সারা দেশে দেখানো হবে পদ্ম পাতার জল
ক্যারিয়ারে নাকি আর কোনো ছবির জন্য ইমন এমন ঘাম ঝরিয়ে প্রচারণা করেননি! দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়সহ অজস্র জায়গায় গিয়েছেন। ঈদের দিন ও ছবি মুক্তির পর বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে গেছেন ছবিটি কেমন লাগছে দর্শকদের, তা সরাসরি জানতে। এই প্রচারণায় ইমনের পাশে সব সময়েই থেকেছেন ছবির নায়িকা বিদ্যা সিনহা মিম।
গতকাল ময়মনসিংহ থেকে ফিরে ইমন বলেন, ‘মানুষের উৎসাহ দেখে অভিনয়ের প্রতি আরো দায়িত্ব বেড়ে গেল। হলের মালিকের সাথে কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন অনেক দিন পর সিনেমা হলে যে ধরনের দর্শক এসেছে যে তাঁদের সেল বেড়ে গিয়েছে। খবর নিয়ে জেনেছি ময়মনসিংহের ডিসি, এসপি, শিক্ষক, ছাত্র সবাই ছবিটি দেখেছেন। মেডিকেলের কিছু শিক্ষার্থী আমাদের বলেছেন যে এ ধরনের ছবির জন্য তাঁরা বছরের পর বছর অপেক্ষা করেন। ছবিটি তাদের ভালো লেগেছে। আসলে আমরা দর্শকদের কাছ থেকে যে ধরনের উৎসাহ আশা করেছিলাম, সেটা পাচ্ছি। বাংলাদেশের সবাইকে ছবিটি দেখাতে পারলেই আমরা সার্থক।’
এর আগে ইমন গিয়েছিলেন নিজের জেলা নরসিংদীর মমতা সিনেমা হলে। এখানে ঈদের দিন থেকে চলছে ‘পদ্ম পাতার জল’। ছবির নায়িকা মিমকে পাশে নিয়ে গত শুক্রবার তিনি গিয়েছিলেন মমতায়। আর গতকাল এলেন ময়মনসিংহ থেকে। সঙ্গে ছিলেন ছবির চিত্রনাট্যকার লতিফুল ইসলাম শিবলী। তিনি বললেন, ‘আমরা আসলে বাংলাদেশের দর্শকদের আবারও সিনেমা হলে ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিলাম। একসঙ্গে একশ হলে ছবি মুক্তি দিয়ে তিন সপ্তাহ পরে ছবি ফেলে দেওয়ার জন্য আমরা ছবিটি বানাইনি। আমাদের ইচ্ছা এই ছবিটি বছরজুড়ে দর্শক দেখুক। মুক্তির আগে আমরা বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে গিয়েছি, ছাত্রছাত্রীদের সাথে কথা বলেছি। আমার তো মনে হয়, বাংলাদেশের অনেক ছবিই তাদের সামনে যাওয়ার সাহস রাখে না। একসময় সপরিবারে মানুষ ছবি দেখত, আমরা তাঁদের জন্য ছবি বানিয়েছি। তাদের অনেকেই এই ছবি দেখছে। একদিনে আমরা সবাইকে হলে ফিরিয়ে আনতে পারব না। হাতে গোনা কয়েকজন মানুষের কারণে আজ আমাদের চলচ্চিত্রের এই অবস্থা। দেখা যায়, একটা সময় প্রযোজক নিজেই নায়ক হয়ে পরিচালনাও করছেন। যা মনে চায়, তাই করেছেন, আর এর ফল ভোগ করছে দেশের মানুষ। বিনোদনের সবচেয়ে বড় মাধ্যমের প্রতি আমাদের একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে। আমরা এই দূরত্বটাই কমাতে চাই। তবে আমরা এখন পর্যন্ত সার্থক, কারণ যে কয়েকটা হলে আমাদের ছবি মুক্তি পেয়েছে সেখানে সবাই ছবিটি দেখছে।’
শুধু তাই নয়, যেসব জায়গায় সিনেমা হলের সুবিধা নেই, সেখানে বিকল্প প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করার কথা জানালেন তিনি। বাংলাদেশের অনেক জায়গায় এখন সিনেমা হলও নেই যে মানুষ ছবি দেখবে। আমরা তাঁদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করেছি। প্রজেকশনের মাধ্যমে আমরা সারা দেশে এই ছবি প্রদর্শনের ব্যবস্থা করব।’

মাজহার বাবু