যেভাবে কাটছে সজলের করোনার দিনগুলো
করোনাভাইরাসের প্রকোপে টালমাটাল বিশ্ব। বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। জীবন বাঁচাতে ঘরে অবস্থান করছেন বেশিরভাগ মানুষ। দেশে দেশে চলছে লকডাউন। এরই মধ্যে ৪০ দিনেরও বেশি হলো নিজেকে ঘরবন্দি করে রেখেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা আব্দুন নূর সজল। তো কীভাবে কাটছে, এই তারকা দিন?
শুনুন সজলের কথায়
গত ১৬ মার্চ থেকে পুরোপুরি ঘরবন্দি। আলহামদুলিল্লাহ, এখনো পর্যন্ত বিরক্ত হইনি। দিনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৮-১০ ঘণ্টা তো ঘুমের মধ্যে কাটে। বাকি থাকে ১৪ ঘণ্টা। এই সময়টা কীভাবে কাটানো যায়, তা ভেবে একটা শিডিউল তৈরি করে নিয়েছি। সকাল-সকাল ঘুম থেকে উঠে যাই। ফজরের নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে দিন শুরু করি। ছোটবেলা থেকেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার অভ্যাস। সেই সঙ্গে ছোট ছোট কিছু বিষয় যুক্ত করে নিয়েছি। যেমন আল্লাহর নিরানব্বইটা নাম মুখস্থ করেছি। এসব নামে অনেক ফজিলত। প্রতিদিন যদি এ নামগুলো জপি, তাতে সময়টাও ভালো কাটে। সেই সঙ্গে আল্লাহর শুকুর-গুজারও হয়।
তারপর ছাদে চলে যাই। সকালটা যে কী সুন্দর তা ভাবা যায় না! ঠাণ্ডা বাতাস, বুক ভরে শ্বাস নেওয়ার মতো পরিবেশ। সেখানে এক ঘণ্টার মতো হাঁটাহাঁটি করি। ছাদে বাবা বাগান করেছেন। বাবার বয়স হয়েছে, তাই তিনি এখন ছাদে কম যান। আপাতত এসব গাছের যত্ন-আত্তি আমিই করছি। ছাদ থেকে ফিরে নাশতা করি।
বাসার কাজের লোককে ছুটি দিয়েছি। এ অবস্থায় মার পক্ষে সব কাজ করা সম্ভব নয়। এ জন্য বাসার সব কাজ ভাগ করে নিয়েছি। প্রতিদিন বাসার সব কটা ঘর থেকে শুরু করে সিঁড়ি পর্যন্ত জীবাণুনাশক দিয়ে মোছার কাজটিও করছি। ঘর মোছার কাজ আমার কাছে কঠিন লাগছে না। কারণ এখন মোছার জন্য নানা ধরনের জিনিস বাজারে পাওয়া যায়। যা-ই হোক, এখানেও এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় চলে যায়। তারপর জিম করি, রান্না করি। এরপর শাওয়ার নিয়ে নামাজ ও দুপুরের খাবার খাই। রান্নার কাজ আসলে আমি একদমই পারতাম না। এখনো পারি না। তবে ইউটিউব ঘেঁটে কিছু রান্না শিখেছি। খুব বেশি শেখা হয়নি। গত শবেবরাতে সুজির হালুয়া তৈরি করেছিলাম। মোটামুটি হয়েছিল। প্রতিদিন আলু ভর্তা বানাতে বানাতে এটা এখন ভালো পারি। আলু-ডিম একসঙ্গে ভর্তা করার ফরম্যাট জানা ছিল না। এটাও শিখেছি। এখন প্রতিদিনই আলু ভর্তা খাচ্ছি। অনলাইনে একটা ড্যান্স ক্লাসে যুক্ত হয়েছি। ওখানে প্রতিদিন বিভিন্ন ফরম্যাটের ড্যান্স শিখছি। খাবার খাওয়ার পর অল্প সময় ঘুমাই। ঘুম থেকে উঠে সবার জন্য চা তৈরি করি। ছোটবেলা থেকেই আমি ‘চা-খোর’। তাই চা ভালো বানাই। আবার খুব যে ভালো বানাই তা-ও বলব না। তবে পরিবারের সবাই খুব তৃপ্তি নিয়ে পান করেন।
বিকেলে আবার ছাদে যাই। আধা ঘণ্টার মতো হাঁটাহাঁটি করি। তবে সন্ধ্যা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাসায় চলে আসি। ছোটবেলায় সন্ধ্যার পর ঘরে ফিরেই পড়াশোনায় মন দিতে হতো। এখন একই কাজ করছি, অনেকটা ছোটবেলার ফিলিংস হচ্ছে। ছোটবেলা থেকেই বই পড়ার অভ্যাস। গল্পের বইয়ের পাগল ছিলাম। পাঠ্যবইয়ের নিচে গল্পের বই লুকিয়ে রেখে পড়তাম। কারণ একাডেমিক পড়া বাদ দিয়ে গল্পের বই পড়লে মায়ের কাছে বকুনি খেতে হতো। তখন ভালো রেজাল্ট করলে উপহার হিসেবে বই দেওয়া হতো। পাশাপাশি থিয়েটারের নাটক দেখাতে নিয়ে যেত। নাগরিকের ‘দেওয়ান গাজীর কিসসা’ নাটকটি বাইশবার দেখেছিলাম।
‘নন্টেফন্টে’ পড়ার পর শুরু করি রাকিব হাসানের বই। এরপর মাসুদ রানা। তারপর হুমায়ূন আহমেদ পড়া শুরু করি। হুমায়ূন আহমেদ পড়ার পর তো পাগল হয়ে গেলাম। মজার ব্যাপার হলো—তখন থেকে যেসব বই কিনেছি, তার সবই আমার সংগ্রহে রয়েছে। সবমিলিয়ে আমার কাছে ভালো একটা কালেকশন আছে। এই বইগুলো নতুন করে পড়ার সুযোগ হচ্ছিল না। সেই সুযোগ আবার পেয়েছি। প্রতিদিন মাগরিবের নামাজ পড়ে লাইব্রেরিতে ঢুকে যাই। ওখানে এক থেকে দেড় ঘণ্টা বই পড়ি। এরপর পরিবারের সবাই মিলে বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে অন্তর্জাল কিংবা মুঠোফোনে কথা বলি, গল্প করি। আমার ভাইবোন দেশের বাইরে থাকে। বোন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে রয়েছে। সন্ধ্যার পর পরিবারের সবাই মিলে ভাইবোনের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলি। ওদের নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তার মধ্যেও রয়েছি। এখন ওপরওয়ালাই ভরসা!
ঘরে থেকে আবার সংবাদ দেখার একটা প্রবণতা বেড়ে গেছে। আগে পত্রিকা পড়া, টিভিতে খবর দেখা নিয়ম করে হতো। সেই প্রবণতা আবার বেড়ে গেছে। এরপর সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ি। আবার সেহরির সময় উঠে সেহরি করা হয়। বলা যায়, এ কাজগুলো করতে করতে সময়ই পাচ্ছি না। পরিবারের সঙ্গে ব্যস্ত সময় কাটছে। এতে খারাপ লাগছে না। পরিবারের মানুষকে সময় দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, তা নতুন করে উপলব্ধি করতে পেরেছি।

বিনোদন প্রতিবেদক