ফ্যামিলি মানে দুটো বাচ্চা, ঘরোয়া বর : প্রিয়া
‘আমার কাছে ফ্যামিলির অর্থ হলো দুটো বাচ্চা আর ঘরোয়া একটা বর। আর সেইসঙ্গে রেসপনসিবিলিটি এবং বিশ্বাস। তবে হ্যাঁ, আমার স্বপ্নের পুরুষটাকে কিন্তু হতেই হবে সালমান খানের মতো।’ হাসতে হাসতে সংবাদমাধ্যমের কাছে এমন ইচ্ছের কথাই জানালেন জি বাংলার ‘কোজাগরি’ মেগা ধারাবাহিকের দিয়া। আসল নাম প্রিয়া পাল। অবশ্য তাঁর একটা ডাকনামও রয়েছে। সেটা হলো ‘তাতন’।
কলকাতাসংলগ্ন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার নৈহাটি অঞ্চলের বাসিন্দা প্রিয়া। স্কুলজীবন থেকেই অভিনয়ের ইচ্ছেটাকে মনে মনে লালন করে চলেছিলেন। উচ্চ মাধ্যমিক দেওয়ার পর অভিনয়ের জন্য বিভিন্ন জায়গায় অডিশন দেওয়াও শুরু করে দেন। ২০০৮ সালে ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয় প্রিয়ার। জি বাংলায় ‘অসম্ভব’ নামে একটি মেগা ধারাবাহিকে প্রথম অভিনয়ের সুযোগ পান। প্রথম শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে জানালেন, ‘ফ্লোরে যাওয়ার অন্তত এক সপ্তাহ আগে থেকে ঠিকঠাক ঘুমোতে পারিনি। সিনিয়র অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সঙ্গে কীভাবে অভিনয় করব তাই নিয়ে টেনশনে পাগল হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। আর প্রথম দিন টেক দিতে গিয়ে সমস্ত ডায়ালগ ভুলে গিয়েছিলাম। বারো থেকে তেরোবার টেক নিতে হয়েছিল।’
বর্তমানে জি বাংলায় ‘কোজাগরী’ আর স্টার জলসায় ‘জলনূপুর’ ধারাবাহিকে অভিনয় করছেন প্রিয়া। তবে জনপ্রিয় ‘কোজাগরী’ ধারাবাহিকে দিয়ার চরিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গে কথায় কথায় জানালেন, ‘দিয়া হছে ওই ধারাবাহিকের দ্বিতীয় প্রধান চরিত্র। ধারাবাহিকের গল্প অনুযায়ী, দিয়াকে একটি আশ্রম থেকে সাহেবদার বাড়ির লোকেরা নিয়ে আসে। দিয়া প্রথম থেকেই সাহেবদাকে মনে মনে ভালোবাসে। কিন্তু সাহেবদা ওকে অন্য চোখে দেখে। এরপর সাহেবদার বিয়ে হয়ে যায়। আসলে এই পর্যন্ত দিয়া শান্ত স্বভাবের পজেটিভ একটা চরিত্র। কিন্তু সাহেবদার বিয়ের পরেই দিয়ার চরিত্রে অন্য একটি শেড ঢুকে যায়। নেগেটিভের দিকে এগোতে থাকে দিয়ার চরিত্র।’ অবশ্য এর বেশি আর ‘কোজাগরী’ ধারাবাহিকের গল্প নিয়ে মুখ খুলতে রাজি নন প্রিয়া।
অভিনয়জগতে আসা প্রসঙ্গে প্রিয়া বললেন, ‘প্রথম দিকে তো প্রচুর প্রবলেম হয়েছিল। পরে অবশ্য সবাই আমাকে সাপোর্ট দিয়েছেন।’ জিওগ্রাফির ছাত্রী প্রিয়া ছোটবেলা থেকেই কিন্তু বেশ দুষ্টু ছিলেন। নিজেই জানিয়ে দিলেন, ‘আমি বাড়িতে থাকলে পাড়ার লোক বুঝে যেত। দুষ্টুমিতে স্কুল থেকে সবাই আমাকে চিনত। কতবার যে দুষ্টুমির জন্য মার খেয়েছি, বকা খেয়েছি তার হিসাব নেই।’
ফিল্মি দুনিয়ায় পা রেখে আজ দর্শকদের কাছে বেশ সাড়া জাগালেও ঘর-সংসার, বিয়ে করার ভাবনা কিন্তু পুরোদমে রয়েছে তাঁর মধ্যে। জানিয়েছেন, ‘এখন তো প্রেম করছি। তবে তিন-চার বছরের মধ্যে অবশ্যই বিয়েটা সেরে ফেলব।’ তবে বিয়ের পর একটি সুন্দর সংসার গড়তে গেলে শুধু যে একটি মেয়েই সারাজীবন স্যাক্রিফাইস করবে এই তথ্যে বিশ্বাস করেন না প্রিয়া। তাঁর মতে, একটা সংসারে সবাইকে সমানভাবে স্যাক্রিফাইস করতে হয়। সবার সমবেত চেষ্টাতেই একটা সংসার ভালোভাবে চলে। আজ নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে যথেষ্ট খুশি প্রিয়া। বললেন, ‘এখন একটা ফ্রিডম আছে। যখন যাকে যা ইচ্ছে তাই কিনে দিতে পারছি। আমি ভীষণ শপিং করি। আর শপিং করতে করতে তো এক একসময় ব্যালান্স নীল হয়ে যায়।’
অভিনয়জীবনে পা রেখে দর্শকমনে সাড়া জাগালেও প্রিয়ার স্বপ্নের চরিত্র কিন্তু এখনো অধরা। বললেন, ‘কুইন-এ কঙ্কনা রানাউতের চরিত্রটা আমার স্বপ্নের চরিত্র।’ আর জন্মান্তরবাদে কিছুটা হলেও বিশ্বাসী প্রিয়া জানালেন, ‘মৃত্যুর পর পরজন্ম বলে যদি কিছু থাকে সেই জন্মে মানুষ হয়ে এবং অবশ্যই মেয়ে হয়েই জন্মাতে চাই।’
কাজের ফাঁকে অবসর সময়ে গান শুনে আর সিনেমা দেখেই সময় কাটে প্রিয়ার। প্রিয় সিনেমা ‘পথের পাঁচালী’। প্রিয় গায়ক সোনু নিগম। প্রিয় গায়িকা শ্রেয়া ঘোষাল। প্রিয় অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ, ইরফান খান। প্রিয় অভিনেত্রী শাবানা আজমি, নন্দিতা দাস। খেতে ভালোবাসেন বিরিয়ানি। আর সবয়চেয়ে প্রিয় ফুল গোলাপ। আর স্বপ্ন? বললেন, ‘সেটা বলব না। স্বপ্ন পূরণ করতে পারলেই বলব।’

মনোজ বসু, কলকাতা