কেরানীগঞ্জের লেটকা ও রেশমি খিচুড়ি
ঝুনা মাংসের লেটকা খিচুড়ি ও রেশমি খিচুড়ি,আহ্! যেন মুখে লেগে আছে এক ঐতিহ্যবাহী স্বাদ ও সুগন্ধে। ঝুনা মাংসটা এতই সুস্বাদু ছিল যেন বাঙালি মায়ের হাতে যত্ন করে রান্না করা গরুর মাংসের সত্যিকারের স্বাদ ও সুগন্ধ। লেটকা খিচুড়ির সঙ্গে ঝুনা মাংসের কম্বিনেশনটা ছিল অতুলনীয় আর ঝরঝরে রেশমি খিচুড়ির বিভিন্ন মসলা ও ডালের মিশ্রণে স্বাদটা এতই ভালো লাগছিল, মনে হচ্ছিল বারবার খেতে আসি এখানে। সঙ্গে বড় দুই পিস মুরগির মাংস দিয়ে মোরগ পোলাওটাও ছিল অতুলনীয়।
হাজী মোহাম্মদ মনির হোসেন বাবুর্চির হাত ধরেই শুরু হয় ‘পারজোয়ার শাহী পোলাও ঘর’-এর পথচলা। কেরানীগঞ্জের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং বিয়ে বাড়ির সেই হারানো স্বাদকে নতুন করে সবার সামনে তুলে আনাই ছিল তার মূল লক্ষ্য।
দীর্ঘ ২০ বছরের বাবুর্চি জীবনের অভিজ্ঞতা মিশিয়ে, প্রতিটি খাবারকে তিনি তৈরি করেন এক অনন্য শিল্পকর্মে। শুধু খাবারই নয়, ‘পারজোয়ার শাহী পোলাও ঘর’ প্রতিটি ক্রেতাকে উপহার দেয় এক অবিস্মরণীয় ভোজের অভিজ্ঞতা। এখানকার প্রতিটি রান্নায় লেগে থাকে প্রতিষ্ঠাতার নিরলস প্রচেষ্টা এবং ভালোবাসা। পরিবারের সদস্যদের মতো গ্রাহকদের আপ্যায়ন করার এই মানসিকতাই ‘পারজোয়ার’কে করে তোলে অনন্য। তাই, শুধু খাবার নয়, ঐতিহ্যের ছোঁয়া এবং আন্তরিকতা খোঁজার জন্যই বারবার ফিরে আসতে হয় এই ঠিকানায়।
ঢাকার অদূরে বাবুবাজার ব্রিজ পার হয়ে জিনজিরা বাস স্ট্যান্ডে ‘পারজোয়ার শাহী পোলাও ঘর’-এর প্রধান শাখা এবং জনি টাওয়ারে তাদের দ্বিতীয় শাখা অবস্থিত। পরিমাণ হিসেবে লেটকা খিচুড়ির মূল্য ২৫০ টাকা, রেশমি খিচুরি ২৫০ টাকা ও শাহী মোরগ পোলাও ৩৬০ টাকা মাত্র। পরিমাণ ও স্বাদ অনুযায়ী ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যেই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান পারজোয়ার শাহী পোলাও ঘর-এর কর্তৃপক্ষ।

আনোয়ার পারভেজ