‘থ্রি ইডিয়টস’ বানানোর সময় সোনম ওয়াংচুককে চিনতাম না : আমির খান
ভারতীয় সিনেমা ‘থ্রি ইডিয়টস’ মুক্তির পর থেকেই দর্শকদের একাংশের ধারণা ছিল, র্যাঞ্চো বা ফুংসুখ ওয়াংড়ু চরিত্রটি প্রকৌশলী ও শিক্ষা সংস্কারক সোনম ওয়াংচুকের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত। তবে সেই ধারণা এবার সরাসরি নাকচ করেছেন আমির খান।
যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত ১৭তম লন্ডন-ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের সমাপনী অনুষ্ঠানে আমির বলেন, ‘থ্রি ইডিয়টস’ নির্মাণের সময় তিনি কিংবা সিনেমার চিত্রনাট্যকাররা কেউই সোনম ওয়াংচুক সম্পর্কে জানতেন না।
অনুষ্ঠানে এক দর্শক বলেন, সিনেমাটি সোনম ওয়াংচুকের কাজ থেকে অনুপ্রাণিত। জবাবে আমির বলেন, ‘এটি একটি ভুল ধারণা। আমরা যখন সিনেমাটি বানাচ্ছিলাম, তখন সোনম সম্পর্কে জানতাম না। সিনেমা মুক্তির পর বিষয়টি সামনে এলে সোনম নিজেও এটি পরিষ্কার করেছিলেন।’
সম্প্রতি সোনম ওয়াংচুকের চলমান আমরণ অনশনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ‘থ্রি ইডিয়টস’-এ চতুর চরিত্রে অভিনয় করা ওমি বৈদ্য একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, র্যাঞ্চো চরিত্রটি ওয়াংচুকের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত। তবে এ বিষয়ে আমির বলেন, ‘চতুরের দাবি ভুল।’
এর আগে সোনম ওয়াংচুকও এ প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছিলেন। তিনি জানান, সিনেমার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি বা তাঁর অনুমতি নেননি। তবে তিনি স্বীকার করেন, সিনেমা মুক্তির আগে ২০০৮ সালে এক অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে আমির খানের সাক্ষাৎ হয়েছিল।
ওয়াংচুকের দাবি, সেই সাক্ষাতে তিনি সিয়াচেন অঞ্চলের বাস্তবতা নিয়ে একটি সিনেমা নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আমির তাঁর কথা আগ্রহ নিয়ে শুনেছিলেন। পরে ‘থ্রি ইডিয়টস’ মুক্তির পর অনেকেই র্যাঞ্চো চরিত্রের সঙ্গে তাঁর মিল খুঁজে পান।
তবে ওয়াংচুক বলেন, শুরুতে তিনি এ নিয়ে কোনো আপত্তি তোলেননি। কারণ এতে ভুল বার্তা যেতে পারত। পরে কাহিনির স্বত্বসংক্রান্ত আইনি সময়সীমা শেষ হওয়ার পর তিনি নির্মাতাদের একটি চিঠি লিখে পুরো বিষয়টি জানান। তাঁর ভাষ্য, সেই চিঠির কোনো জবাব তিনি পাননি।

বিনোদন ডেস্ক