ঈদের আগে টুংটাং শব্দে মুখরিত কামারপট্টি
ঈদের আগে টুংটাং শব্দে মুখরিত ফরিদপুরের কামারপট্টিগুলো। পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলার কামারেরা। পশু কোরবানির জন্য প্রয়োজনীয় চাপাতি, ছুরি, বঁটি ও বিভিন্ন ধারালো লৌহজাত সামগ্রী তৈরিতে এখন দিন-রাত কাজ চলছে কামারপট্টিগুলোতে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ফরিদপুরের মধুখালী পৌর এলাকার কর্মকার পাড়ার কামারপট্টিতে প্রায় ১২-১৫ জন কারিগর এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত। এখানে রয়েছে ১১টি কামারশালা।
উপজেলার অন্যতম কারিগর রাজকুমার সরকার জানান, তার দোকানে ছয় জন কর্মচারী নিয়োজিত রয়েছেন। ঈদের কারণে কাজের চাপ কিছুটা বেশি। তবে কাজের চাপ বাড়লেও লোহা ও কয়লার মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিপাকে পড়েছেন তারা।
এ সময় দেখা যায়, কয়লার আগুনে তীব্র বাতাস (হাঁপরের সাহায্যে) দিয়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে লোহা দগদগে লাল করা হয়। এরপর সেই উত্তপ্ত লোহাকে হাতুড়ির আঘাতে আঘাতে তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র ও সরঞ্জাম। অসহনীয় গরম আর আগুনের উত্তাপে ঘামে ভিজে যাচ্ছে তাদের শরীর। হাত-পা ও মুখ কালিতে মাখামাখি হলেও থেমে নেই কাজ।
কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে কামারপল্লীতে বাড়ছে কর্মব্যস্ততা। সারা বছর কাজের চাপ কম থাকলেও ঈদকে কেন্দ্র করে পুরোনো জৌলুস ফিরে পেয়েছে এ পল্লী। কেউ তৈরি করছেন দা, ছুরি, চাপাতি ও বঁটি আবার কেউ ব্যস্ত এগুলো শাণ দিতে। একে অপরকে সহযোগিতা করেও কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন কারিগরেরা।
ফরিদপুর শহরের কারিগর কাঞ্চন কর্মকার জানান, ঈদ সামনে রেখে কাজের চাপ অনেক বেড়েছে। তবে লোহা ও কয়লার সংকটে আমরা বিপাকে আছি। বহু বছর ধরে এ পেশার সঙ্গে জড়িত। অন্য কোনো কাজের অভিজ্ঞতা না থাকায় এখনো কামারের কাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করছি।
তিনি আরও জানান, সময়ের সঙ্গে সবকিছুর দাম বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় আমাদের পণ্যের দাম খুব একটা বাড়েনি।
ভাঙ্গা উপজেলার রতন কর্মকার বলেন, কয়লা ও লোহার দাম অনেক বেড়েছে। বর্তমানে পাইকারিতে প্রতি কেজি হাসুয়া ও অন্যান্য ধারালো যন্ত্রপাতি ৪০০ টাকা এবং খুচরায় ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। পণ্যের আকার ও মান অনুযায়ী, দা ১০০ থেকে ৩৫০ টাকা, বঁটি ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা, বড় ছুরি ও চাপাতি ৩০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়ে থাকে।

সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর