রান্নায় এলাচের সঠিক ব্যবহার: কোন পদে কোন এলাচ দেবেন?
রান্নার স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়াতে এলাচের জুড়ি মেলা ভার। তবে অনেক সময় খাওয়ার মাঝখানে হুট করে এলাচ মুখে পড়লে অনেকেরই মেজাজ বিগড়ে যায়। অথচ এই মশলা ছাড়া বিরিয়ানি, পোলাও কিংবা মাংসের ঝোল সবটাই যেন অসম্পূর্ণ। এলাচের সঠিক কদর ও ব্যবহার না জানলে রান্নায় এর পূর্ণ স্বাদ পাওয়া সম্ভব নয়। আসলে কোন খাবারে কোন ধরনের এলাচ ব্যবহার করবেন এবং ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতিই বা কী, তা নিয়ে অনেকেরই অস্পষ্টতা রয়েছে।
সাধারণত বাজারে দুই ধরনের এলাচ পাওয়া যায়। রান্নার ধরন বুঝে এগুলো নির্বাচন করা উচিত। যেমন মাংসের ঝোল, গ্রেভি জাতীয় খাবার এবং বিরিয়ানির মতো রিচ ফুডে বড় বা কালো এলাচ ব্যবহার করা সব থেকে ভালো। অন্যদিকে চা, পায়েস, বেকিং কিংবা সস তৈরিতে ছোট বা সবুজ এলাচ চমৎকার কাজ করে। এছাড়া পোলাও বা মিষ্টি খাবারেও সবুজ এলাচের কদর বেশি।
এলাচের ফ্লেভার বজায় রাখতে কিছু বিশেষ নিয়ম মেনে চলা জরুরি। কেক, বিস্কুট বা পায়েসের মতো খাবারে এলাচ গুঁড়ো করে মিশিয়ে দিলে সুগন্ধ সারা খাবারে ছড়িয়ে পড়ে। তবে গ্রেভি বা ভাতের পদে আস্ত অথবা হালকা থেঁতো করা এলাচ ব্যবহার করা উত্তম। মনে রাখতে হবে, রান্নার একদম শুরুতেই এলাচ দেওয়া উচিত যাতে গরম তেলের সঙ্গে এর সুগন্ধ ভালোভাবে মিশে যায়। তবে মিষ্টি তৈরির ক্ষেত্রে এলাচ দিতে হবে একদম শেষে।
এলাচের সুগন্ধ খুব কড়া হয় বলে পরিমাণে সচেতন থাকা প্রয়োজন। সাধারণত ২-৩টির বেশি এলাচ ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না। আর যারা খাবার সময় মুখে এলাচ পড়া অপছন্দ করেন, তারা রান্না শেষে পরিবেশনের আগে আস্ত এলাচগুলো বেছে তুলে ফেলে দিতে পারেন। এতে খাবারের রাজকীয় সুগন্ধ বজায় থাকবে, আবার খাবার সময় বিব্রতকর পরিস্থিতিতেও পড়তে হবে না।
মুখে পড়লেই মেজাজ বিগড়ে যায়। অথচ এই মশলা ছাড়া রান্না অসম্পূর্ণ। এলাচের কদরটাই এরকম। আসলে কোন রান্নায় কতটা এলাচ মেশানো উচিত, কী ভাবে ব্যবহার করা উচিত, সেটা অনেকে বুঝতে পারেন। পাশাপাশি সবুজ ও কালো এলাচ পাওয়া যায়। কোন রান্নায় কী দেবেন, সেটাও অনেকের কাছে অস্পষ্ট। রান্নায় এলাচ ফ্লেভার বজায় রাখতে সঠিক উপায়ে এই মশলা ব্যবহার করা দরকার।

ফিচার ডেস্ক