আসিফ-হান্নানসহ ৪২ জনকে পুলিশ হত্যার আসামি করার চেষ্টা
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশ সদস্য হত্যার অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ ৪২ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলার আবেদন জমা দেওয়ার পর তা পুনরায় ফেরত নিয়েছেন বাদী।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) রৌনক জাহান তাকির আদালতে এই আবেদনটি করার চেষ্টা করা হয়েছিল। মামলার বাদী ছিলেন মৌলভীবাজারের জুড়ী থানার বাসিন্দা জালাল হোসেন।
সংশ্লিষ্ট কোর্টের পেশকার রিপন মিয়া এনটিভি অনলাইনকে বলেন, পুলিশ হত্যার মামলার আবেদন জমা দেন বাদী। পরক্ষণে শুনানি না করেই আবেদনটি ফেরত নেন তিনি।
ওই অভিযোগপত্রে আসামি হিসেবে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল তারা হলেন— আসিফ মাহমুদ, আব্দুল কাদের, আবু বাকের মজুমদার, আব্দুল হান্নান মাসউদ, আদনান আবির, জামান মৃধা, মোহাম্মদ সোহেল মিয়া, রিফাত রশিদ, হাসিব আল ইসলাম, আব্দুল্লাহ সালেহীন অয়ন, লুৎফর রহমান, আহনাফ সাঈদ খান, মোয়াজ্জেম হোসেন, ওয়াহিদুজ্জামান, তারেকুল ইসলাম (তারেক রেজা), হামজা মাহবুব, রেজোয়ানা রিফাত, তরিকুল ইসলাম, নুসরাত তাবাসসুম, রাফিয়া রেহনুমা হৃদি, মুমতাহীনা মাহজাবিন মোহনা, আনিকা তাহসিনা, উমামা ফাতেমা, তাহমিদ আল মুদাসসির চৌধুরী, নিশিতা জামান নিহা, মেহেদী হাসান, মো. আবু সাঈদ, সানজানা আফিফা আদিতি, তানজিনা তামিম হাফসা, আলিফ হোসাইন, কাউসার মিয়া, সাইফুল ইসলাম, আরিফ সোহেল, আব্দুর রশিদ জিতু, স্বর্ণা রিয়া, রাসেল আহমেদ, আসাদুল্লাহ আল গালিব, মো. তৌহিদ আহমেদ আশিক, গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী মিশু, নাজমুল হাসান, শাহিনুর সুমী ও সিনথিয়া জাহিন আয়েশা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাবেক উপদেষ্টা ও বর্তমানে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ বলেন, জুলাই গণভ্যুত্থান সফল হওয়ার মধ্য দিয়ে এটি একটি মীমাংসিত বিষয়। জুলাইয়ের ঘটনাগুলোর ইনডেমনিটি দেওয়া হয়েছে। শুধু আমরা না, বিভিন্ন পর্যায়ে আরও অনেকে গণঅভ্যুত্থানে যুক্ত ছিলেন। কেউ যখন গুলি করতে আসে, তখন আত্মরক্ষা করাটা সকল নাগরিকের অধিকার। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মরক্ষা করতে গিয়ে সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিংবা আওয়ামী লীগের অনেকেই সেখানে নিহত হয়েছেন। এই বিষয়টা নতুন সরকার আসার পরেও আমি যতদূর দেখেছি যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও এই বিষয়টা স্বীকার করেছেন। জুলাই সনদের মাধ্যমে যে ইনডেমনিটি দেওয়া হয়েছে, তা বহাল থাকবে।
এদিকে সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যকে ঘিরে এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদকে সরব দেখা যায়। বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে অবস্থান নিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, এখান থেকেই বাংলাদেশ আজকে দুটি ভাগে বিভক্ত হবে। একটি হচ্ছে ফ্যাসিবাদের পক্ষে, আরেকটি হচ্ছে ফ্যাসিবাদের বিপক্ষে। আমরা দেখতে চাই, যারা ফ্যাসিবাদের বিপক্ষের শক্তি এই সংসদে আছেন, তারা যেন এই রাষ্ট্রপতিকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দেন। রাষ্ট্রপতিকে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক