ফিল্মফেয়ারের সাক্ষাৎকার
আমি শহিদকে খুবই পছন্দ করি : আলিয়া ভাট
আলিয়া ভাটের অভিষেক ঘটেছিল অনেকটা টিনএজ স্টার হিসেবে। ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’ ছবিতে অবশ্য শিশুতোষ আচরণের কিচ্ছুটি টের পেতে দেননি মহেশ ভাটের কনিষ্ঠ কন্যা। সহজেই বুঝিয়ে দিয়েছেন, বলিউড অনস্ক্রিনে তাঁর চলাফেরা লম্বা সময়ের জন্যই হতে যাচ্ছে। এর পর রন্দীপ হুডার বিপরীতে ‘হাইওয়ে’ ছবিতে প্রশংসিত হয়েছেন অভিনয়ের জন্য। ক্যারিয়ারে একে একে যোগ হয়েছে দর্শকনন্দিত এবং সফল কয়েকটি ছবি। কয়েক দিন আগে শহিদ কাপুরের সঙ্গে মুক্তি পেয়েছে তাঁর নতুন ছবি ‘শানদার’। এই বিগ বাজেট ছবিটি নিয়ে ভালোই আলোচনা হয়েছে বহু দিন থেকে। বি টাউনের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ফিল্মফেয়ারের মুখোমুখি হলেন আলিয়া, ‘শানদার’ ছাড়িয়ে কথা বলেছেন আরো অনেক কিছু নিয়ে।
ফিল্মফেয়ার : ‘শানদার’ ছবিতে আপনার চরিত্র সম্বন্ধে কিছু বলুন।
আলিয়া : এই ছবিটা রোমান্স, কমেডি আর হাসিঠাট্টায় জমজমাট। পুরো ছবির পরিবেশই এমন যে সবাই সেখানে পাগলাটে, কিন্তু কেউই ব্যাপারগুলো ঠিক প্রকাশ করতে চায় না। ছবির সবই ‘শানদার’!
অনেকটা ফ্যান্টাসি আর রূপকথার মতোও বলতে পারেন। আমি বাস্তব জীবনেও এমনটাই পছন্দ করি। আলিয়ার এক বিচিত্র, অদেখা রূপই দেখতে পাবেন এই ছবিতে।
ফিল্মফেয়ার : পরিচালক হিসেবে বিকাশ ভ্যালকে কেমন বলবেন?
আলিয়া : শুটিং সেটে বিকাশ তো যেন ছোট্ট একটা বাচ্চা! সে ডিরেক্টর হয়ে বেজায় খুশি, ক্যামেরার পেছনে চঞ্চল, পরিস্থিতিগুলো নিজের করে নেয়, সৃষ্টি করে। ওর চিন্তাভাবনা বিচিত্র। ওর চিন্তার সঙ্গে পাল্লা লাগিয়ে আপনি টিকতে পারবেন না, আর এটাই হলো বিকাশ! কয়েক দিন আগেই আমাকে দু-তিনটে আইডিয়া বলল। ওর চিন্তাভাবনা সব সময়ই আউট অব দ্য বক্স। ‘শানদার’ ছবিতেও ব্যাপারগুলো এমনই। বিকাশ আনন্দকে উদযাপনের চেষ্টা করে সব সময়। যেকোনো পরিস্থিতিতেই ও আনন্দ খুঁজে নিতে চায়। জীবন একটাই, ভালো করে বাঁচো—এমনটাই বিশ্বাস করে বিকাশ।
ফিল্মফেয়ার : শহিদ কাপুরের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
আলিয়া : আমি শহিদকে খুবই পছন্দ করি। খুবই ভালোবাসি। আমরা দারুণ ঘনিষ্ঠ। সে মেধাবী এবং পরিশ্রমী অভিনেতা। সে কাজের বিষয়ে খুবই স্বতঃস্ফূর্ত, আগ্রহী। ও ১২ বছর ধরে এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছে, কিন্তু একবারের জন্যও আমাকে এ রকম বোঝায়নি যে ও অনেক সিনিয়র অভিনেতা।
ফিল্মফেয়ার : চ্যালেঞ্জিং সব রোলে কাজ করেছেন আপনি? ব্যাপারগুলো কীভাবে দেখেন?
আলিয়া : কাজে যদি চ্যালেঞ্জ না থাকে, তাহলে সেটা বোরিং হয়ে যায়। শহিদের সঙ্গে নাচানাচি বা ছবিতে বিকিনি পরাটা চ্যালেঞ্জ ছিল। আমি খুব একটা ভালো নাচি তা নয়, মোটামুটি নাচ পারি আর কী!
কিন্তু শহিদ হলো পারফেক্ট। কাজেই ওর সঙ্গে নাচার জন্য আমার নিজেকে নিয়ে যথেষ্ট কাজ করতে হয়েছে। ‘গুলাবো’ গানটার জন্যও আমাকে বেশ খাটতে হয়েছে। ‘উড়তা পাঞ্জাব’ও বেশ চ্যালেঞ্জিং কাজ।
এই বাধাগুলো আমি অতিক্রম করার চেষ্টা করেছি।
ফিল্মফেয়ার : সানা কাপুরকে কেমন লাগল এই ছবিতে?
আলিয়া : সানা তো দারুণ! প্রথম ছবি হিসেবে খুব ভালো কাজ করেছে। পংকজ স্যার আর সানা আমার কাছে খুবই আপন ছিলেন, একেবারেই পরিবারের মতো। লন্ডনে একদিন আমাদের মনে হলো, ঘরের খাবার খেতে পেলে কী ভালোই না হতো! তখন পংকজ স্যার আমাদের সবার জন্য ছোলার আইটেম রেঁধেছিলেন!
ফিল্মফেয়ার : আপনি একজন সফল অভিনেত্রী। এমন কোনো বিষয় রয়েছে যেখানে আপনি মনে করেন, আপনার উন্নতি করা দরকার?
আলিয়া : অনেক ব্যাপারে আমার উন্নতি করতে হবে। ‘উড়তা পাঞ্জাব’-এ আমাকে একদম শুদ্ধ, পরিশীলিত এবং ভালো হিন্দি বলতে হবে। এ ব্যাপারটার সঙ্গে আমি অভ্যস্ত নই। সে সঙ্গে একেবারেই মেয়েলি, নারীসুলভ আচরণ করতে হবে। আমার আরো পরিশ্রম করতে হবে। আমার বডি ল্যাঙ্গুয়েজেও উন্নতি করতে হবে। নাচেও আমার আরো পারদর্শিতা অর্জন করতে হবে।
ফিল্মফেয়ার : সমালোচনাকে কীভাবে নেন?
আলিয়া : এটা খুবই দরকারি, তবে মাপমতো, একটু কম!
ফিল্মফেয়ার : আপনার প্রিয় সহ-অভিনেতা কে?
আলিয়া : অবশ্যই শাহরুখ খান!
ফিল্মফেয়ার : কোন কোন অভিনেতার সঙ্গে কাজ করতে চান?
আলিয়া : আমির খান, সালমান খান ও জর্জ ক্লুনি।
ফিল্মফেয়ার : ইন্ডাস্ট্রিতে আপনার প্রিয় বন্ধু কে?
আলিয়া : অয়ন মুখার্জি ও অভিষেক বর্মণ।

সামি আল মেহেদী