এক শ্রমিকের মজুরিতে লাগছে দেড় মণ ধানের দাম
যশোরের কেশবপুর উপজেলায় বোরো ধান কাটার মৌসুমে এখন, তাই কৃষিশ্রমিকের সংকট। দেড় মণ ধানের দামে মিলছে একজন শ্রমিক। ভোর হলেই বেশি দামে কাজের আশায় রাস্তার মোড়ে মোড়ে কাঁচি, বাখ-দড়ি হাতে অপেক্ষা করছে কৃষিশ্রমিকরা। আর কৃষকরা খুঁজছেন সহনীয় দামে এই শ্রমিক।
এ মৌসুমে একজন কৃষি শ্রমিকের দৈনিক মজুরি দাঁড়িয়েছে প্রায় এক হাজার ৪০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত। কৃষকরা বলছেন, এই টাকা এখন দেড় মণ ধানের সমান।
উপজেলার হাসানপুর ইউনিয়নের নেহালপুর গ্রামের কৃষকরা বলছেন, এক বিঘা জমির ধান কাটতে এখন আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি খরচ হচ্ছে। শ্রমিক না পেলে ধান মাঠেই পড়ে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, ধান বিক্রি করছি কম দামে, কিন্তু ধান কাটাতে হচ্ছে বেশি দামে শ্রমিক নিয়ে। লাভ তো দূরের কথা, খরচই উঠছে না। এভাবে চললে কৃষি টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যাবে।
অন্যদিকে শ্রমিকদের দাবি, মৌসুমের কারণে কাজের চাপ বেড়েছে, তাই মজুরিও বেড়েছে। সারা বছর কাজ না থাকায় এই সময়টুকুই তাদের প্রধান আয়ের উৎস। তাদের মতে, কাজ বেশি, সময় কম—তাই মজুরিও বেশি।
কেশবপুর উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, এবার উপজেলায় ১৩ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। প্রায় ৪০ শতাংশ ধান ইতোমধ্যে কাটা হয়ে গেছে। শ্রমিক সংকট ও সময়মতো ধান কাটার চাপই মূলত মজুরি বৃদ্ধির কারণ।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি বছর ধান কাটার মৌসুমে শ্রমিক সংকট ও বাজারের ভারসাম্যহীনতা কৃষকের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে, কিন্তু ধানের দাম সেই অনুপাতে বাড়ছে না। এই ধারা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে কৃষিতে আগ্রহ কমে যেতে পারে কৃষকের।

ইনামুল হাসান, যশোর (মনিরামপুর-কেশবপুর)