১ কোটি দর্শকের মনে ‘এক মুঠো সুখ’, যা বলছেন জোভান-তটিনী
ঈদের আয়োজনের ভিড়ে কিছু গল্প আসে, কিছু হারিয়ে যায়। কিন্তু কিছু গল্প থেকে যায় দর্শকের অনুভূতির ভেতরে। তেমনই এক গল্প ‘এক মুঠো সুখ’—যা এখন শুধু একটি নাটক নয়, হয়ে উঠেছে দর্শকের আবেগের অংশ।
মাত্র এক মাসেই নাটকটি ছুঁয়েছে ১ কোটির মাইলফলক। শুরুটা ছিল নীরব, বড় কোনো প্রচারণা বা আলোচনার ভিড় ছাড়াই। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে বাড়তে থাকে প্রতিক্রিয়া—কেউ নিজের জীবনের গল্প খুঁজে পান, কেউ আবার হারিয়ে যাওয়া অনুভূতিকে নতুন করে ছুঁয়ে দেখেন।
গোলাম সারওয়ার অনিকের গল্প ও রাফাত মজুমদার রিংকুর নির্মাণে তৈরি এই নাটকটি তুলে ধরেছে খুব চেনা জীবনের গল্প। বড় কোনো নাটকীয়তা নয়, বরং সম্পর্কের নরম টানাপোড়েন, না বলা কথা আর ছোট ছোট সুখের মুহূর্তই এর মূল শক্তি।
অভিনয়ে ফারহান আহমেদ জোভান ও তানজিম সাইয়ারা তটিনী চরিত্রগুলোকে বাস্তবতার খুব কাছাকাছি নিয়ে গেছেন। দর্শকের কাছে তাদের চরিত্র যেন আলাদা কেউ নয়, বরং খুব পরিচিত মানুষ—যাদের হাসি, নীরবতা আর চোখের ভাষা অনেক কিছু বলে দেয়।
জোভান বলেন, ‘এই নাটকের গল্প আমাকে অনিক প্রায় এক বছর আগে শোনান। তখনই কাজটি করতে আগ্রহী হই এবং গল্পটি রেখে দিতে বলি। পরে রিংকু ও এনটিভি গল্পটি শোনার পর আগ্রহী হয়। আমাদের এখানে এমন গল্প খুব বেশি হয় না, তাই কাজটি নিয়ে আমি বেশ আগ্রহী ছিলাম। দর্শকের ভালোবাসা দেখে ভবিষ্যতে এমন গল্পে কাজ করার আগ্রহ আরও বেড়েছে।’
তটিনী বলেন, ‘গল্পটা আমাকে জোভান ভাই আগেই শোনান। দারুণ গল্প বলেই আমি আগ্রহী ছিলাম। দর্শক যেভাবে গ্রহণ করেছেন, এমন গল্প আরও বেশি হওয়া দরকার।’
নির্মাতা রাফাত মজুমদার রিংকু বলেন, ‘আমরা খুব সাধারণ একটা গল্প বলতে চেয়েছিলাম, যা মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। দর্শক সেটাকে অনুভব করছেন, এটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জানতাম বড় আয়োজনের ভিড়ে এই গল্পটা হয়তো নীরবে থাকবে। কিন্তু বিশ্বাস ছিল, গল্পটা যদি সত্যি হয়, তাহলে সেটা মানুষের মনে জায়গা করে নেবে। এখন সেটাই বাস্তব মনে হচ্ছে।’
শেষ হয়ে গেলেও ‘এক মুঠো সুখ’ রয়ে গেছে দর্শকের ভেতর—নীরবে, অনুভূতির জায়গায়। আর সেখানেই এটি শুধু একটি নাটক নয়, হয়ে উঠেছে এক টুকরো ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা।

বিনোদন ডেস্ক