ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, ১২ দিনে ৫ প্রাণহানি
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। গত শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেলে ও রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১২ দিনে হাসপাতালটিতে হামে আক্রান্ত হয়ে মোট পাঁচ শিশুর প্রাণহানি ঘটল। আজ সোমবার (৩০ মার্চ) পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হাসপাতালে ৭২ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, চলতি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে হামে আক্রান্ত রোগী ভর্তির সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বাড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গত ২৪ মার্চ থেকে তিনটি পৃথক মেডিকেল টিম গঠনসহ তিনটি আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। ‘হাম/মিসেলস কর্নার’ নামে ১০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত কক্ষে চিকিৎসা দেওয়া হলেও রোগীর চাপে সেখানে স্থানসংকুলান হচ্ছে না। আক্রান্ত শিশুরা হামের পাশাপাশি তীব্র জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসছে।
মমেক হাসপাতালের চিকিৎসক দলের সদস্য সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মাহমুদুল হাসান জানান, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এবং চোখ ও মাথায় প্রদাহের মতো জটিলতা দেখা দিচ্ছে, যা মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। গত তিন বছর হামের টিকাদানে বড় ধরনের ‘গ্যাপ’ বা বিরতি থাকায় শিশুদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে, যার ফলে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে বা অত্যন্ত জটিল আকার ধারণ করেনি।
মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান জানান, হাম একটি ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় আজ বিকেলের মধ্যে তিনটি ওয়ার্ডের রোগীদের সরিয়ে একটি আলাদা ‘ডেডিকেটেড ওয়ার্ডে’ স্থানান্তর করা হবে। তিনি সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও পর্যাপ্ত চিকিৎসক রয়েছে।
এদিকে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক জানান, বর্তমানে শিশুদের জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা পিআইসিইউ সংকটের কারণে কিছু জটিল রোগীকে ঢাকায় রেফার করতে হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। একটি পূর্ণাঙ্গ পিআইসিইউ ইউনিট চালু হলে মমেক হাসপাতালেই সব ধরনের জটিল রোগীর শতভাগ চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

আইয়ুব আলী, ময়মনসিংহ