মেয়াদোত্তীর্ণ গুঁড়া দুধ সংরক্ষণের অভিযোগে ডেইরি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
বাংলাদেশ মান নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিএসটিআই) অনুমোদন ছাড়াই পণ্যে লোগো ব্যবহার করা হচ্ছিল। একই সঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ গুঁড়া দুধের তারিখ পরিবর্তন করে বিক্রির জন্য সংরক্ষণ এবং চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরির অপরাধ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগে চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ এলাকার একটি ডেইরি প্রতিষ্ঠানকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
রোববার (৩০ আগস্ট) পরিচালিত এই অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে সিলগালা করে দেওয়া হয়। খবরটি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক ফয়েজ উল্ল্যাহ।
অভিযান চলাকালে ‘চিটাগং ডেইরি ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামের ওই প্রতিষ্ঠানে গিয়ে একাধিক অনিয়মের প্রমাণ পান কর্মকর্তারা। দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির বাজারজাত করা ‘ডোনা ইনস্ট্যান্ট ফুল ক্রিম মিল্ক পাউডার’ নামক পণ্যে বিএসটিআইয়ের কোনো অনুমোদন নেই। তবুও পণ্যের মোড়কে অবৈধভাবে বিএসটিআইয়ের লোগো ব্যবহার করা হচ্ছিল।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে মেয়াদোত্তীর্ণ গুঁড়া দুধের প্যাকেটের ডেট টেম্পারিং বা তারিখ পরিবর্তন করে পুনরায় বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। একই সঙ্গে সেখানে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ করতে দেখা যায়। প্রতিষ্ঠানটির সংরক্ষণাগারে ক্ষতিকর পোকামাকড়ের উপস্থিতিও পান জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
এসব গুরুতর অপরাধের দায়ে ‘চিটাগং ডেইরি ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ’কে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে জনস্বার্থ বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানটির সব ধরনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে সিলগালা করা হয়।
একই তদারকি অভিযানে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল সংলগ্ন ‘জনতা ফার্মেসি’ নামক একটি ওষুধের দোকানে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অননুমোদিত ওষুধ বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়। এ অপরাধে ফার্মেসিটিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরির দায়ে ‘বার্গার বাইট’ নামের একটি ফাস্টফুডের দোকানকে ৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান প্রসঙ্গে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফয়েজ উল্ল্যাহ জানান, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে কোনো প্রকার অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। খাদ্যপণ্যের মেয়াদ পরিবর্তন করা, ভেজাল দেওয়া কিংবা অনুমতি ছাড়া বিএসটিআইয়ের লোগো ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী এ ধরনের কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)