জন্মদিনে সবার শেষে, ফুল ছাড়াই যেতাম বেশির ভাগ সময়
ডা. এজাজুল ইসলাম ঢাকা মেডিকেল কলেজের নিউক্লিয়ার মেডিসিন বিভাগের প্রধান। হুমায়ূন আহমেদ তাঁকে অভিনয়ে নিয়ে এসেছিলেন। এরপর দীর্ঘ ১৬ বছর কাঁটিয়েছেন হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে। অভিনয়ে পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও।
আজ ১৩ নভেম্বর, কিংবদন্তি হুমায়ূন আহমেদের ৭২তম জন্মদিন। এমন দিনে এনটিভি অনলাইনের কাছে হুমায়ূন আহমেদকে স্মরণ করেছেন তাঁর ঘনিষ্ট সহচর ডা. এজাজুল ইসলাম।
জন্মদিনে হুমায়ূন আহমেদ
স্যারের জন্মদিন আগের দিন রাত ১২টার পর থেকে শুরু হতো। আমি সাধারণত যেতাম সন্ধ্যার পর। যেহেতু চাকরি করতাম সেটা শেষ করে স্যারের জন্মদিনে যেতাম। সবার শেষে যেতাম, আমি যেতাম ফুল ছাড়াই বেশির ভাগ সময়। জন্মদিনে স্যারের পায়ে হাত দিয়ে সালাম করতাম, যেটা স্যার খুব পছন্দ করতেন বলে আমার মনে হতো। স্যার যেহেতু আমার শিক্ষকের বন্ধু ছিলেন, তাই আমি তাঁকে সেই সম্মান দিতাম। মাঝেমধ্যে ফুল নিয়ে যেতাম...
এত সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে যেতে হবে, এটা কোনো কথা...
স্যার চলে যাওয়ার বছর চারেক আগের ঘটনা। নুহাশ পল্লীতে শুটিং হচ্ছে, সেখানের বড় পুকুড়ের চারপাশ জুড়ে নারকেল গাছ লাগিয়েছেন। গাছগুলো কেবল বড় হচ্ছে। শুটিংয়ের এক ফাঁকে স্যার হাঁটা শুরু করলেন, আমি স্যারের পিছনে হাঁটছি। স্যার একটা নারকেল গাছের কাছে থামলেন। বললেন, ডাক্তার আজ থেকে ১৫-২০ বছর পর যখন গাছগুলো বড় হবে তখন কতই না সুন্দর লাগবে। আমি বললাম, স্যার সব গাছ বাঁচলে খুবই সুন্দর লাগবে। স্যার একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন এবং মন খারাপ হয়ে গেল। তখন স্যার আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, তুমি কি জানো তখন আমি থাকব না। স্যারকে প্রায়ই বলতে শুনেছি, এত সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে যেতে হবে, এটা কোনো কথা।
মানবিক হুমায়ূন আহমেদ
শীতের সময় শুটিং হচ্ছে, একটা বাচ্চা লাগবে। নুহাশ পল্লীতে এফডিসি থেকে একটা বাচ্চা সঙ্গে করে নিয়ে গেলাম। স্যার বললেন, চলবে। তখন নুহাশ পল্লীতে একটা রুম হিটার, সেটা স্যারের জন্য। স্যার আমাকে ডেকে বললেন, ডাক্তার, বাচ্চার রুমে আমার রুম হিটারটা দাও, বাইরে খুব ঠাণ্ডা। এই যে মানুষের প্রতি তাঁর মানবিকতা, সেটা আমাদের মুগ্ধ করত।

বিনোদন প্রতিবেদক