এনটিভির ‘এক মুঠো সুখ’ নাটক দেখে আবেগে ভাসছে দর্শক
ঈদের বিশেষ আয়োজনের ভিড়ে অনেক গল্পই আসে, আবার হারিয়েও যায়। কিন্তু কিছু গল্প থেকে যায়—মনের ভেতর, নীরব কোনো জায়গায়। এনটিভির ‘এক মুঠো সুখ’ ঠিক তেমনই একটি নাম, যা ২৫ মার্চ প্রচারের পর ধীরে ধীরে দর্শকের অনুভূতির ভেতর জায়গা করে নিয়েছে। মাত্র চার দিনে ২৮ লাখ দর্শক দেখেছেন নাটকটি।
শুরুটা ছিল নীরব। কোনো বড় প্রচারণা নয়, কোনো অতিরিক্ত চমকও নয়। কিন্তু দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জমতে থাকে এক অন্যরকম সাড়া—কেউ নিজের গল্প খুঁজে পেয়েছেন, কেউ হারিয়ে যাওয়া অনুভূতিকে আবার ছুঁয়ে দেখেছেন।
গোলাম সারওয়ার অনিকের গল্প আর রাফাত মজুমদার রিংকুর নির্মাণে এই নাটকটি খুব চেনা এক পৃথিবীর দরজা খুলে দেয়। এখানে বড় কোনো নাটকীয়তা নেই, নেই চমক দেখানোর তাড়া—আছে শুধু সম্পর্কের নরম টানাপোড়েন, অপ্রকাশিত কথা, আর জীবনের ছোট ছোট সুখের নিঃশব্দ উপস্থিতি। সেই পরিচিতির ভেতরেই দর্শক যেন নিজের প্রতিচ্ছবি দেখতে পান।
ফারহান আহমেদ জোভান এবং তানজিম সাইয়ারা তটিনীর অভিনয় যেন গল্পটাকে শুধু বলা নয়, অনুভব করিয়েছে। অনেক দর্শকের কাছে তাদের চরিত্র দু’টি পর্দার কেউ নয়, বরং খুব কাছের মানুষ—যাদের হাসি, চুপ থাকা, কিংবা চোখের ভাষা আলাদা করে ব্যাখ্যা করতে হয় না।
দর্শকের প্রতিক্রিয়াগুলোও যেন কোনো মন্তব্য নয়, বরং একেকটি অনুভূতির টুকরো। কেউ লিখেছেন, ‘শেষ হওয়ার পরও মনটা ঠিক স্বাভাবিক হয়নি।’ কেউ বলেছেন, ‘মনে হচ্ছিল নিজের গল্পটাই দেখছি।’ আবার কেউ স্বীকার করেছেন, পরিবারের সঙ্গে বসে দেখার সময় চুপচাপ চোখ মুছতে হয়েছে।
এই নাটকের বিশেষত্ব হয়তো এখানেই—এটি আবেগকে জোর করে তৈরি করে না, বরং ধীরে ধীরে সেই জায়গায় পৌঁছে দেয়, যেখানে দর্শক নিজেই নিজের ভেতরের কথাগুলো শুনতে পান। ছোট ছোট মুহূর্ত, খুব সাধারণ সংলাপ, আর অদৃশ্য কিছু অনুভূতি মিলেই গড়ে উঠেছে এক নরম আবহ—যা শেষ হওয়ার পরও রয়ে যায়।
নির্মাতা রাফাত মজুমদার রিংকুও যেন সেই অনুভূতির কথাই বলেছেন। তার ভাষায়, ‘আমরা খুব সাধারণ একটা গল্প বলতে চেয়েছিলাম। এমন কিছু, যা মানুষের জীবনে প্রতিদিনই ঘটে—কিন্তু হয়তো খেয়াল করা হয় না। দর্শক সেটাকে অনুভব করছেন, এটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জানতাম, বড় আয়োজনের ভিড়ে এই গল্পটা হয়তো খুব চুপচাপ থাকবে। কিন্তু বিশ্বাস ছিল—যদি গল্পটা সত্যি হয়, তাহলে সেটা মানুষের মনে জায়গা করে নেবে। এখন যে সাড়া পাচ্ছি, তাতে মনে হচ্ছে সেই বিশ্বাসটাই ঠিক ছিল।’
‘এক মুঠো সুখ’ শেষ হয়ে যায়, কিন্তু তার অনুভূতি থেকে যায়—দর্শকের ভেতরে, নিঃশব্দে। আর ঠিক এই জায়গাতেই এটি কেবল একটি নাটক থাকে না, হয়ে ওঠে এক টুকরো ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা।

বিনোদন ডেস্ক