‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শনী বন্ধের দাবির নিন্দা, সাংস্কৃতিক সেন্সরশিপের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড কর্তৃক সনদপ্রাপ্ত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর প্রদর্শনী বন্ধের দাবির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ‘চলচ্চিত্র সংস্কার রোডম্যাপ’। সংগঠনটি বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি দাবি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি চলচ্চিত্র সংসদের পূর্বনির্ধারিত প্রদর্শনীকে ঘিরে যেভাবে বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও উসকানিমূলক।
বিবৃতিতে বলা হয়, একটি আইনসম্মত ও সনদপ্রাপ্ত শিল্পকর্মের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক আবেগ ব্যবহার করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি চলচ্চিত্রের সমালোচনা নয়; বরং ভয়ভীতি সৃষ্টি, ধর্মীয় ব্যাখ্যার অপব্যবহার এবং রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে একটি সাংস্কৃতিক চাপ তৈরির চেষ্টা।
‘চলচ্চিত্র সংস্কার রোডম্যাপ’ আরও জানায়, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের অনুমোদনপ্রাপ্ত কোনো চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বাধাগ্রস্ত করা আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি চ্যালেঞ্জ। সংগঠনটির মতে, ভিন্নমত প্রকাশ গণতান্ত্রিক সমাজে স্বাভাবিক হলেও, প্রদর্শনী বন্ধের দাবি ও চাপ প্রয়োগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, এই ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক পরিসরে একটি ‘সমান্তরাল চাপের সংস্কৃতি’ তৈরি করার চেষ্টা চলছে, যেখানে নির্ধারণ করা হবে কোন গল্প বলা যাবে এবং কোন শিল্প দেখানো যাবে।
সংগঠনটি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানায়, যেন সনদপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বাধাহীনভাবে নিশ্চিত করা হয় এবং আইনবহির্ভূত কোনো চাপকে প্রশ্রয় না দেওয়া হয়।
শেষে ‘চলচ্চিত্র সংস্কার রোডম্যাপ’ জানায়, তারা চলচ্চিত্রশিল্পের সৃজনশীল স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ়ভাবে অবস্থান অব্যাহত রাখবে এবং এ বিষয়ে নীরবতা না থাকার আহ্বান জানাচ্ছে।

বিনোদন ডেস্ক