নেপালে বন্যার ২০ দিন পর জলবিদ্যুৎ সুড়ঙ্গে মিলল ৮ মরদেহ, তল্লাশি অব্যাহত
নেপালের রসুয়া জেলায় ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও বন্যার ২০ দিন পার হলেও নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান থামেনি। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে প্রবেশ করতেই উদ্ধারকারীরা একের পর এক মরদেহ খুঁজে পাচ্ছেন।
আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) চিলিমে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাওয়ারহাউস এলাকা থেকে তিনটি অক্ষত মরদেহ ও একটি বিচ্ছিন্ন মানবদেহের অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। একই দিনে আপার ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অডিট সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আরও পাঁচটি মরদেহ। অর্থাৎ একদিনেই দুটি ভিন্ন প্রকল্পের সুড়ঙ্গ ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকা থেকে মোট আটটি মরদেহ এবং মানবদেহের অংশ উদ্ধার হলো।
রসুয়ার প্রধান জেলা কর্মকর্তা কমল প্রসাদ পান্ডে উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে চিলিমে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে নেপালি সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। এই অভিযানে সশস্ত্র পুলিশ, নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কর্মী এবং সহায়তাকারী ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্যরাও অংশ নিয়েছেন।
চিলিমে প্রকল্পের সিনিয়র সহকারী কমল বাহাদুর খারেল জানান, বন্যার সময় প্রকল্পটিতে একজন প্রকৌশলী, দুজন সুপারভাইজার, দুজন নিরাপত্তাকর্মী ও একজন অফিস সহকারীসহ মোট ছয়জন দায়িত্বে ছিলেন। অন্যদিকে রসুয়ার ডিএসপি অশোক থাপা জানিয়েছেন, আপার ত্রিশূলী-১ প্রকল্পের অডিট সুড়ঙ্গের প্রায় ৮০০ মিটার গভীর থেকে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
ভোতেকোশি নদীর উপচে পড়া প্রবল স্রোত ও ঢলে চিলিমে প্রকল্পের মূল ভবন এবং সুরক্ষাবেষ্টনী ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি কাদা-পাথরে সুড়ঙ্গের মুখ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ফলে ভেতরে আটকে পড়া কর্মীদের উদ্ধারে প্রচণ্ড চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। এক্সকাভেটর দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ধাপে ধাপে ভেতরে ঢুকছেন উদ্ধারকারীরা। ক্ষতিগ্রস্ত এসব সুড়ঙ্গ এখন নিখোঁজদের সন্ধানের শেষ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে।

শহীদুল ইসলাম বাবর, নেপাল থেকে