পরকীয়া সন্দেহে ৫০ হাজার টাকা চুক্তিতে কিশোর ওমরকে হত্যা
পরকীয়ার সন্দেহের জেরে ১৪ বছর বয়সী কিশোর ওমর আলীকে হত্যাকাণ্ডের পর মো. নজরুল ইসলাম (৪৮) নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে ওমরকে অপহরণ ও নির্যাতনের পর হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ফরিদপুর পিবিআই কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন ফরিদপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম।
গ্রেপ্তারকৃত নজরুল ইসলাম রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি থানার জঙ্গল ইউনিয়নের ঢোলজানি গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই জানায়, ২০২১ সালের ৪ জানুয়ারি রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি থানার জঙ্গল ইউনিয়নের ঢোলজানি গ্রামের একটি ঘাসের ক্ষেত থেকে কিশোর ওমরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন ৫ জানুয়ারি নিহতের বাবা আহেদ আলী বাদী হয়ে বালিয়াকান্দি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলাটির তদন্তভার ফরিদপুর পিবিআইয়ের ওপর ন্যস্ত করা হয়।
পিবিআই প্রধান জানান, টানা পাঁচবার ব্যর্থ অভিযানের পর অবশেষে গোপন সংবাদ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ৫ অক্টোবর রাতে ঢাকা জেলার আশুলিয়া এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, প্রতিবেশী দুই গৃহবধূর সঙ্গে কিশোর ওমরের পরকীয়া ও শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। এই ক্ষোভ থেকেই ওমরকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে একটি চক্র। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে হত্যার চুক্তি হয়। এরপর ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি রাতে ওমরকে ধরে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে নির্যাতন চালানো হয়। গায়ের জামা দিয়ে হাত-পা বেঁধে বাথরুমে আটকে রেখে নির্যাতনের পর ২ জানুয়ারি দিবাগত রাতে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ ঘাসের ক্ষেতে ফেলে রাখা হয়।
পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম জানান, এ হত্যাকাণ্ডে মোট পাঁচজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে টাকাদাতাদের নাম গোপন রাখা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামির আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণসহ বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর