হরর-রাজের বিদায়
হরর ছবির ভক্তদের জন্য ‘স্ক্রিম’, ‘দ্য হিলস হ্যাভ আইজ’, ‘দ্য লাস্ট হাউস অন দ্য লেফট’, ‘এ নাইটমেয়ার ইন এলম স্ট্রিট’ ছবিগুলোর নাম খুবই পরিচিত। পিলে চমকে দেওয়া এই ছবিগুলোর নির্মাতা ওয়েস ক্র্যাভেনকে এ সময়ের ‘মাস্টার অব হরর’ বলা হয়ে থাকে। মানুষকে ভয়ের আনন্দ-অনুভূতি উপহার দিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাওয়া এই মার্কিন পরিচালক গতকাল 30 আগস্ট মারা গেছেন ৭৬ বছর বয়সে। হররবিষয়ক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ব্লাডি ডিসগাস্টিংয়ে ওয়েসকে এই গুণী পরিচালককে শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি সম্পাদকীয় লিখেছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষক জেস হিকস। নিচে সেটিরই অনুবাদ দেওয়া হলো।
আমার এক বন্ধু হলিউড রিপোর্টারের একটি খবরে আমাকে ট্যাগ করে জানাল এই দুঃসংবাদ। ৭৬ বছর বয়সে মারা গেছেন হরর চলচ্চিত্র নির্মাতা ওয়েস ক্র্যাভেন। কালপ্রিটের নাম- ব্রেন ক্যান্সার। আমার খবরটা শুনেই শরীরে এক ধরনের কাঁপুনি ভর করল, পেটের মধ্যে পাক দিয়ে উঠল, টলে উঠল যেন পুরো দুনিয়া। আমি তাড়াতাড়ি করে খবরে ক্লিক করলাম এই আশায় যে নিশ্চয়ই এটা লোক ঠকানো কোনো একটা ঠাট্টা, কোনো ধোঁকা। কিন্তু না, এটা সত্যি। আমি বুঝতে পারলাম, আমার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল।
যা হোক, আমি একেবারে যে কান্নায় ভেঙে পড়েছি তা না, কিন্তু সন্ধ্যে থেকে অনেকবারই আমার নিজেকে ভেঙে পড়া থেকে সামলে নিতে হয়েছে। কিন্তু আমি এতটা কষ্ট কেন পেয়েছি, কেন এত আপসেট আমি? আমি সামনাসামনি কখনো ওয়েসের সঙ্গে কথা বলিনি, আমার তাঁর সঙ্গে কোনো ধরনের পরিচয়ও সেভাবে নেই (দুঃখের বিষয়, সেই সুযোগও আর আমার কখনো মিলবে না); তবু আমার বুকের ভেতরটা যেন দুমড়ে গেছে।
অনেকের মত, ‘এ নাইটমেয়ার ইন এলম স্ট্রিট’ ছিল আমার হরর-জগতে প্রবেশের চাবিকাঠি। আমার বন্ধুরা এখনো হাসাহাসি করে যখন এ ছবিটা দেখে যখন আমি ভয়ে কুঁকড়ে গিয়ে বালিশের মধ্যে সেঁধিয়ে গিয়েছিলাম, সেই সব দিনের কথা মনে করে। বয় আমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জাপটে ধরেছিল। বডি ব্যাগের ভেতরে টিনার রক্তশূন্য মুখাবয়ব, ন্যান্সির ওপর রবার্ট ইংলান্ডের আগ্রাসন, জনি ডেপের মুখাবয়ব ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়া... এই দৃশ্যগুলো তো আমি কখনোই ভুলতে পারব না। ১০ বছরের সেই ছোট্ট আমাকে ভয়ের জগতে প্রবেশ করিয়েছিলেন ওয়েস ক্র্যাভেন, আজ আমি তাঁর জন্য কাঁদছি।
বড় হয়ে ক্র্যাভেনের আরো ভয়ংকর কিছু হরর ছবি দেখেছি, যার মধ্যে ‘দ্য লাস্ট হাউস অন দি লেফট’ আর ‘দ্য হিলস হ্যাভ আইজ’-এর কথা বলতে হয়। ঠিক যেমন ছবি বানাতে তিনি পছন্দ করতেন, সব সময় তেমনভাবেই ছবি বানানোর স্পর্ধা তিনি সব সময়ই দেখাতে পেরেছিলেন। নতুন হিসেবে কাজ করার সুযোগটা ক্র্যাভেন পেয়েছিলেন এবং সেখান থেকেই তিনি একজন কিংবদন্তীয় নির্মাতা হয়ে উঠতে পেরেছিলেন, যিনি কখনোই ঘরানা বদলে ফেলতে ভয় পেতেন না, এমনকি ভুল করার ব্যাপারেও এতটুকু চিন্তিত ছিলেন না!
শান্তিতে থাকুন ওয়েস, আমি আর কিছু বলতে পারছি না।

সামি আল মেহেদী