী, একই বছরের জুন মাসে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের টিকিটে নির্বাচিত হন দবিরুল ইসলাম, এরপর ২০০১ ও ২০০৮ সালেও তিনি এমপি নির্বাচিত হন। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের দুটি বিতর্কিত নির্বাচনেও এমপি হন দবিরুল। এরপর ২০২৪ সালের আরেকটি বিতর্কিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হয়ে এমপি নির্বাচিত হন মাজহারুল ইসলাম সুজন।
ঠাকুরগাঁও-৩ (পীরগঞ্জ ও রানীশংকৈল)আসনটিতে দল থেকে মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমানকে। জামায়াত থেকে এখানে রানীশংকৈল উপজেলা শাখার নায়েবে আমির ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, জাতীয় পার্টি থেকে জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও রানীশংকৈলের সন্তান গোলাম মুর্তজা সেলিম এ ছাড়াও এ আসনে গণঅধিকার পরিষদ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে মামুনুর রশিদকে।
৩ আসন ঠাকুরগাঁও জেলার মধ্যে সব থেকে অবহেলিত আসন বলা হয়। এ আসনের রাস্তাঘাট বেহাল অবস্থা। উন্নয়নের তেমন কোন ছোয়া পায়নি বলে চলে। বেকারত্বের হারও বেশি।
নির্বাচনি নিয়ে বিএনপি ও জামায়াত মাঠে আগে থেকে তৎপর। তারা বিভিন্ন ইউনিয়নে গনসংযোগ, সভা, সেমিনার করলেও বাকি প্রার্থীদের তেমন তৎপরতা চোখে পড়েনি।
বিএনপির মনোনিত প্রার্থী জাহিদুর রহমান বলেন, সবার আগে বাংলাদেশ। আগামীর নির্বাচন বাংলাদেশকে সাজানোর চ্যালেঞ্জিং নির্বাচন। ভোট দিতে জনগণ মুখিয়ে আছে। তাদের সমর্থন নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করবে। আর দলে আমার ত্যাগ ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এবার ধানের শীষের নমিনেশন আমাকে দিয়েছেন। আমি তরুণদের নিয়ে কাজ করি। এর আগেও এ আসন থেকে আমি নির্বাচিত হয়েছি। এ ৩ আসনটি জেলার মধ্যে সব থেকে অবহেলিত আসন। আমাদের দল যদি সরকার গঠন করে তাহলে ৩ আসনে রাস্তাঘাটের উন্নায়ন হবে। বেকারত্ব দুর হবে। তরুণরা চাকরি পাবে।
জামায়াতের প্রার্থী মিজানুর রহমান বলেন, ‘দেড় যুগ ধরে মানুষ ভোট দিতে পারছে না। তাদের প্রত্যাশা পূরণে ঘনিয়ে আসছে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন। এবার জনগণ চায় সত্যিকারের পরিবর্তন। চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে। এ কারণে সবার নজর জামায়াত প্রার্থীদের দিকে। তাদের সমর্থন নিয়ে দাঁড়িপাল্লার বিজয় হবে। আমি বেকারদের নিয়ে কাজ করবো। বিগত সরকারের আমলে এ ৩ আসনে কোন উন্নয়ন হয়নি বলে চলে। তবে এবার আমি বিজয়ী হলে ৩ আসন আর অবহেলিত থাকবে না। বেকারত্ব দূর হবে।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাকে এবারও দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। বিগত সময় আমি বেশ কয়েকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হই এ আসন থেকে। এ আসনে আমার অনেক জনপ্রিয়তা রয়েছে। যা উন্নয়ন হয়েছে আমার দাড়া। আমি এবার নির্বাচিত হলে এ ৩ আসনের বেকারত্ব দূর করবো। এ বেকারদের কর্মস্থানের ব্যবস্থা করবো। এ আসনের রাস্তাঘাটের বেহাল দশা। সে গুলো নিয়ে কাজ করবো। আমি ভোটারদের দাড়ে দাড়ে ঘুরছি এবং তারা আমাকে সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চায়।
এনসিপি মনোনিত প্রার্থী গোলাম মুর্তজা সেলিম বলেন, আমরা আনন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিস আওয়ামীলীগ সরকারকে তাড়াইছি। আমরা পারবো পরিবর্তন করতে। এ ৩ আসন অবহেলিত একটি আসন। এখানে কোন উন্নয়ন চোখে পরেনা। বেকারত্ব বেশি। আমি যদি এ আসন থেকে বিজয়ী হতে পারি। তাহলে বেকারত্ব দূর হবে। উন্নয়ন হবে এ আসনের। সেজন্য তরুণ ভোটাররা আমাকে সমর্থন দিচ্ছে। এবং আমি বিজয়ী হবো আশাবাদি।
গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থি মামুনুর রশিদ বলেন, আমি তরুণ তাই তরুণদের কষ্ট বুঝবো। আমার মূল লক্ষ তরুণদের নিয়ে কাজ করা। তাদের বেকারত্ব দূর করা। ইতি মধ্যে আমি বিভিন্ন জায়গায় গনসংযোগ শুরু করছি এবং তরুণদের সমর্থন পাচ্ছি। তারা আমাকে এবার এমপি হিসাবে দেখতে চায়। বিগত সরকারের আমলে এ ৩ আসনে কোন উন্নয়ন চোখে পরেনা। রাস্তা ঘাটের বেহাল অবস্থা। বেকারদের সংখ্যা বেশি। আমি নির্বাচিত হলে এই নিয়ে কাজ করবো।
ভোটারদের পরিসংখ্যান
নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৩৬০। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৬৯ হাজার ৩৯০ এবং পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৪ হাজার ৯৭০। সংখ্যালঘু ভোটারের সংখ্যা ৫৩ হাজার ৫৭৬।
ভোটকেন্দ্র : ১২১। এই আসনে জিততে হলে নারী ও সংখ্যালঘু ভোটারদের টানতে হবে প্রার্থীদের।
১৯৮৬ সালে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি থেকে নির্বাচিত হন মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ। ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টি থেকে হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ। ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগ থেকে মোকলেসুর রহমান। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে আব্দুল মালেক। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ থেকে এমদাদুল হক। ২০০১ সালে জাতীয় পার্টি থেকে হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ। ২০০৮ সালে জাতীয় পার্টি থেকে হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ। ২০১৪ সালে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে ইয়াসিন আলী। ২০১৮ সালে বিএনপি থেকে জাহিদুর রহমান। ২০২৩ সালের উপ-নির্বাচনে হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনেও তিনি জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত হন।

নিজস্ব প্রতিবেদক