স্বামী-স্ত্রী হলেও ভুলেও শেয়ার করবেন না এই ৫ জিনিস
একই ছাদের নিচে থাকা, একসঙ্গে সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেওয়া দাম্পত্য বা পারিবারিক জীবনে এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। স্বামী-স্ত্রী বা পরিবারের সদস্যরা একে অপরের বহু জিনিস শেয়ার বা ভাগাভাগি করে ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ভালোবাসা ও স্নেহের প্রকাশ যতই থাকুক না কেন, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার কিছু নির্দিষ্ট সামগ্রী কখনোই ভাগাভাগি করা উচিত নয়। আপাতদৃষ্টিতে এই অভ্যাসটিকে সাধারণ মনে হলেও, এর মাধ্যমে সহজেই একজনের শরীর থেকে অন্যজনের শরীরে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং ছত্রাক (ফাঙ্গাস) ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে ত্বকের অ্যালার্জি, সংক্রমণ থেকে শুরু করে মারাত্মক সব রোগ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনন্দিন জীবনের এমন কিছু সাধারণ জিনিস রয়েছে যা কখনোই অন্যের সঙ্গে শেয়ার করা ঠিক নয়:
চিরুনি
একই বাড়িতে সবার আলাদা আলাদা চিরুনি থাকার প্রবণতা খুবই কম। কিন্তু এই সাধারণ অভ্যাসটিই ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ। চিরুনির দাঁতের ফাঁকে প্রতিনিয়ত আমাদের মাথার মৃত কোষ ও তেল জমে থাকে, যা জীবাণুর বংশবৃদ্ধির জন্য আদর্শ পরিবেশ। একজনের মাথার উকুন, দাদ বা ছত্রাকজনিত সংক্রমণ চিরুনির মাধ্যমে খুব সহজেই অন্যজনের মাথায় স্থানান্তরিত হতে পারে। ফলে চুলের গোড়ায় প্রদাহ এবং চুলকানির মতো সমস্যা দেখা দেয়। তাই সুস্থ থাকতে প্রত্যেকের নিজস্ব চিরুনি ব্যবহার করা জরুরি।
তোয়ালে
তোয়ালে বা গামছা ব্যবহারের পর তা সাধারণত ভেজা বা স্যাঁতসেঁতে থাকে। আর এই ভেজা পরিবেশ ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের দ্রুত বংশবৃদ্ধিতে সাহায্য করে। পরিবারের কারো ত্বকে সমস্যা বা চোখের ইনফেকশন থাকলে, তার ব্যবহৃত তোয়ালে অন্য কেউ ব্যবহার করলে সেই রোগ ছড়াতে সময় নেয় না। বিশেষ করে 'অ্যাথলেটস ফুট' (পায়ের ছত্রাকজনিত রোগ), ত্বকে র্যাশ এবং চোখের মারাত্মক সংক্রমণ হতে পারে এর মাধ্যমে। তাই তোয়ালে শেয়ার না করার পাশাপাশি তা নিয়মিত ধুয়ে কড়া রোদে শুকানো উচিত।
গায়ে মাখার সাবান
অনেকেই মনে করেন সাবান তো পরিষ্কার করার জিনিস, এটি আবার শেয়ার করলে কী হবে! কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শক্ত সাবানের) গায়ে প্রতিনিয়ত আমাদের ত্বকের মৃত কোষ এবং ব্যাকটেরিয়া জমা হয়। বিশেষ করে কারো ত্বকে যদি কোনো কাটা-ছেঁড়া বা ইনফেকশন থাকে, তবে সাবানের মাধ্যমে তা অন্য সদস্যের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এই ঝুঁকি এড়াতে শক্ত সাবানের চেয়ে তরল সাবান বা 'লিক্যুইড বডি ওয়াশ' ব্যবহার করা অনেক বেশি নিরাপদ।
রোল-অন ডিওডোরেন্ট
ঘামের কারণে আমাদের বগলের অংশে ব্যাকটেরিয়া সবচেয়ে বেশি ও দ্রুত ছড়ায়। এই অবস্থায় রোল-অন ডিওডোরেন্ট সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে আসে। ফলে একজনের ব্যবহৃত রোল-অন অন্য কেউ ব্যবহার করলে দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া এবং ত্বকের ইনফেকশন খুব সহজেই অন্যজনের ত্বকে চলে যায়, যা পরে ত্বকে জ্বালাপোড়া বা অ্যালার্জির সৃষ্টি করে।
রেজার
ব্যক্তিগত সামগ্রীর মধ্যে রেজার বা ব্লেড ভাগাভাগি করা সবচেয়ে বিপজ্জনক। শেভ করার সময় ত্বকে অনেক সময় খালি চোখে দেখা যায় না এমন ছোট ছোট ক্ষত তৈরি হয়। এর ফলে রেজারের ব্লেডে অদৃশ্য রক্তকণিকা লেগে থাকার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। এই রেজার অন্য কেউ ব্যবহার করলে রক্তবাহিত মারাত্মক রোগ, যেমন হেপাটাইটিস বি এবং হেপাটাইটিস সি-এর মতো প্রাণঘাতী ভাইরাস ছড়াতে পারে। তাই রেজার সবসময় একান্তই নিজের হওয়া উচিত।
ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বা হাইজিন কোনো ছোটখাটো বিষয় নয়। সামান্য অলসতা বা অসচেতনতা বড় ধরনের স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। তাই পরিবারে ভালোবাসা বজায় রাখুন, কিন্তু ব্যক্তিগত ব্যবহারের জিনিসগুলো রাখুন সম্পূর্ণ আলাদা। সুস্থ থাকতে এই ছোট ছোট সতর্কতাগুলো মেনে চলা আজই শুরু করুন।

ফিচার ডেস্ক