শেষ কর্মদিবসের পরই বাড়ির পানে ছুটছেন ঘরমুখো মানুষ
ঈদুল ফিতরের আগে আজ ছিলো শেষ কর্মদিবস। এদিন অফিস ছুটির পরই পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য ঢাকা ছাড়ছেন অনেকে।
আজ সোমবার (১৬ মার্চ) ঢাকার গুলিস্থান, কমলাপুর, সায়দাবাদ, যাত্রাবাড়ি, মানিকনগর, টিকাটুলি, গাবতলী, মহাখালী, কদমতলী, সাইনবোর্ড, শনির আখড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কে দেখা গেছে ঘরমুখো মানুষের ভিড়।
টিকাটুলিতে এশিয়া পরিবহণে করিম নামের এক যাত্রী বলেন, আজ ঈদের ছুটি পেলাম। স্কুল বন্ধ থাকায় পরিবারের সবাইকে গত সপ্তাহ পাঠিয়ে দিয়েছি। এখানে যাত্রীর খুব চাপ। তিনি বলেন, এই গাড়ির টিকিট অগ্রিম পাওয়া যায় না। বাসে ওঠার পরেই ভাড়া নেন। তবে বাড়তি ভাড়া নেবে কিনা বুঝতে পারছি না। তবে ঈদের ছুটিতে দীর্ঘদিন পর বাড়িতে যাচ্ছি, এটা খুব ভালো লাগছে।
চাঁদপুরগামী পরিবহণ পদ্মার সুপারভাইজার বলেন, আজ শেষ কর্মদিবস উপলক্ষে যাত্রীদের অনেক ভিড় রয়েছে। সকাল থেকেই ভিড় ছিল। তবে অফিস ছুটির মানুষের চাপ অনেক বেড়েছে। তিনি বলেন, বন্ধ অনেকদিন থাকার কারণে অনেকে কাল অথবা পরশু যাবেন। এ ছাড়া স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকার কারণে অনেকে বাড়িতে চলে গেছেন। এখন শুধু অফিসের লোকজনই যাবে।
কমলাপুরে মিয়ামি পরিবহণে কুমিল্লার চান্দিনায় যাচ্ছিলেন নন্দিতা। তিনি বলেন, দেশের দুই ঈদে ছুটি পাওয়া যায়। ঢাকায় একটি বেসরকারি মেডিকেলে নার্স পদে পড়াশোনা করি। অনেকদিন ছুটি পাওয়ার কারণে বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছি। তিনি বলেন, কাউন্টার থেকে টিকিট নিয়েছি। তবে ভাড়া আগের মতো রয়েছে। গাড়িও সময়মতো পাচ্ছি।
নন্দিতা আরও বলেন, অন্য সময় বাড়িতে গেলেও ঈদের সময় ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার মজা অন্য রকম। কারণ স্কুল জীবনের অনেক বান্ধবী ও পরিবারের অন্য সদস্যরা একই সময়ে ছুটি পায়। তাই দীর্ঘদিন পরে আমাদের মধ্যে দেখা হয়। মজা করি।
মহাখালীতে আলম এশিয়া পরিবহণে করে ময়মনসিংহ যাচ্ছিলেন মোহাম্মদ রাহাত। তিনি বলেন, ঈদের ছুটি আজ থেকে শুরু। তাই পরিবারসহ একসঙ্গে বাড়ি যাচ্ছি। তবে মহাখালী থেকে আসতে তীব্র যানজটের কবলে পড়তে হয়েছে।
রাহাত বলেন, পরিবারসহ বাড়িতে একসঙ্গে যাওয়ার মজাই অন্যরকম। নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছাতে পারলে ঈদের আনন্দ আরও দ্বিগুণ হবে।
ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জগামী অভি এন্টারপ্রাইজ পরিবহণের কন্ট্রাক্টর সুমন বলেন, আজ যাত্রীর চাপ অন্যান্য দিনের চেয়ে বেশি। বিকেল ও সন্ধ্যার দিকে চাপ আরও বাড়বে।
সৌদিয়া পরিবহণের কাউন্টার মাস্টার সাকিব বলেন, সকাল থেকেই যাত্রীর চাপ অনেক ছিল। তবে দুপুরের পরে অনেক যাত্রী আসে। অনেকে এসে টিকিট পাচ্ছেন না। কারণ অনলাইনে সব টিকিট আগে থেকেই বিক্রি হয়ে গেছে। আমাদের ঈদের আগ পর্যন্ত টিকিট বুকিং আছে এবং যাত্রীর চাপ ক্রমাগত আরও বাড়তে থাকবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক