বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ খালেক শেখের ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সমাজহিতৈষী বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ খালেক শেখের ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ)। প্রয়াত এম এ খালেক শেখ ২০০২ সালের এই দিনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।
মহান মুক্তিযুদ্ধের এই অকুতোভয় বীর সংগঠক যুদ্ধের প্রারম্ভে তাঁর গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুরের গোহালা টি সি এ এল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় যুবকদের সংগঠিত করে প্রতি রাতে আড়াই হাত বাঁশের লাঠি তৈরি করে যুদ্ধের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দিয়ে ভারতের বিভিন্ন ট্রেনিং ক্যাম্পে পাঠাতেন। ফিরে এসে সেই বীর মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং মুকসুদপুরসহ গোপালগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন পরিচালনা করেন। এ সকল যুদ্ধে তিনি পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেন। তারা ৬ ভাইয়ের মধ্যে তিন ভাই সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। পাকিস্তানি মিলিটারি বাহিনী তাঁর মাথা অথবা তাঁকে মৃত বা জীবিত নিয়ে আসতে পারলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেয়া হবে জানিয়ে গ্রামের হাটে ঢোল বাজিয়ে পরোয়ানা জারি করে। যুদ্ধের পুরো সময় তিনি পাকিস্তানিদের মৃত্যু পরোয়ানা মাথায় নিয়ে কাটিয়েছেন।
মৃত্যুকালে এই বীর মুক্তিযোদ্ধা ৫ ছেলে ও ১ মেয়ে রেখে যান। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সাবেক পরিচালক, সংগঠক, রাজনীতিক শিল্পী আশরাফুল আলম পপলু তাঁর তৃতীয় ছেলে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম এম এ খালেক শেখ-এর ২৪তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে মুকসুদপুরের মুনিরকান্দির আশরাফুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানা, খানপুরা রাজ্জাকিয়া এতিমখানা ও কওমি মাদ্রাসা এবং পূর্ব নওখন্ডা আলিয়া মাদ্রাসা ও হেফজখানা ও এতিমখানাসহ বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসায় কোরআন খতম এবং দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া তাঁর নিজ বাড়ি গোহালায়, গোহালা স্কুল জামে মসজিদ ভট্টাচার্য্যকান্দি জামে মসজিদ ও ঢাকার বাসায় মিলাদ, দোয়া ও কোরআন খতমের আয়োজন করা হয়েছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা খালেক শেখ-এর আত্মার শান্তির জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে এই পবিত্র মাহে রমজানের এই সময় সকলের নিকট দোয়া প্রার্থনা করা হয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক