বাংলা না জানায় ঝগড়া করতে পারছেন না অভিষেক
বাংলা ভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলতে না পারাটাই এখন জীবনের সবচেয়ে বড় ‘বিপদ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে অভিষেক বচ্চনের জন্য। বাংলা না জানার কারণে স্ত্রী ঐশ্বর্যকে সামাল দিতে এখন তাই রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁকে। কোনোমতেই স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে পেরে উঠছেন না অভিষেক। ঝগড়া বাঁধলেই শাশুড়ি জয়া বচ্চনের সঙ্গে জোট বেঁধে ফেলছেন ঐশ্বর্য। আর তার পরেই শাশুড়ি-বউমা মিলে অনবরত বাংলায় কথা বলতে শুরু করে দিচ্ছেন। ফলে অগত্যা ঝগড়ার মাঝপথেই থেমে যেতে হচ্ছে অভিষেক বচ্চনকে। সম্প্রতি নিজেই বচ্চন বাড়ির এই হাঁড়ির খবর ফাঁস করেছেন অভিষেক। তিনি বলেন, আমাদের বাড়ির সকলেই বাংলা বলতে পারেন। তবে অভিষেক বাংলাটা বলতে না পারলেও বুঝতে পারেন। বাংলা বলতে না পারায় তৈরি হচ্ছে যত সমস্যা।
মা আর স্ত্রীর কাছে জব্দ অভিষেক বলেন, “আমার বাবা অমিতাভ বচ্চন দীর্ঘদিন বাংলায় থাকার সুবাদে বাংলা ভাষায় দিব্যি কাজ চালিয়ে নিতে পারেন। আর আমার মা জয়া বচ্চন তো নিজেই একজন বাঙালি। ফলে বাংলা ভাষা তাঁর মজ্জাগত। অন্যদিকে ঐশ্বর্য ঋতুপর্ণ ঘোষের ছবি ‘চোখের বালি’তে কাজ করার সময় বাংলা শিখে গেছেন। তার ওপর বিয়ের পর বাঙালি শাশুড়িকে পেয়ে বাংলায় আরো সড়গড় হয়ে পড়েছে সে।’ কিন্তু অভিষেক বাংলা ছবিতে কাজ করলেও বাংলাটাকে এখন পর্যন্ত ভালোভাবে রপ্ত করতে পারেননি। ফলে সমস্যা বেধেছে এখানেই। ঐশ্বর্যর সঙ্গে ঝগড়া জমে উঠতে না উঠতেই মাঝপথে থেমে যেতে হচ্ছে তাঁকে। উল্টো ঝগড়ার বেশিরভাগ দায়টাও কাঁধে এসে চাপছে অভিষেকের ওপর। কারণ, ঝগড়া শুরু হতেই ঐশ্বর্য সোজা শাশুড়ি জয়া বচ্চন কিংবা শ্বশুর অমিতাভ বচ্চনের কাছে গিয়ে ইনিয়ে-বিনিয়ে বাংলায় অভিষেকের নামে নালিশ জানিয়ে ফেলছে। আর সেই নালিশ খণ্ডন করার মতো বাংলা না জানায় অভিষেকের বাধছে বিপত্তি। তার ওপর অভিষেকের ঝগড়াকে পাত্তা না দিয়ে শাশুড়ি-বউতে গল্পও জুড়ে দিচ্ছে বাংলাতে। ফলে নিজের মাথার চুল ছিঁড়ছেন অভিষেক।
আসলে আর পাঁচটা পরিবারের মতোই অভিষেক-ঐশ্বর্যর মধ্যেও ঝগড়া বাধে। এতে অবশ্য অবাক হওয়ার কিছুই নেই। কিন্তু সেই ঝগড়া জমে ওঠার আগেই শাশুড়ি-বউ এক হয়ে বাংলায় একনাগাড়ে কথা বলতে শুরু করলে বাধ্য হয়েই থেমে যান অভিষেক বচ্চন।

মনোজ বসু, কলকাতা