গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, পরিবারের পাঁচজনের কেউ বেঁচে রইল না
গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে সৃষ্ট আগুনে পুড়ে নিভে গেল একটি পুরো পরিবারের সব সদস্যের জীবনপ্রদীপ। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গত রোববার (১০ মে) ভোরে ঘটা ওই বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ পরিবারের পাঁচ সদস্যই চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন।
নিহতরা হলেন- পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার উত্তর কনকদিয়া গ্রামের আবুল কামাল (৪০), তার স্ত্রী সায়মা (৩২), বড় মেয়ে মুন্নি (১০), ছেলে মুন্না (৮) ও ছোট মেয়ে কথা (৭)। কামাল গত ৩০ বছর ধরে ফতুল্লায় থেকে সবজির ব্যবসা করতেন এবং সেখানেই পরিবার নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, ঘটনার কিছুদিন আগে থেকেই বাসার গ্যাস লাইনে লিক হচ্ছিল। বিষয়টি বাড়ির মালিক ও দারোয়ানকে জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি। ফলে ঘরে গ্যাস জমে থাকে। গত রোববার ভোরে তরকারি গরম করার জন্য লাইটার দিয়ে গ্যাসের চুলা ধরাতে গেলে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে কামালের শরীরের ৯৫ শতাংশ, সায়মার ৬০ শতাংশ, কথার ৫২ শতাংশ, মুন্নার ৪০ শতাংশ এবং মুন্নির ৩৫ শতাংশ পুড়ে যায়।
গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হলে সোমবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথমে কামাল মারা যান। ওই দিনই গ্রামের বাড়িতে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এরপর বুধবার ছোট মেয়ে কথা, বৃহস্পতিবার ছেলে মুন্না ও বড় মেয়ে মুন্নি এবং সবশেষে আজ শুক্রবার (১৫ মে) মারা যান স্ত্রী সায়মা।
নিহত কামালের ভাতিজি মেঘলা জানান, কামাল মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উপার্জিত টাকা দিয়ে গ্রামের বাড়িতে একটি পাকা ঘর তুলছিলেন। কথা ছিল আগামী কোরবানির ঈদে বাড়ি এসে ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শেষ করে পরিবারসহ গ্রামেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না, কামাল ও তার পুরো পরিবার লাশ হয়ে ফিরলেন বাড়ি। একই পরিবারের সবার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে উত্তর কনকদিয়া গ্রামে এখন বইছে শোকের মাতম।
বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সালেহ আহমেদ এই ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক উল্লেখ করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের দাফন-কাফনের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।

এম.এ হান্নান, পটুয়াখালী (বাউফল-দুমকি)