মামলার আসামি হয়েও জামায়াত নেতার প্রকাশ্যে মিছিল
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় আসামি হয়েও জামায়াত নেতা ফজলুল হক শামীমের প্রকাশ্যে দিনের বেলায় মিছিল ও সমাবেশে উপস্থিত থাকা নিয়ে চলছে তর্ক-বিতর্ক। আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলা সদরে জামায়াতের মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন তিনি।
এ বিষয়ে মামলার বাদী বলেছেন, আগে থেকেই বিষয়টি পুলিশকে জানালেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেনি। এ নিয়ে চলছে নিন্দার ঝড়।
পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, প্রমাণ থাকলে সেই আসামিকে অবশ্যই গ্রেপ্তার করা হবে।
অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে আজ বিকেলে উপজেলা সদরে মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে জামায়াতে ইসলামী। সেই মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন মামলার আসামি উপজেলা জামায়াতের আমির ফজলুল হক শামীম।
উপজেলা মডেল মসজিদে আছরের নামাজ পড়ে জামায়াতের নেতারা উপজেলা জামায়াতে উদ্যোগে একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি থানার সামনে দিয়ে উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক দিয়ে ভালুকজান মোড়ে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। সেই মিছিল ও সমাবেশে নেতৃত্ব দিয়ে বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতের আমির ফজলুল হক শামীম। তিনি উপজেলার কাহালগাঁও গ্রামের মুরগির বিষ্ঠা ব্যবসার দখল নিতে বিএনপির নেতাদের বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ফুলবাড়িয়া থানায় করা মামলার এজাহার নামীয় ৩১ নম্বর আসামি। ওই মামলার বাদী উপজেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক মো. আ. কাইয়ুম তালুকদার।
এ বিষয়ে মামলার বাদী মো. আ. কাইয়ুম তালুকদার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, আগে থেকেই প্রকাশ্যে মিছিলে মামলার আসামির উপস্থিতির বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা (এসআই) শামীমকে অবহিত করার পরেও তিনি আসামিকে গ্রেপ্তার করেননি। কেন করেননি তা বলতে পারছি না। এর প্রতিবাদে আগামী রোববার কর্মসূচি পালন করবেন বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে এসআই শামীম কবীর বলেন, এ সময় মামলার কাজে ঘটনাস্থল কাহালগাঁওয়ে ছিলাম, সদরে আসতে আসতে আসামি পালিয়ে গেছেন। এ জন্য তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। মামলার সব আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (ত্রিশাল সার্কেল) এস এম হাসান ইস্রাফিল বলেন, মামলার আসামি প্রকাশ্যে মিছিল করে থাকলে এবং আপনাদের কাছে প্রমাণ থাকলে পাঠান, আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি।

আইয়ুব আলী, ময়মনসিংহ