কেন টিকল না আমির খানের আগের দুটি বিয়ে?
বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ মানেই পর্দায় নিখুঁত অভিনয় আর বাস্তব জীবনে ছকভাঙা সব দুর্দান্ত সিদ্ধান্ত। রুপালি পর্দার পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও আগ্রহ বা চর্চার শেষ নেই। এবার সেই চর্চায় যোগ হলো নতুন এক চমক।
আগামী ৫ জুলাই, ২০২৬-এ ফের বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছেন এই সুপারস্টার। পাত্রী তাঁর বর্তমান পার্টনার গৌরী স্প্র্যাট। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালেই গৌরীর সঙ্গে সকলের আনুষ্ঠানিক পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন অভিনেতা। তবে আমিরের এই তৃতীয় বিয়ের সানাই বাজার আবহে স্বাভাবিকভাবেই তাঁর আগের দুটি বিয়ের ভাঙাগড়ার গল্প এবং বিচ্ছেদের কারণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন জাগছে অনুরাগীদের মনে।
মাত্র ২১ বছর বয়সে, ১৯৮৬ সালের ১৮ এপ্রিল রীনা দত্তকে বিয়ে করেছিলেন আমির। তখন রীনার বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর। আমির তখন তারকা হয়ে ওঠেননি, তীব্র স্ট্রাগল করছেন। সেই কঠিন দিনগুলোতে রীনা ছিলেন আমিরের সবচেয়ে বড় সাপোর্ট সিস্টেম। পরবর্তীকালে আমিরের কেরিয়ারের অন্যতম সেরা ছবি ‘লগান’ এর প্রযোজনাতেও যুক্ত ছিলেন তিনি। জুনায়েদ ও ইরা এই দুই সন্তানের জন্মের পর, ২০০২ সালে দীর্ঘ ১৬ বছরের দাম্পত্যে ইতি টানেন তাঁরা।
বহু বছর পর এক সাক্ষাৎকারে আমির নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে, খুব কম বয়সে মাত্র কয়েক মাসের পরিচয়ে বিয়ে করাটা একটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। পাশাপাশি নিজের কাজের প্রতি অতিরিক্ত ডুবে থাকা বা ‘ওয়ার্কাহোলিজম’কেও এই দূরত্ব তৈরির অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করেছিলেন তিনি। তবে বিচ্ছেদ হলেও সন্তানদের যৌথ প্রতিপালন এবং পারস্পরিক সৌজন্যে আজও কোনও খামতি রাখেনি এই প্রাক্তন জুটি।
রীনার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর আমিরের জীবনে আসেন খ্যাতনামা পরিচালক কিরণ রাও। ‘লগান’ ছবির সেটেই তাঁদের প্রথম আলাপ হয়েছিল, যেখানে কিরণ ছিলেন সহকারী পরিচালক। ২০০৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর ধুমধাম করে গাঁটছড়া বাঁধেন তাঁরা। ২০১১ সালে সারোগেসির মাধ্যমে তাঁদের জীবনে আসে পুত্র আজাদ রাও খান। বলিপাড়ার অন্যতম রুচিশীল ও পারফেক্ট দম্পতি হিসেবেই পরিচিত ছিলেন তাঁরা। কিন্তু ২০২১ সালের জুলাই মাসে এক যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা হঠাৎই বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণা করে ভক্তদের চমকে দেন।
কিরণ পরে জানিয়েছিলেন, নিজের একটা আলাদা স্পেস ও স্বাধীনভাবে বাঁচার প্রয়োজন অনুভব করছিলেন তিনি। তবে বিচ্ছেদের পরেও তাঁদের মধ্যে কোনও তিক্ততা তৈরি হয়নি, বরং তাঁরা আজও পরম বন্ধু এবং পেশাদার ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করছেন।
বলিউডে অবশ্য একাধিকবার প্রেমে পড়া এবং নতুন করে জীবন শুরু করার নজির এটাই প্রথম নয়। কিংবদন্তি গায়ক কিশোর কুমার চারবার বিয়ে করেছিলেন। একই পথে হেঁটেছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা কবীর বেদিও। সঞ্জয় দত্ত, করণ সিং গ্রোভার কিংবা নীলিমা আজিমের জীবনেও বিয়ে এসেছে একাধিকবার। আমিরও এখন জীবনের এক নতুন বসন্তের মুখোমুখি। অতীত ভুলে আমিরের এই নতুন সিদ্ধান্তকে হাসিমুখে স্বাগত জানিয়েছে তাঁর পুরো পরিবার। এখন দেখার, জুলাইয়ের এই হাই প্রোফাইল বিয়েতে নতুন করে কী কী চমক অপেক্ষা করে রয়েছে অনুরাগীদের জন্য।

বিনোদন ডেস্ক