বর্ষায় এসি চালাচ্ছেন? এই ভুলগুলো করছেন না তো?
বর্ষার রিমঝিম বৃষ্টিতে আবহাওয়া কিছুটা ঠান্ডা হলেও, ঘরের ভেতরের গল্পটা কিন্তু আলাদা। এই সময়ে বাতাসে আর্দ্রতা বা জলীয় বাষ্পের পরিমাণ এতটাই বেড়ে যায় যে, ঘরের ভেতর শুরু হয় দমবন্ধ ভ্যাপসা গরম আর চিটচিটে অস্বস্তি।
অনেকেই এই অস্বস্তি থেকে বাঁচতে ঘরের এসি চালু করেন, তাপমাত্রা বারবার কমান-বাড়ান, তাও যেন কাঙ্ক্ষিত আরাম মেলে না। উল্টো সঠিক নিয়মে এসি না চালালে ঘরের বদ্ধ আর্দ্রতায় জীবাণু ও ছত্রাকের বংশবৃদ্ধি সহজ হয়ে যায়।
বর্ষাকালে এসি ব্যবহারের ক্ষেত্রে মূলত আমরা ৩টি বড় ভুল করে থাকি, যার কারণে ঘর আরামদায়ক হওয়ার বদলে জীবাণুর আঁতুড়ঘর হয়ে ওঠে। ভুলগুলো এবং এর সমাধান জেনে নিন–
১. কুলিং মোডের ওপর অতিরিক্ত ভরসা করা
আমাদের সাধারণ ধারণা হলো, গরম লাগলেই এসির তাপমাত্রা কমিয়ে দিতে হবে। কিন্তু বর্ষাকালে শুধু ঘরের তাপমাত্রা কমানোই যথেষ্ট নয়, বাতাসে জমে থাকা অতিরিক্ত আর্দ্রতা কমানো বেশি জরুরি। সাধারণ কুলিং মোড মূলত ঘরের তাপমাত্রা কমায়, কিন্তু আর্দ্রতা পুরোপুরি দূর করতে পারে না। ফলে এসি চলার পরও শরীর ঘামতে থাকে এবং ঘরের স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় জীবাণু ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ে।
২. ‘ড্রাই মোড’ ব্যবহার না করা
বর্ষার ভ্যাপসা গরমের আসল ওষুধ হলো এসির ‘ড্রাই মোড’ (যা রিমোটে পানির ফোঁটা বা জলের বিন্দুর চিহ্ন দিয়ে প্রকাশ করা হয়)। এই মোডের প্রধান কাজই হলো বাতাস থেকে অতিরিক্ত আর্দ্রতা শোষণ করে ঘরের বাইরে বের করে দেওয়া। এর ফলে ঘর অতিরিক্ত ঠান্ডা না হলেও চমৎকার সতেজ ও আরামদায়ক হয়ে ওঠে এবং বাতাসে আর্দ্রতাজনিত জীবাণুর সংক্রমণ কমে যায়। অথচ অনেকেই এই মোডটি ব্যবহার না করে ভুল করেন।
৩. বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সঠিক উপায় না জানা
অনেকেই মনে করেন এসি দীর্ঘক্ষণ কুলিং মোডে চালালে হয়তো ঘর বেশি সুরক্ষিত থাকবে, যা সম্পূর্ণ ভুল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষাকালে যখন তীব্র গরম থাকে না, তখন ‘ড্রাই মোড’ চালালে এসির কম্প্রেসার সাধারণ মোডের তুলনায় অনেক কম সময়ের জন্য চালু থাকে। এর ফলে একদিকে যেমন ঘরের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে থাকে ও ব্যাকটেরিয়া-ছত্রাকের উপদ্রব কমে, অন্যদিকে আপনার পকেটের বিদ্যুতের বিলও আসে এক ধাক্কায় অনেক কম।

ফিচার ডেস্ক