শহীদুল ইসলামকে শেষ শ্রদ্ধা জানাল বিএফডিসি
বাংলাদেশে চলচ্চিত্র শিল্পের এক পরিচিত নাম শহীদুল ইসলাম খোকন। সোমবার তাঁর মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পরপরই শোকের ছায়া নেমে আসে চলচ্চিত্র অঙ্গনে। গুণী এই চলচ্চিত্র নির্মাতার প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয় আজ সকালে উত্তরার চার নম্বর সেক্টরের স্থানীয় মসজিদে।
এরপর শহীদুল ইসলাম খোকনের মৃতদেহ নেওয়া হয় তাঁর বহুদিনের কর্মস্থল বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন, বিএফডিসিতে। সেখানে জানাজায় উপস্থিত হন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন কুমার ঘোষ। প্রয়াত খোকনকে বিদায় জানাতে আরো উপস্থিত ছিলেন তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী মাসুদ পারভেজ (সোহেল রানা), অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামান, নায়ক আলমগীর, নায়ক রুবেল, অভিনেত্রী আনোয়ারা, নায়ক সায়মন, অভিনেতা আলীরাজ, অভিনেতা ড্যানি সিডাক, পরিচালক জাকির হোসেন রাজু, পরিচালক মুশফিকুর রহমান গুলজার, পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান প্রমুখ।
অভিনেতা ও প্রযোজক মাসুদ পারভেজের সহকারী হিসেবে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেছিলেন খোকন। দশ বছর ধরে তিনি মাসুদ পারভেজের সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। বন্ধুস্থানীয় খোকন সম্পর্কে মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘আমরা বন্ধু হিসেবে কাজ করতাম। তিনি চলচ্চিত্রকে এতটাই ভালোবাসতেন যে নিজের জমি বিক্রি করে সিনেমা বানিয়েছেন। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের বিপদে আপদে অনেক সাহায্য করেছেন।’
অভিনেত্রী আনোয়ারা খোকন সম্পর্কে বলেন, ‘দেখলেই হাসি দিয়ে কথা বলতেন। ভীষণ বন্ধুসুলভ আচরণ করতেন। আর প্রচুর পান খেতেন। এসব এখন সবই স্মৃতি।’

এর আগে সকালে শহীদুল ইসলাম খোকনের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে উত্তরায় যান নায়ক রুবেল, ওমর সানি, মৌসুমী, পরিচালক রায়হান মুজিবসহ অনেকে।
এ সময় নায়ক রুবেল বলেন, ‘একজন মানুষ গড়ার কারিগর চলে গেলেন। আমার মতো অনেক শিল্পী তিনি নিজের হাতে তৈরি করেছেন। চলচ্চিত্রের এখন যে অবস্থা, তাতে হলে দর্শক আসে না। কিন্তু শহীদুল ইসলাম খোকনই একটি ব্র্যান্ড। ওনার নাম শুনলেই ছবিটার প্রতি এক ধরনের বিশ্বাস তৈরি হয়। ওনার কাছে আমি অনেক বেশি ঋণী। দোয়া করবেন উনি যেন শান্তিতে থাকেন।’
ওমর সানি শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘একজন গুরু চলে গেলেন, যাঁর কাজের প্রতি আমাদের বা দর্শকদের বাড়তি আগ্রহ থাকত। একের পর এক এমন গুণী মানুষগুলো চলে যাচ্ছেন, যে জায়গাগুলো পূরণ হচ্ছে না। দুঃখ করা আর দোয়া পড়া ছাড়া আমাদের কিছুই করার নেই।’
একই রকমভাবে প্রয়াত পরিচালককে স্মরণ করলেন মৌসুমী। তিনি বলেন, ‘আমরা হারিয়েছি একজন তারকা পরিচালক। ছবির পোস্টারে যেমন তারকাদের ছবি দেখে অথবা মাইকে নায়ক-নায়িকার নাম শুনে দর্শক হলে আসে; শহিদুল ইসলাম খোকন স্যারের নাম শুনেও দর্শক সেই ভালোবাসা থেকে হলে ছুটে যেত। আমাদের পারিবারিক সম্পর্কটা ছিল অনেক ভালো, আমরা আসলে পরিবারের একজন মানুষ হারিয়েছি।’
সহযোগী পরিচালক সমিতির সভাপতি এস আই ফারুক এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘শহীদুল ইসলাম খোকন স্যারসহ আরো কয়েকজন পরিচালক মিলে আমাদের এই সংগঠন তৈরি করেছিলেন। যতদিন বেঁচে ছিলেন আমাদের প্রতিটি কাজে তিনি সঙ্গে ছিলেন। আমরা ওনার কাছে ঋণী হয়ে থাকব।’
দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন শহীদুল ইসলাম খোকন। তাঁকে কৃত্রিম উপায়ে শ্বাস-প্রশ্বাস দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছিল। মুখগহ্বরের মোটর নিউরন ডিজিসে (এএলএস) আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। উন্নত চিকিৎসার জন্য ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয়েছিল খোকনকে। রোগের চিকিৎসা না হওয়ায় পরে দেশে ফিরে ভর্তি হন উত্তরার একটি হাসপাতালে। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মারা যান তিনি।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির দুবার নির্বাচিত এই সভাপতি জন্মেছিলেন ১৯৫৬ সালের ১৫ মে।

মাজহার বাবু