নওগাঁয় দুই শিশুসহ চারজনকে গলাকেটে হত্যা, আটক ৪
নওগাঁর নিয়ামতপুরে দুই শিশুসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে গলাকেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে বাহাদুরপুর গ্রামের গরু ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমানের বাড়ি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত হাবিবুরের বাবা নমির উদ্দিন (৭০), বোন ডালিমা বেগম (৪৫) ও শিরিনা বেগম (৪০) এবং ভাগনে সবুজ রানাকে (২৫) হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
নিহতরা হলেন বাহাদুরপুর গ্রামের নমির উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩২), তার স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ছেলে পারভেজ রহমান (৯) ও ৩ বছর বয়সী কন্যা সাদিয়া আক্তার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দিনগত মধ্যরাতে দুর্বৃত্তরা হাবিবুরের বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সবাইকে গলাকেটে হত্যা করে ফেলে রেখে যায়। আজ ভোরে ফজরের নামাজের পর বাড়ির দরজা খোলা দেখে প্রতিবেশীরা ভেতরে ঢুকে রক্তাক্ত মরদেহগুলো পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মান্দা উপজেলার পারনপুর গ্রামের বাসিন্দা সবুজ হোসেনকে (নিহত হাবিবুরের ভাগনে) আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, হাবিবুর রহমান পেশায় গরু ব্যবসায়ী ছিলেন। সোমবার রাতে তিনি মান্দার চৌবাড়িয়া হাট থেকে গরু বিক্রি করে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরেন। ধারণা করা হচ্ছে, ওই টাকা লুটের উদ্দেশ্যে অথবা দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। নিহত হাবিবুরের বাবা নমির উদ্দিনের দাবি, জমি সংক্রান্ত বিবাদের জেরে তার মেয়ে ও জামাই পক্ষ ইতোপূর্বে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল।
নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, দুই শিশুসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনাটি অত্যন্ত পরিকল্পিত। প্রাথমিকভাবে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ও টাকার বিষয়টি সামনে আসছে। আটক সবুজ হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ইতোমধ্যেই নিয়ামতপুর থানা পুলিশ, সিআইডি ও পিবিআই’র বিশেষ টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে। নওগাঁর পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করছেন। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

আসাদুর রহমান জয়, নওগাঁ