হাসতে আজ নেই মানা
শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে হাসির বিকল্প নেই। আর এই হাসির গুরুত্বকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতেই প্রতি বছর মে মাসের প্রথম রবিবার পালন করা হয় বিশ্ব হাসি দিবস।
ভারতের চিকিৎসক ড. মদন কাটারিয়া এই বিশেষ দিনটির সূচনা করেন। ১৯৯৮ সালে তাঁর হাত ধরেই প্রথম এই দিবসটির পরিকল্পনা করা হয়েছিল, কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন রোগ প্রতিরোধে হাসির এক অনন্য ভূমিকা রয়েছে। বর্তমানে তাঁর প্রবর্তিত ‘লাফটার যোগা’ বিশ্বের ১১৫টিরও বেশি দেশে একটি জনপ্রিয় ব্যায়াম হিসেবে স্বীকৃত।
নিয়ম করে প্রতিদিন হাসলে শরীরের পাশাপাশি মনেরও প্রভূত উপকার হয়। চিকিৎসকদের মতে, হাসির বহুমুখী ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে:
মানসিক প্রশান্তি
মন খারাপ কাটানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হলো হাসি, যা মুহূর্তের মধ্যে মনে প্রফুল্লতা এনে দেয়।
মানসিক চাপ হ্রাস
সারাদিনের কাজের চাপে তৈরি হওয়া মানসিক ক্লান্তি ও স্ট্রেস কমাতে প্রাণখোলা হাসি মহৌষধ হিসেবে কাজ করে।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ
নিয়মিত হাসলে শরীরের রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে এবং উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
ওজন নিয়ন্ত্রণ ও মেটাবলিজম:
দিনে ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাসলে প্রায় ৪০ ক্যালোরি পর্যন্ত ঝরানো সম্ভব, যা শরীরের মেটাবলিজম উন্নত করতেও সহায়ক।
হাসি কেবল একটি আবেগ নয়, বরং এটি একটি প্রাকৃতিক নিরাময় পদ্ধতি। সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনের জন্য প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝেও আমাদের কিছুটা সময় হাসির জন্য বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন। আজকের এই যান্ত্রিক জীবনে নিজেকে সজীব রাখতে হাসির কোনো বিকল্প নেই।

ফিচার ডেস্ক