৫০২ ভরি স্বর্ণের ঘোষণা নতুন নয়, উপহার পেয়েছেন জানালেন নিপুন রায়
বিএনপি থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুন রায় চৌধুরী। তার সম্পদ বিবরণীতে থাকা ৫০২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই আলোচনা চলছে। অবশেষে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।
নিপুন রায় চৌধুরী বলেছেন, বিয়ের আগে, বিয়ের সময় ও পরবর্তীতে যে উপহারসামগ্রী পিতৃকূল, মাতৃকূল, শ্বশুরবাড়ি, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও পরিজনের কাছ থেকে পেয়েছেন সেটি হলফনামায় তিনি ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, ‘এটা নতুন কোনো ঘোষণা নয়। ২০২৪ সালের জুনে যে ইনকাম ট্যাক্স প্রদান করেছিলাম সেখানেও ঘোষণা করা আছে।’
বিএনপির রাজনীতিতে বেশ আলোচিত নাম নিপুন রায় চৌধুরী। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপির যে কয়েকজন নারীনেত্রী সামনের সারিতে ছিলেন তাদের মধ্যে নিপুন রায় চৌধুরী অন্যতম। তিনি সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর মেয়ে এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পুত্রবধূ।
সাম্প্রতিককালে বিএনপি থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান তিনি। মনোনয়নের পরে নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা তার হলফনামায় উঠে এসেছে বিপুল পরিমাণ সম্পদের বিবরণ।
নিপুন রায় চৌধুরীর দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর নিজের রয়েছে ৫০২ ভরি স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর গয়না। তাঁর স্বামী অমিতাভ রায়ের রয়েছে ১০০ ভরি গয়না। তবে এসব স্বর্ণালংকারের কোনো মূল্য উল্লেখ করা হয়নি। হলফনামায় বলা হয়েছে, এগুলোর অর্জনকালীন মূল্য অজানা এবং উপহার হিসেবে পাওয়া।
হলফনামায় নিপুন রায় নিজের পেশা আইনজীবী উল্লেখ করেছেন। পেশা থেকে বছরে তাঁর আয় ২৬ লাখ টাকা। এ ছাড়া শেয়ার ও ব্যাংক আমানত থেকে বছরে আরও প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা আয় করেন তিনি। তাঁর স্বামী অমিতাভ রায়ের পেশা ব্যবসা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিপুন রায়ের নামে ১ কোটি ১৩ লাখ ২১ হাজার ৬২ টাকার স্থায়ী আমানত রয়েছে। তাঁর নামে থাকা দুটি গাড়ির ক্রয়মূল্য ১ কোটি ১১ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে তাঁর নিজের অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য ১০ কোটি ৪৯ লাখ ৮৩ হাজার ৬৩ টাকা। অন্যদিকে তাঁর স্বামীর অস্থাবর সম্পদের মূল্য সাড়ে তিন কোটি টাকার বেশি।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে একটি ফ্ল্যাটের কথা উল্লেখ করেছেন নিপুন রায়। ফ্ল্যাটটি ৮৫ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে কেনা হলেও এর অবস্থান হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি।
হলফনামা অনুযায়ী, নিপুন রায়ের নামে ১ কোটি ১৯ লাখ টাকার ব্যাংকঋণ ও ব্যক্তিগত দায় রয়েছে। স্বামী ও স্ত্রী মিলিয়ে তাঁদের কাছে নগদ অর্থ রয়েছে মোট ৭৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে নিপুন রায়ের নিজের নামে রয়েছে ১৩ লাখ ২৯ হাজার টাকা।

নিজস্ব প্রতিবেদক