দ্বিতীয় বিয়ের একদিন পর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বামী পলাতক
গাজীপুরের শ্রীপুরে বিয়ের এক দিন পর ভাড়াবাড়ি থেকে জোছনা আক্তার নামে এক নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে শ্রীপুর থানা পুলিশ। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন স্বামী।
আজ রোববার (৮ মার্চ) বিকেলে শ্রীপুর পৌরসভার ভাংনাহাটি গ্রামের রফিকুল ইসলামের বাড়ি থেকে ঘরের দরজা ভেঙে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
জোছনা আক্তার (৩৪) নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার মহিষবের গ্রামের সাইদুর রহমানের মেয়ে। তিনি শ্রীপুর উপজেলার ঢাকা গার্মেন্টেসে পোশাক শ্রমিকের কাজ করতেন।
নিহত জোছনার বাবা সাইদুর রহমান বলেন, জোছনার প্রথম স্বামীকে কিছুদিন আগে ডিভোর্স দেয় সে। গত শনিবার ইয়াসিন নামে এক ছেলেকে বিয়ে করে। বেলা ৩টার দিকে জানতে পারি জোছনা ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ। কিন্তু মেয়ের দ্বিতীয় স্বামীকে পাইনি৷ পুলিশ এসে ঘরের দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে। গতকাল শনিবার বিয়ের পর থেকে দ্বিতীয় স্বামীকে নিয়ে ভাড়া বাসায় ছিল। প্রেম করে দ্বিতীয় বিয়ে করছিল। কী কারণে সে আত্মহত্যা করল এর কিছুই বলতে পারছি না।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, জোছনা ঢাকা গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। দ্বিতীয় স্বামী ইয়াসিন চাকরি করেন আমান টেক্স নামক কারখানায়। দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক চলছিল। বিষয়টি জানার পর ইয়াসিনের স্ত্রী তার স্বামীকে ফেরানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। গতকাল শনিবার ইয়াসিন জোছনাকে গোপনে বিয়ে করে। রাতে তাদের বাসর হয়। সকাল ৭টার দিকে স্বামী ইয়াসিন কর্মস্থলে চলে নয়। দিনের কোনো এক সময় জোছনা সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। দুপুরের দিকে বাড়ির লোকজন বিষয়টি বুঝতে পারে।
শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রেজাউল করিম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

আব্দুর রউফ, গাজীপুর (শ্রীপুর)